kalerkantho

ওরা দুই ভাই

বৃন্দাবন দাশ-শাহনাজ খুশী দম্পতির যমজ সন্তান ওরা। অভিনয়ে নজর কেড়েছে দুজনই। সৌম্য জ্যোতি ও দিব্য জ্যোতি ভ্রাতৃদ্বয়কে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওরা দুই ভাই

সৌম্যর প্রথম অভিনয় বাবার লেখা নাটক ‘পাদুকা বিতান’-এ, চঞ্চল চৌধুরীর ছোটবেলার চরিত্রে। প্রথম নাটক করার পরই অভিনয়ে আগ্রহটা হয়েছে, এমন নয়। ২০১৭ সালে ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ করে পরিচিতি পাওয়ার পরই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাটা বাড়তে থাকে সৌম্যর। ভাইয়ের কথায় যোগ করল দিব্য, ‘অনেকেই ভাবেন হয়তো মা-বাবার কারণে আমরা সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু মা-বাবা কখনোই কাউকে বলে আমাদের কাজে নেওয়ার ব্যবস্থা করেননি। যেমনটা দেখিনি বাবাকে মায়ের জন্য করতে। এটা ঠিক, মা-বাবার কারণেই হয়তো পরিচালকদের চোখে পড়েছি।’ ছোট্ট চরিত্রে সৌম্য সুযোগ পেলেও দিব্য প্রথমেই সুযোগ পেয়েছে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে—বৃন্দাবন দাশের রচনা ও রাসেলের পরিচালনায় ‘সন্তান’-এর নাম ভূমিকায়। নাটকেও তার মা শাহনাজ খুশী, বাবা চঞ্চল চৌধুরী।

যমজ হওয়ায় প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় দুই ভাইকে। অনেক সময় পত্রিকায় এক ভাইয়ের বক্তব্য ছাপে আরেক ভাইয়ের নামে। উদাহরণ দিলেন সৌম্য, ‘রিসেন্টলি গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপন করেছি, অথচ অনেকে ভাবে ওটা দিব্য। অ্যান্টি টেররিজমের ওপর একটি বিজ্ঞাপন করল দিব্য, লোকে এসে আমাকে বাহবা দিচ্ছে। আমরা দুই ভাই মজা করে তাদের ভুলটা ধরিয়ে দিই না। একজন আরেকজনের হয়ে কথা চালিয়ে চাই। আমরা তো আসলে  ভিন্ন কেউ না।’

দুই ভাই একসঙ্গে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছে—‘হ্যাপি ফ্যামিলি’, ‘মেন্টাল ফ্যামিলি’, ‘ভাগের মা’, ‘জয়েন ফ্যামিলি’। একই স্কুল একই ক্লাসে পড়েছে তারা। দুজন একসঙ্গে এ লেভেল শেষ করেছে। তবে এবার আলাদা হতে হচ্ছে তাদের। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ভর্তি হয়েছে সৌম্য আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে দিব্য।

অভিনয়টা উপভোগ করলেও পেশা করতে চায় না সৌম্য। শখেই করতে চায়। তবে দিব্য বেশ সিরিয়াস, ‘আমি অভিনেতাই হতে চাই। তার আগে অবশ্য পড়াশোনাটা প্রপারলি করতে চাই।’

মা-বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসে দুই ভাই। পড়াশোনা, অভিনয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই মা-বাবার সমর্থন পায় তারা। অভিন্ন সুরেই বলল দুজন, ‘মা-বাবা আসলে কখনো বলেননি যে তোমাদের ফার্স্ট সেকেন্ডের মধ্যে থাকতে হবে, এই সাবজেক্টে পড়তে হবে, ওটা করতে হবে। আমরা যা চেয়েছি সেটাতেই সায় দিয়েছেন। অভিনয়ের ক্ষেত্রে পুরোটাই মা-বাবার সাহায্য পাই। শট দেওয়ার আগে মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করে যাই, কিভাবে করলে ভালো হবে। মা-বাবার পাশাপাশি আমাদের সঙ্গে যাঁদের একটু বেশি ঘনিষ্ঠতা, যেমন চঞ্চল চৌধুরী, তাঁদের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করি।’

মা-বাবার সঙ্গে পর্দায় অভিনয় করতে গিয়ে সমস্যায়ও পড়তে হয়। যেমন দিব্য বলল, “মেন্টাল ফ্যামিলি নাটকে মা আমার বোনের জা থাকেন, আমি তাঁকে আপা বলে সম্বোধন করব। কিন্তু মাকে বারবার আপা বলতে পারছিলাম না। মুখ দিয়ে বারবার ‘মা’ বের হয়ে যাচ্ছিল।” 

বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর অনেক বড় ফ্যান সৌম্য। দিব্যর প্রিয় অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, ফজলুর রহমান বাবু ও হুমায়ুন ফরীদি। ফুটবল দুজনেরই ভীষণ প্রিয়। স্কুল-কলেজে নিয়মিত ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ঢাকার বাইরেও গিয়েছে খেলতে। 

 

দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁদের কথা

 

শাহনাজ খুশী

এখন তো শখের বশে অভিনয় করছে ওরা, সবার ভালোবাসা পাচ্ছে। ওরা বলল, কাজের সংখ্যা না বাড়িয়ে কোয়ালিটি কাজ যদি বছরে একটাও হয় করবে, অমিও সেটাই চাই। চাপিয়ে দিয়ে কখনোই কিছু করাইনি ওদের। ছোটবেলায়ও বলে দিয়েছি, এটা ঠিক ওটা ঠিক না। এখনো বলি। ওরা সেটা মানে এবং বোঝে। আমি সর্বক্ষণ ওদের সঙ্গে থাকি। ছোটবেলা থেকেই আয়া বা বুয়াদের দায়িত্বে ওদের বড় করিনি। এখনো পর্যন্ত ওরা আমার তত্ত্বাবধানেই আছে।

 

বৃন্দাবন দাশ

ওদের অভিনয়টাকে আমি এখনো সিরিয়াসভাবে নিইনি। শিশু বয়সের কোনো কিছু নিয়েই আহ্লাদিত হই না, ওদেরও হওয়া উচিত না। জীবনের অনেক পথ বাকি। অনেক জানাশোনা বাকি। সব শিখে যদি ওরা তথাকথিত তারকা নাও হতে পারে, আমার বিন্দুমাত্র আফসোস থাকবে না। অল্প বয়সেই ওরা মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছে, সেটা ধারণ করার শক্তি অর্জন করতে হবে। আমি চাই ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেই বেড়ে উঠুক ওরা। বৃন্দাবন দাশ বা শাহনাজ খুশীর ছেলে বলে ওরা বেশি দূর এগিয়ে যাবে, সেটা ঠিক না। ক্রিয়েটিভ কাজে নিজের যোগ্যতা লাগে।

মন্তব্য