kalerkantho

এপারের জ্যোতি ওপারে রাজলক্ষ্মী

২০ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাবে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’। এই ছবি দিয়ে টালিগঞ্জে অভিষেক হবে বাংলাদেশের অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতির। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কাউছার তানজিল। ছবি তুলেছেন কাকলী প্রধান

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এপারের জ্যোতি ওপারে রাজলক্ষ্মী

ছবির প্রচারণায় কয়েক দফা ঢাকা টু কলকাতা করেছেন। ৮ সেপ্টেম্বর আবার উড়ে গেলেন সেখানে চূড়ান্ত প্রচারণায় অংশ নিতে। আগের দিনই কথা হলো অভিনেত্রীর সঙ্গে। হাতে খুব বেশি সময় নেই, এটা-ওটা কত কিছু ব্যাগে নিতে হবে! তবু আগ্রহ নিয়ে জানালেন উচ্ছ্বাসের কথা। শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘শ্রীকান্ত’র ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’, প্রথমবার দেশের বাইরের ছবিতে অভিনয় করলেন—উচ্ছ্বাসের কারণ এসব।

‘শ্রীকান্ত’ অবলম্বনে হলেও এটি মৌলিক গল্পের ছবি। আগে সুচিত্রা সেন-শাবানার মতো অভিনেত্রীরা রাজলক্ষ্মী হয়েছিলেন, তবে জ্যোতি অভিনীত রাজলক্ষ্মী একেবারেই আলাদা। সেটা কেমন? ‘শরত্চন্দ্র যেভাবে রাজলক্ষ্মীকে লিখে গেছেন, সেই রাজলক্ষ্মীর মনের ভাষা ঠিক রেখে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য নতুন এক রাজলক্ষ্মীকে উপস্থাপন করেছেন এখানে। ছবিটা বাংলাদেশেও মুক্তি পাবে আশা করছি। তাই চরিত্রটা সম্পর্কে কিছু জানাতে চাইছি না। পরিচালকসহ আমাদের টিমের সবার আশা ছবিটা বাংলাদেশে রিলিজ হোক। এখানকার দর্শকও ভীষণ আগ্রহ দেখাচ্ছে’—বললেন জ্যোতি।

‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ করে ভারতের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন প্রদীপ্ত, তাঁর ছবিতে সুযোগ পাওয়াটাকে জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন ভাবছেন জ্যোতি। ঋত্বিক চক্রবর্তীর মতো অভিনেতার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েও ভীষণ তৃপ্ত, ‘প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য কেমন নির্মাতা সেটার প্রমাণ ভারতের জাতীয় পুরস্কার। এ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ঋত্বিক চক্রবর্তীকে নিয়ে মূল্যায়ন করার দুঃসাহস আমার নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি, উনি শুধু একজন অসাধারণ অভিনেতাই নন, অসাধারণ মানুষও। শুধু নিজের কাজটাই ভালো করেন না, বাকিদের কাজটাও ভালো চান।’

টালিগঞ্জে আরো কাজ করার ইচ্ছা জ্যোতির। শুটিং চলাকালে বরাবরই সহকর্মীদের প্রশংসায় ভেসেছেন তিনি। একবার তো নির্মাতা প্রদীপ্ত বলেই বসলেন, ‘তোমার আর বাংলাদেশে যেতে হবে না, কলকাতাতেই তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি।’ তবে জ্যোতি বলেন, ‘কলকাতায় কাজ অবশ্যই করব। তার আগে প্রথমটার ফলাফল দেখি, তারপর সিদ্ধান্ত নেব। অভিনয়ই আমার পেশা, ভালো প্রস্তাব পেলে কেন করব না?’

শুটিং করতে গিয়ে অম্ল কোনো অভিজ্ঞতা না হলেও হয়েছে প্রচুর মজার অভিজ্ঞতা। “যেমন ধরুন, আমরা সুস্বাদু কোনো খাবার খেয়ে বলি, ‘খাবারটা খুব মজা হয়েছে।’ ওরা এটা শুনে খুব হাসে। ‘মজা’ শব্দটা ওরা অনুভূতির ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। ওরা বলে, ‘খাবারটা খুব ভালো হয়েছে।’ চমৎকার কোনো কিছু দেখলে আমরা প্রায়ই ‘জোশ’ বলি, ওরা আবার শব্দটাকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করে। শুটিংয়ে একবার একটা শট খুব ভালো লাগে আমার, সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠি, ‘শটটা জোশ হইছে।’ এর পর থেকে যখনই সেটে যেতাম সবাই বলে উঠত, ‘এই জোশ এসেছেরে, জোশ এসেছে, [হা হা হা]।’ আরেকবার স্পটবয়ের কাছে তিনবার বরই চেয়েও যখন পেলাম না তখন ঋত্বিকদা উঠে এসে বললেন, এই ওকে কুল দাও। এরপরই স্পটবয় আমার হাতে বরই দিয়েছিল”—বললেন জ্যোতি।

বাংলাদেশেও দুটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় জ্যোতির—মাসুদু পথিকের ‘মায়া’ ও নুরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’। সরকারি অনুদানের ছবি ‘মায়া’ আসবে ডিসেম্বরে। ‘মানুষের বাগান’-এর মুক্তির তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।

 

মন্তব্য