kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

জনপ্রিয় ধারাবাহিক নেই কেন?

বিটিভি আমলের পর স্যাটেলাইট যুগে এসেও জনপ্রিয় হয়েছিল বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক—‘বন্ধন’, ‘৫১বর্তী’, ‘রঙের মানুষ’, ‘রমিজের আয়না’। অথচ সর্বশেষ পাঁচ বছরে কোনো ধারাবাহিক নাটক জনপ্রিয় হয়নি। কেন? লিখেছেন ‘রমিজের আয়না’খ্যাত পরিচালক শিহাব শাহীন

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনপ্রিয় ধারাবাহিক নেই কেন?

বিটিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’-এর সেটে অভিনয়শিল্পী, লেখক ও কলাকুশলীরা

ধারাবাহিক নাটকের দর্শক আমরা আজকে হারাইনি, অনেক দিন ধরেই হারাচ্ছি। দায়টা বেশি চ্যানেলেরই এবং তাদের অপেশাদার মনোভাব। অতি মুনাফার লোভে দর্শককে বিরক্ত করেছে চ্যানেল। বিরক্ত করে একপর্যায়ে দর্শকদের তাড়িয়েছি আমরাই। একটা সময় ধারাবাহিকের প্রচুর দর্শক ছিল। আমার ‘রমিজের আয়না’তেই দেখেছি একেকটা পর্বে ৪৮টা টিভিসি প্রচারিত হয়েছে। প্রতিটি বিজ্ঞাপন যদি ৩০ সেকেন্ড করেও ধরি, তাহলে কী অবস্থা হয়! নির্মাতা হয়েও নিজের নাটক দেখতে পারতাম না। বিরক্ত হতে হতে দর্শক কিন্তু শেষ দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। চ্যানেলের আরেকটা অপেশাদার কর্মকাণ্ড, হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া। স্যাটেলাইট যুগে যত ধারাবাহিক জনপ্রিয় হয়েছে, বেশির ভাগই ১০৪ কিংবা ১১০-১৫ পর্বের পর বন্ধ করে দিয়েছে চ্যানেল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায়ই কিছু ধারাবাহিক বন্ধ করে দিয়েছে চ্যানেল। কারণ কিছু ঈর্ষাপরায়ণ মানুষ বলেছে, এত লম্বা কেন টানছে! অথচ দর্শক প্রচুর পরিমাণে দেখছে। ‘রঙের মানুষ’ নিয়েও একই ঘটনা। বাইরের দেশগুলোতে জনপ্রিয় কনটেন্টগুলোকে আরো চমক নিয়ে বড় করে। সেখানে নতুন আরেকটি কনটেন্ট আর বিজ্ঞাপনের ঝামেলা পেরিয়ে নতুন কিছুতে দর্শককে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। চ্যানেলগুলোর একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল এটা। ১০০ পর্ব হয়ে গেলে অমনি বন্ধ করে দিতে হবে! অথচ ভারতে দুই হাজার পর্বেও হয় একেকটা ধারাবাহিক।

আমাদের চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানপ্রধানরা জানতেন না, ধারাবাহিক কিভাবে চালাতে হয়, কিভাবে জনপ্রিয় করতে হয়। সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় বিষয়বস্তু নিয়ে সিরিয়াল হয়। কিন্তু উচ্চমার্গীয় গভীর জীবনবোধের গল্প সচরাচর জনপ্রিয় হয় না। আমাদের এখানে অনেকে গভীর জীবনবোধের গল্প জোর করে চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন। যার সঙ্গে সাধারণ মানুষ কানেক্ট হয়নি। ধারাবাহিক নাটক হওয়া উচিত সহজ সরল গল্পের, যেটা সব ধরনের দর্শকের বোধগম্য হবে। দর্শক কোন ধারাবাহিক পছন্দ করছে সেটা জানার একমাত্র উপায় টিআরপি, যেটা এখানে সঠিক পদ্ধতিতে হয় না। আর কথায় কথায় বিটিভির উদাহরণ টানা সবচেয়ে বড় বোকামি। এভাবেই আমরা দর্শক হারিয়েছি। হারাতে হারাতে বাজেট কমেছে নাটকের। এখন আর পরিবারের গল্প বলা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ একটা পরিবারের গল্প বলতে গেলে এক ফ্রেমে ১০ জন মানুষ লাগে। ১০ জন গুণী শিল্পীকে অ্যাফোর্ট করা এখন আর সম্ভব হয় না। তাই এখন পরিচালকরা হালকা কাতুকুতু দিয়ে, গালি দিয়ে, নায়িকাদের একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দর্শক ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাতেও দর্শক ধরে রাখা যাচ্ছে না। তা ছাড়া এখানে প্রচুর একক নাটক হয়, ধারাবাহিকের জন্য যেটা একটা মারাত্মক সমস্যা। বছরে যদি এক হাজার একক নাটক হয়, গড়ে প্রতিদিন যদি তিনটি একক নাটক দেখার অপশন থাকে তখন আর কেউ ধারাবাহিক দেখবে কেন! এক বসায় এক গল্পই দেখতে চাইবে। বিশ্বের আর কোনো দেশে এত একক নাটক কিংবা শর্ট ফিল্ম হয় না। দর্শক ধরে রাখতে ধারাবাহিকের দিকেই নজর দিতে হবে।

এখনো আমি মনে করি ধারাবাহিক জনপ্রিয় করা সম্ভব। তার জন্য বড় প্রজেক্ট করতে হবে। এক ধারাবাহিকেই যদি চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, অপূর্ব, নিশো, তাহসান বা তিশা, মেহজাবীন, মমদের নিতে পারি বা এমন কয়েকজনকে নিয়েও পরিবারের গল্প বলতে পারি তাহলে আমার বিশ্বাস, দর্শক তা দেখবে। কিন্তু সেই হাঁটু, কোমর বা পকেটের জোর কি চ্যানেলের আছে?

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা