kalerkantho

নাজির মাহমুদ হাজির

গত তিন দশকে প্রায় দুই হাজার জিঙ্গেল আর দেড় হাজার গানের সুর করেছেন। ইউটিউব জমানায় এসেও দারুণ সফল। নাজির মাহমুদকে নিয়ে লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন অরণ্য জিয়া

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাজির মাহমুদ হাজির

যাত্রা শুরু জিঙ্গেলে

১৯৯০ সালে বলাকা ব্লেডের একটি জিঙ্গেল দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু নাজির মাহমুদের। রিজিয়া পারভীনকে নিয়ে সেটিকে কণ্ঠ দেন নিজেই। এরপর গত ৩০ বছরে দুই হাজারের বেশি জিঙ্গেল করেছেন নাজির মাহমুদ। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি জিঙ্গেলে কনার সঙ্গে কণ্ঠও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ করেছেন রংধনু গ্রুপের চারটি পণ্যের জিঙ্গেল। নাজির মাহমুদের করা অনেক জিঙ্গেলই পেয়েছে জনপ্রিয়তা। তিনি বলেন, ‘জিঙ্গেলের মজার বিষয় হলো অল্পতেই শুরু, অল্পতেই শেষ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অনেক চমক দিতে হয়। একটি পণ্যের দাম, ধরন এবং ওই শ্রেণির ভোক্তার কথা মাথায় রেখে বানাতে হয়; যা খুবই চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জটা নিতেই আমার ভালো লাগে।’

 

গানে এলেন যেভাবে

শরীয়তপুরের ছেলে নাজির মাহমুদের জন্ম ঢাকার লালবাগে। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন গানের পোকা। লেখাপড়ায় ফাঁকি দিয়ে গান নিয়েই মেতে থাকতেন। সমর্থন পেতেন মা ও মামার কাছ থেকে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতেই জীবনে প্রথম পাড়ার একটি মঞ্চে গান করার সুযোগ পান। কুমার বিশ্বজিতের ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’ গেয়ে সেদিন স্টেজের সব আলো কেড়ে নেন খুদে নাজির। নবম-দশম শ্রেণিতে উঠে বন্ধুদের নিয়ে গড়েন ব্যান্ড ‘গোল্ড সিঙ্গার’। এর ভোকাল হিসেবে গাইতে থাকেন নিয়মিত। সেটা ১৯৮৮-৮৯ সালের কথা। বছরখানেক পর সেই ব্যান্ডে কিবোর্ড বাদক হিসেবে যোগ দেন এখনকার জনপ্রিয় গায়ক হায়দার হোসেন। তাঁর কাছ থেকে সংগীতের অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান নাজির, ‘ব্যান্ডের শোগুলোতে হায়দার ভাই বাজাতেন, আমি গাইতাম। তাঁর গিটার প্লে থেকেই আমি কণ্ঠের ইংলিশ ধাঁচটা রপ্ত করেছি। তার কাছ থেকে আরো অনেক কিছু শিখেছি।’ সুরকার হিসেবে নাজির আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৯২ সালের দিকে সাউন্ডটেক থেকে প্রকাশিত মিক্সড অ্যালবাম ‘বিরহের চোরাবালি’ দিয়ে। অ্যালবামে তাঁর সুর করা চারটি গান স্থান পায়। যে গানগুলোতে কণ্ঠ দেন খালিদ হাসান মিলু, তপন চৌধুরী, রবি চৌধুরী ও আগুন। এর পর থেকে তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

 

১০০ অ্যালবাম ১৫০০ গান

নাজির মাহমুদের সুরে প্রকাশিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামটি ছিল মিক্সড ‘কোনো অভিযোগ ছিল না আমার’। ১৯৯৩ সালে সেটি প্রকাশ করে অ্যাস্টন। এতে কণ্ঠ দেন মনির খান, এস ডি রুবেল, জুয়েল ও রেহমান আরিফ। সে সময় অ্যালবামটি বেশ জনপ্রিয়তা পায় বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘আমার সুর করা পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ১০০ পেরিয়েছে অনেক আগেই। এর মধ্যে মিক্সড অ্যালবামই বেশি। এখন তো সিঙ্গেল গান করে সেটিই ভিডিও করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেড় হাজারের বেশি গান করেছি। আসিফের গানই হবে ৮০টি। আমি নিজে গেয়েছি প্রায় ৫০টি। অনেক গীতিকারের সঙ্গে কাজ করলেও আমার সুরে সবচেয়ে বেশি গান লিখেছেন আহমেদ রিজভী। আমার ক্যারিয়ারে তাঁর ভূমিকা অনেক।’

 

কোটির ঘরে 

ইউটিউব যুগে এসে নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন নাজির মাহমুদ। তাঁর সুর করা বেশ কয়েকটি গানের ভিডিও ইউটিউবে কোটি ভিউয়ার অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে দুই কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে—‘কী করে তোকে বোঝাই’ [আসিফ ও কর্নিয়া], ‘ইচ্ছেগুলো’ [কনা ও আকাশ সেন], ‘মন খারাপের দেশে’ [ইমরান] এবং ‘এমন একটা তুমি চাই’ [ইমরান]। এক কোটির বেশি ভিউয়ার—‘নেই’ [মিনার], ‘তুই আমার জীবন’ [কনা ও আকাশ সেন], ‘আমার কাছে তুমি অন্য রকম’, [ইমরান], ‘পৃথিবী অনেক বড়’ [আসিফ ও সাবা] এবং ‘পরানের পরান’ [এফ এ সুমন ও ন্যানিস]।

 

সামনে আসছে

নাজির মাহমুদ এখন গান বানাচ্ছেন আসিফ, কনা, ইমরান ও মিনারের জন্য। পুরো কাজ শেষ হলে গানগুলো একটি একটি করে ভিডিও আকারে প্রকাশিত হবে। ‘ক্যাসেটের পর সিডি, এখন বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমের জন্য গান বানাচ্ছি। সব সময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। গানের বাইরে আর কিছু শিখিনি। তাই সারা দিন গান নিয়েই পড়ে থাকি’—বলছিলেন নাজির মাহমুদ।

মন্তব্য