kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

এক যুগের ধ্রুবতারা

২০০৫ সালে ‘ফেস টু ফেস’ নামে শুরু করা ব্যান্ডটি ২০০৮ সালে হয়ে যায় ধ্রুবতারা। সম্প্রতি ইউটিউব ও স্টেজে নতুন কিছু গান প্রকাশ করেছে তারা। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক যুগের ধ্রুবতারা

‘ধ্রুবতারা’ ব্যান্ডের সদস্যরা [বাঁ থেকে] বাবু, নাদিম, সেলি, এস আই টুটুল, পার্থ মজুমদার, বাপ্পী, রাসেল ও রাজ

২০০৫ সালে পার্থ মজুমদার, মুজু ও সেলিকে নিয়ে ‘ফেস টু ফেস’ গড়ে তোলেন এস আই টুটুল। সে বছরই প্রকাশ পায় ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘ধ্রুবতারা’। অ্যালবামের টাইটেল গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সে ধারাবাহিকতায় দুই বছর বাদে ‘দুঃখ পোকা’ নামে দ্বিতীয় একক প্রকাশ করে তারা। কিন্তু ২০০৮ সালে এসে ব্যান্ডটির নাম বদলে হয়ে যায় ‘ধ্রুবতারা’। কিন্তু কেন? সে গল্প শোনা যাক এস আই টুটুলের কণ্ঠে—“একদিন গান নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিল। এক ফাঁকে তিনি বললেন, ‘তোমরা একটি বাংলাদেশি ব্যান্ড। কিন্তু তোমাদের নাম ইংরেজিতে কেন?’ তখন স্যার পরামর্শ দেন ব্যান্ডের নামটি বাংলায় দেওয়ার জন্য। স্যারের কাছে একটি নামের সাজেশন চাইলে বলেন, ‘তোমাদের একটি গানই তো আছে—ধ্রুবতারা। সে নামেই ব্যান্ডের নাম দিয়ে দাও। তখন থেকেই ‘ফেস টু ফেস’ হয়ে যায় ‘ধ্রুবতারা’।”

নাম বদলালেও এর পর থেকে আর কোনো একক অ্যালবাম প্রকাশ করেনি ব্যান্ডটি। কেন? সে কারণও ব্যাখ্যা করলেন টুটুল, ‘তখন থেকে সংগীতে একটা পরিবর্তন শুরু হলো। ক্যাসেটের পরিবর্তে এলো সিডি। এরপর গান প্রকাশ শুরু হলো অনলাইনে। এক ধরনের অস্থির সময় কাটে। ফলে কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমরা পৃষ্ঠপোষকতা পাইনি। তারপর একটি ব্যক্তিগত কাজে প্রায় দুই বছর আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে ফিরে আবার ব্যান্ড নিয়ে সিরিয়াস হয়েছি। লাইনআপও বড় করেছি। এখন আমরা টিভি লাইভ, স্টেজ—সবখানেই অ্যাকটিভ। নিয়মিত প্র্যাকটিস করছি। আমার একক শোগুলোতেও ব্যান্ড সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে ব্যান্ড ঘিরেই আমার যত ব্যস্ততা।’

টুটুলের কথার সত্যতা পাওয়া গেল কাজেও। গত রোজায় নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে ‘মোনাজাত’ ও ‘সেজদা’ নামে দুটি গান প্রকাশ করে তারা। ‘মোনাজাত’ গানটিতে তুলে ধরা হয় আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে স্টেজেও পাঁচটি নতুন গান প্রকাশ করেছে। গানগুলো হলো—‘ওই সাগরের জল’, ‘জানি চলে যেতে হবে’, ‘আকাশ বহুদূর’, ‘আকাশ উধাও’ এবং ‘আমি পাগল তোমারই জন্য’। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কি-বোর্ডবাদক পার্থ মজুমদার বলেন, ‘শ্রোতাদের গান শোনানোটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সে ভাবনা থেকেই এ গানগুলো সরাসরি স্টেজে প্রকাশ করেছি। রেসপন্সও মিলেছে বেশ। এখন ধীরে ধীরে লিরিকাল ভিডিও, স্টেজ ভার্সন কিংবা অফিশিয়াল ভিডিও করে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে ছাড়ব, যাতে স্টেজের বাইরের শ্রোতারাও গানগুলো শুনতে পারে।’

এদিকে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত ‘ধ্রুবতারা’র নতুন আরো পাঁচটি গান—‘নাচেরই তালে’, ‘তোমার কোনো দুঃখ থাকলে’, ‘তোমার আকাশে’, ‘নীল কষ্ট’ ও ‘আমার আকাশ’। গানগুলো একটি একটি করে প্রকাশ করবেন বলে জানান ব্যান্ডের সদস্যরা। টুটুল বলেন, ‘এখনকার শ্রোতারা কেন জানি মিনমিনা গান বেশি পছন্দ করে। ছেলেদের গান শুনেও ছেলের গান মনে হয় না। পাওয়ারফুল গান কমে গেছে। আশা করি এই সময়টা দ্রুত বদলাবে। আমাদের নতুন গানগুলোর মধ্যে ‘নাচেরই তালে’ খুব পাওয়ারফুল একটি গান। শুনলেই শরীরে একটা জোশ আসবে। এমন গান আরো বেশি বেশি হওয়া দরকার।’ এ পর্যন্ত থাইল্যান্ড ও ভারতে শো করেছে ‘ধ্রুবতারা’। সামনে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় শো করার কথা হচ্ছে।

কথার শেষভাগে টুটুল বলেন, ‘এখন সিঙ্গেল গানের যুগ। সবাই একটি করে গান করে ভিডিও বানিয়ে ছাড়ছে। কিন্তু অ্যালবামের বিষয়টি খুব মিস করি। নিজেদের প্রকাশিত গান সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও সামনে অ্যালবাম প্রকাশের ইচ্ছা আছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা