kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

অন্য শান্তনুর গল্প

‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘অন্তহীন’-এর সুরকার বা ‘সারেগামাপা’র বিচারক হিসেবেই পরিচিতি শান্তনু মৈত্রর। কিন্তু এর বাইরে তিনি একজন অ্যাডভেঞ্চারার। সুযোগ পেলেই চলে যান হিমালয়ে, যা তাঁর সুরের ক্ষেত্রেও অনেক প্রভাব ফেলেছে। লিখেছেন লতিফুল হক

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্য শান্তনুর গল্প

বছর চারেক আগে পাপনের জন্য ‘ও মেঘ’ তৈরি করেছিলেন শান্তনু মৈত্র। প্রবল ঠাণ্ডায় কাশ্মীরে শুটিং হয়েছিল গানটির ভিডিওর। গানটি তৈরি হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে। বরফঢাকা পাহাড়, কাশ্মীরের অসাধারণ প্রকৃতিতে শান্তনুর অসাধারণ সুরে অন্য এক আবহ তৈরি করেছিল গানটি। সেবার মনের মতো গান করতে পেরে যারপরনাই আনন্দ পেয়েছিলেন শান্তনু। পাহাড়প্রেমী এই সুরকার চান প্রকৃতির সান্নিধ্যে বসে নতুন নতুন সুর খুঁজে নিতে। কিন্তু বাণিজ্যিক ছবির ব্যস্ততায় সেটা সব সময় সম্ভব হয় না। ইউটিউব যুগ চলে আসায় অবশ্য এখন খুব সুবিধা। চাইলেই ইচ্ছামতো গান বানানো যাচ্ছে। তাই সামনে এমন আরো কিছু নিয়মিতই করার ইচ্ছা তাঁর।

গান ছাড়া শান্তনুর সবচেয়ে বড় প্রেম পাহাড়। ভারত তো বটেই, সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে। মনে করেন, প্রকৃতির সান্নিধ্য না পেলে তাঁর পক্ষে নতুন সুর করা সম্ভব নয়। বছর তিনেক আগে তাঁর এই বিশ্বাসের পালে হাওয়া দিয়েছিলেন ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার ধৃতিমান মুখোপাধ্যায়। কাশ্মীর থেকে অরুণাচলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে বেড়ান ১০০ দিন। সব জায়গাই ছিল ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতার। কোথাও তাপমাত্রা ৪০, তো কোথাও মাইনাস ৩০। আশ্চর্য এই যাত্রায় তাঁরা দেখা পেয়েছেন চাংপা মেষপালক, কেদারনাথের দয়ালু কুলিসহ নানা ধরনের রঙিন মানুষের। সঙ্গে প্রকৃতিতে ছড়ানো অসংখ্য সুর তো আছেই। শান্তনুর ভাষায়, ‘নির্জন পাহাড়ে হিমালয়ের সামনে বসেই শুধু সেসব সুর শোনা যায়।’

১০০ দিনের এই যাত্রা নিয়ে শান্তনু কিছুদিন আগে প্রকাশ করেছেন ‘ফেরারি মন’ নামের বই। কয়েক দিনের মধ্যেই পরের যাত্রা শুরু করবেন। এবার গঙ্গার উৎস থেকে সাইকেল নিয়ে ঘুরবেন তিন হাজার ২০০ কিলোমিটার, যা নিয়ে পরে তথ্যচিত্র করার পরিকল্পনাও আছে।

‘সারেগামাপা’ শেষে শান্তনু ব্যস্ত সুজিত সরকারের নতুন ছবি ‘গুলাবো সিতাবো’ আর সুমন ঘোষের ‘আঁধার’ নিয়ে। এখন হিন্দিতে গাননির্ভর ছবি অনেক কমে গেছে। বড় সুরকাররা সেভাবে কাজ পাচ্ছেন না। শান্তনু অবশ্য এ নিয়ে চিন্তিত নন, ‘বলিউডে বরাবরই গানের প্রাধান্য ছিল, এটা থাকবেই। এখন একটু অন্য ঘরানার ছবি হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই চিত্র পাল্টাবে।’ রিয়ালিটি শো নিয়ে নানা কথা প্রচলিত থাকলেও শান্তনু মনে করেন এটা খারাপ কিছু না, ‘রিয়ালিটি শো মানেই সেখান থেকে শ্রেয়া ঘোষাল বা অরিজিত সিং উঠে আসবে না। সবাইকে সিনেমায় গাইতে হবে এমনও নয়। এর বাইরেও গান-বাজনার জগৎ আছে। অনেক ভালো শিল্পী আছেন, ভালো গানও আছে। প্রচারের অভাবে আমরা জানতে পারি না।’

শান্তনু হাতে কাজ কম বলে চিন্তিত নন। চিন্তিত বয়স বাড়া নিয়ে। কারণ বেশি বয়স হয়ে গেলে পাহাড়ে ওঠা মুশকিল হয়ে যাবে যে! ‘এমন অনেক জায়গা আছে শুধু বয়স হয়ে গেছে বলে আর যেতেই পারব না—এটা মানতে পারি না। কিন্তু জগতের এমনই নিয়ম—যখন যাওয়া যায় তখন পয়সা থাকে না, যখন পয়সা থাকে তখন বয়স থাকে না। আমি মনে করি সুরকার হিসেবে যা করেছি সবই প্রকৃতির অবদান। এ জন্যই বারবার পাহাড়ে ফিরে যাই।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা