kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দিনের শুরুতে গান শেষে সিনেমা

সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ এবার এসেছেন অভিনয়ে। তাঁর সঙ্গে বিয়ের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন মডেল ও টিভি অভিনেত্রী স্মৃতি ফামি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও শুরু করেছেন প্রীতম। এই দম্পতির সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দিনের শুরুতে গান শেষে সিনেমা

প্রীতম ও স্মৃতির বিয়েটা হয়েছে একেবারেই পারিবারিকভাবে। আলাপের শুরুতে দুজনই জানালেন সেটা। প্রীতম বলেন, ‘এমনকি প্রথম দিন থেকেই আমরা পরিবারকে জানিয়ে একে অন্যের সঙ্গে মিশতে শুরু করেছি। তাই ওভাবে প্রেম করার সুযোগটাও পাইনি। দুজনই সংসার করতে চেয়েছিলাম, তাই শতভাগ সংসারই করছি। কাজের বাইরে সংসার সন্তান ছাড়া আমাদের অন্য কোনো জীবন নেই।’

সঙ্গে স্মৃতি যোগ করলেন, ‘নিজেদের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ভালোবাসি দুজনই। প্রীতম গান ভালোবাসে, আমি অভিনয়। আমরা দুজন মিলে প্রচুর ছবি দেখি।’

বিয়ের পর দুজনেই নিয়মিত হয়েছেন অভিনয়ে। প্রীতমকে সবাই চেনে সংগীতশিল্পী হিসেবে। আগেও টুকটাক মডেলিং-অভিনয় করেছেন। তবে এবার অভিনয়ে নিয়মিত হয়েছেন। কারণ জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘একসময় আমি কিন্তু গ্রুপ থিয়েটারের সদস্য ছিলাম। তবে অভিনয়ের চেয়ে সংগীতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি বলে সেটা আর করা হয়নি। দীর্ঘদিন গান করার পর এখন কিছুটা সময় পাচ্ছি, সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।’ অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকের গল্পও লিখছেন। বললেন নাট্যকার পরিচয় নিয়ে, ‘আগেও নামে-বেনামে আমার গল্পে নাটক হয়েছে। অনেকের সঙ্গেই গল্প শেয়ার করেছি, যেগুলো নিয়ে নাটক হয়েছে। এবার স্বনামে কাজ হচ্ছে, এর বেশি কিছু নয়।’

স্মৃতি ফামি একসময় টেলিভিশনের নিয়মিত মুখ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে আছেন যুক্তরাজ্যে। ফের অভিনয়ে ফেরা নিয়ে স্মৃতি বলেন, ‘মাঝের সময়টাতে পড়াশোনা করেছি। ফিল্ম ও টিভি প্রডাকশন নিয়ে মাস্টার্স করছি এখন। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে পড়াচ্ছিও। ইচ্ছা আছে পিএইচডি করার। অভিনয়ে ফিরেছি কারণ এটা ভীষণ আবেগের একটা জায়গা। এমন আনন্দ আমি আর কিছুতেই পাই না।’ সঙ্গে প্রীতম যোগ করলেন, ‘যতই বিদেশে থাকি না কেন, মাতৃভাষায় কাজ করার শান্তিই অন্য রকম।’

সপ্তাহ দুয়েক আগে ‘অন্তঃঋণ’ নাটকে অভিনয় করার জন্যই দেশে এসেছিলেন স্মৃতি। প্রীতমের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘গানওয়ালা’র ব্যানারে প্রথম নাটক এটি। আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় নাটকটির গল্পও প্রীতমের। ‘নাটকে আমার অভিনীত চরিত্রটা বেশ জটিল। কর্মজীবী এই নারীর সঙ্গে মিল খুঁজে পাবে বাংলাদেশের বহু নারী। নাটকটির শুটিং করেই লন্ডনে ফিরে এসেছি মাস্টার্স শেষ করতে। পরের নাটকে অভিনয়ের জন্য শিগগিরই দেশে ফিরব।’

‘গানওয়ালা’র ব্যানারে আবু হায়াত মাহমুদ নির্মাণ করেছেন ‘হেলমেট’। এটির গল্পও প্রীতমের, নিজেই অভিনয় করেছেন প্রধান চরিত্রে। সঙ্গে আছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। এখন থেকে নিয়মিতই নাটক-টেলিফিল্ম প্রযোজনা করবেন। সামনে চলচ্চিত্রও প্রযোজনা করবেন। ‘দুটি সিনেমার চিত্রনাট্য প্রস্তুত। যেকোনো দিন শুটিং শুরু করে দিতে পারি। তবে নিজের প্রযোজনা বলে ছবিতে আমি বা স্মৃতি অভিনয় করবে, এমনটা হবে না। আমরা গল্প ও পরিচালককে প্রাধান্য দিতে চাই। পরিচালকই নির্ধারণ করবেন কে অভিনয় করবেন। এসব ক্ষেত্রে আমি শৌখিন প্রযোজকদের মতো হতে চাই না’, বললেন প্রীতম।

স্মৃতি বলেন, ‘প্রীতম প্রযোজিত ছবিতে অবশ্যই ভূমিকা রাখতে চাই, তবে প্রয়োজন পড়লে। আমাদের কাছে নির্মাতার চাওয়ার গুরুত্বই সবার আগে। কারণ ছবিতে মূলত পরিচালকের কল্পনাকেই বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করতে হয়।’

অভিনয় করছেন বলে গান ভুলছেন না প্রীতম। ‘বালিকা’ গায়ক বললেন, ‘আমি স্টেজ পারফর্মার। নিজের গান নিজে বানাই। দর্শকের সামনে গাইতে ভালোবাসি। নিজের চিন্তা-চেতনা মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার একটা আলাদা আনন্দ আছে। গানের মধ্য দিয়ে সেটাই উপভোগ করি। তা ছাড়া বাংলাদেশের বাঙালি সমাজ আর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ইত্যাদি দেশের প্রবাসী বাঙালি সমাজ কিন্তু ভিন্ন। গানের মাধ্যমে আমি এই দুই জীবনধারার যোগসূত্র তৈরি করতে চাই। সে কারণেই দেশ-বিদেশ মিলিয়েই অনুষ্ঠান করি।’

এভাবে গান-নাটক-সিনেমা নিয়ে চলছে প্রীতম-স্মৃতির সংসার। প্রীতম তো বলেই দিলেন, ‘আমাদের সংসারে দিন শুরু হয় গান দিয়ে, শেষ হয় সিনেমা দিয়ে।’

স্মৃতি বলেন, ‘আসলে আমরা দুজনই তো টিভি-চলচ্চিত্রে কাজ করা লোক। আমরা চাই, এসব মাধ্যমে দেশের একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে। দেখে যেন দেশের বাইরে বাংলাদেশকে নিয়ে আরো বেশি গর্ববোধ করতে পারে মানুষ। এমন ছবি বানাতে চাই, যেগুলো দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে, এগিয়ে যেতে সাহস জোগাবে।’

প্রীতম যোগ করলেন, ‘আমাদের দুজনেরই বিদেশে ছবি ও গান নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সেগুলো আমরা দেশের সহশিল্পীদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। আমাদের দেশের শিল্পীদের অধ্যবসায় অনেক দেশের শিল্পীদের চেয়ে বেশি। তাদের নিয়ে একটা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করতে চাই। সেই তাড়না থেকেই আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। পরিকল্পনা একটাই—যত দিন বাঁচব, শিল্পের সঙ্গে বাঁচব। শিল্পচর্চা করেই বাঁচব। দর্শকও কিন্তু আমাদের কাছে সেটাই প্রত্যাশা করে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা