kalerkantho

রন্টি দাশের খবর

পূজায় ‘রাতভর বৃষ্টির গান’ নিয়ে আসছেন। প্রকাশের জন্য তৈরি তাঁর আরো পাঁচটি গান। রন্টি দাশকে নিয়ে লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন শেখ সাদী

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রন্টি দাশের খবর

রন্টি দাশের স্বামী সাঈদ রহমানও গানের মানুষ। লিড গিটার বাজানোর পাশাপাশি নিজেও টুকটাক কণ্ঠ দেন। এই প্রথম স্বামীর সঙ্গে একটি গান করলেন রন্টি। ‘উড়ালিয়া’ শিরোনামের গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন কিশোর দাশ। লিখেছেন তারিক তুহিন। এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত গায়িকা, ‘জীবনে অনেক গানই করেছি। তবে এই গানটি আমার কাছে একেবারেই বিশেষ। আমি আর সাঈদ সারাক্ষণই গান শুনতে থাকি, গান নিয়ে আলাপ-আলোচনা করি। এই প্রথম একসঙ্গে গেয়েছি। এটা দুজনের জন্যই খুব ভালো লাগার একটা অনুভূতি।’ এরই মধ্যে গানটির ভিডিওর কাজ অর্ধেক হয়ে গেছে। নির্মাতা চন্দন রায় চৌধুরী। বিশেষ গানটি প্রকাশের জন্য বিশেষ দিন—আসছে থার্টি ফাস্ট নাইটকে বেছে নিয়েছেন রন্টি। এরপর ভালোবাসা দিবসে আসবে তাঁদের আরেকটি গান ‘দুরন্তপনা’। এ গানের সুর ভাগাভাগি করে দিয়েছেন দুজন। লিখেছেন সাঈদ। সংগীতায়োজনে সাব্বির জামান। সাঈদকে নিয়ে তিন গানের একটি ইপি অ্যালবামেরও পরিকল্পনা করেছেন রন্টি। সময় সুযোগ বুঝেই শুরু করবেন কাজ।

তার আগেই প্রকাশিত হবে রন্টির আরো চারটি গান। আগামী সপ্তাহে রঙ্গন মিউজিক থেকে ভিডিও আকারে আসবে ‘রাতভর বৃষ্টির গান’। জামাল হোসেনের কথায় ক্লাসিকাল ধাঁচের এ গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন মুহিন খান। ভিডিও নির্মাতা ক্লাসিক সরকার। একটি সেট সাজিয়ে ভিডিওটি বানানো হয়েছে, যাতে দেখা যাবে মিউজিয়িশানদের নিয়ে গাইছেন রন্টি। বলেন, ‘সময়ের চাহিদার কারণে ভিডিও করলেও আমার কাছে অডিওটাই আগে। অডিও ভালো না হলে যত দামি ভিডিওই হোক মানুষ সেটা মনে রাখবে না। আমি মনে করি, ভিডিওতে মডেল রেখে শিল্পীর কোনো লাভ নেই। তাই আমার ভিডিওগুলোতে নিজেই থাকি। এই গানের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’ প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা রন্টির অন্য গানগুলো হলো—অধরা জাহানের কথায়, শানের সুর-সংগীতায়োজনে ‘শ্রাবণধারা’, মেহেদী পরিচালিত ‘আগুন পোড়া কান্না’ চলচ্চিত্রে কবির বকুলের কথা-সুরে ‘মন উড়ু উড়ু’ এবং সাব্বিরের সঙ্গে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ‘তোঁয়ার এইল্লা কা নজর’। শেষের গানটি আসবে আসছে পহেলা বৈশাখে। চলতি বছর রন্টির দুটি গান লিরিকাল ভিডিওতে প্রকাশিত হয়েছে। এইচ এম ভয়েস থেকে ‘আত্মীয়স্বজন’ এবং রঙ্গন মিউজিক থেকে ‘ভর দুপুরে’।

স্টেজেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ২০০৬ সালের ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ খ্যাত এই শিল্পী। জুলাই-আগস্টে ১৫ দিনের ট্যুর করেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। গেয়েছেন চারটি শোতে। আসছে ডিসেম্বরে যাওয়ার কথা লন্ডনে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, জার্মানি’সহ বিশ্বের আরো প্রায় ২০টি দেশে গান করেছেন চট্টগ্রামের এই কন্যা। ‘দেশ থেকে দূরে থাকে বলে প্রবাসী শ্রোতারা অনেক আবেগী হয়। শিল্পীদের অত্যধিক সম্মান করে। এবার অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে প্রতিটি শোতেই স্টেজ থেকে নামার পর শ্রোতারা এসে ঘিরে ধরেছে। আমাকে নিয়ে, আমার গান নিয়ে অনেক অনুভূতি প্রকাশ করেছে। বিষয়গুলো খুব উপভোগ করেছি।’

৪ অক্টোবর চট্টগ্রামে একটি শোতে গাইবেন রন্টি। তারিখ মুখস্থ বলতে না পারলেও আরো কয়েকটি শো হাতে আছে বলে জানিয়েছেন।

১৩ বছরের ক্যারিয়ারে বেশ কিছু মিক্সড অ্যালবামের পাশাপাশি দুটি একক অ্যালবাম করেছেন রন্টি—‘আনমনা’ [২০০৯] ও ‘দর্পণ’ [২০১৪]। তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে—‘হৃদয় যেখানে চাইছে হারাতে’, ‘দেখো আমারই খুশিতে’, ‘হ্যালো বৃষ্টি’, ‘আমার ভাঙ্গা গড়া এ সংসারে’, ‘তোঁয়ার বাপর বাড়ি’ [চট্টগ্রামের মৌলিক আঞ্চলিক] প্রভৃতি।

কথার শেষ ভাগে একটি আক্ষেপের কথা শোনালেন রন্টি, ‘আমরা যারা এখন কাজ করছি তাদের মধ্যে সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে বিভিন্ন রিয়ালিটি শো থেকে আসা শিল্পীরা। সবাই হিট হতে চাচ্ছে অন্যদের জনপ্রিয় গান কাভার করে। অথচ নিজেদের মৌলিক গানের প্রতি মনোযোগ নেই। বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দেয়। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তার নিজের গান। অন্যের গান গেয়ে সাময়িক অর্থ আর পরিচিতি পেলেও দিন শেষে নিজেকে দাঁড় করাতে হলে মৌলিক গান জরুরি। না হলে একসময় হারিয়ে যেতে হবে। আমি হারিয়ে যেতে চাই না!’

মন্তব্য