kalerkantho

জীবনসঙ্গী সঙ্গী গানেও

পিন্টু ঘোষ-সুকন্যা মজুমদার ঘোষ—স্বামী-স্ত্রী দুজনেই গানের মানুষ। ব্যান্ডসংগীত ও চলচ্চিত্রের গান—দুই ভুবনেই তাঁদের পদচারণ। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন নাবীল অনুসূর্য

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জীবনসঙ্গী সঙ্গী গানেও

ছয় মাস বয়সী পুত্র অবিনাশকে কোলে নিয়ে পিন্টু ঘোষ ও সুকন্যা মজুমদার ঘোষ

পিন্টুর সঙ্গে সুকন্যার পরিচয় গানের রিয়ালিটি শো ‘পাওয়ারভয়েস’-এ। সেখানে সুকন্যা ছিলেন প্রতিযোগী। পিন্টু তখন ‘চিরকুট’ ব্যান্ডের সদস্য। সে সময়ের কথা মনে করে সুকন্যা বলেন, ‘পাওয়ারভয়েসের ব্যান্ড রাউন্ডে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল চিরকুটের সঙ্গে গাওয়ার। সেখানেই পিন্টুর সঙ্গে পরিচয়। অবশ্য তখন আমাদের প্রেম-ভালোবাসা কিছু হয়নি।’ স্ত্রীর কথায় সায় জানালেন পিন্টুও, ‘তখন আমাদের স্রেফ গ্রুমার-স্টুডেন্ট সম্পর্ক। তবে ধর্মীয় মিলের কারণে সবাই মজা করত। একসময় আমিও বিষয়টা নিয়ে ভাবলাম, পরিবারকে জানালাম।’ সে সময় দুজনের জন্যই পাত্র-পাত্রী দেখা হচ্ছিল বলে জানালেন সুকন্যা, ‘তখন দুই পরিবার কথা বলে আমাদের বিয়ে ঠিক করে। এর মধ্যে আমরা দুজনও দুজনকে চিনেছি, জেনেছি, পছন্দ করেছি। বলা যায়, আমাদের বিয়েটা পারিবারিক, আবার একই সঙ্গে প্রেমেরও। ২০১৪ সালের ৭ মার্চ আমাদের বিয়ে হয়।’

পরের বছরই ছবির গানে অভিষেক হয় দুজনের। এস আই খানের ছবি ‘অচেনা হৃদয়’-এ সংগীত পরিচালক পিন্টুর আত্মপ্রকাশ। প্রথম সে ছবিতেই কণ্ঠ দেন সুকন্যা। মনে হতে পারে একজনের হাত ধরে আরেকজন এসেছেন এ জগতে। কিন্তু দুজনেই বললেন অন্য কথা।

সুকন্যা বলেন, “ছবিতে আমার গান করার ব্যাপারটা ওর হাত ধরে, এমনটা একদমই নয়। কিন্তু কিভাবে কিভাবে যেন ও যত ছবির সংগীত পরিচালনা করেছে, প্রায় সব কটিতেই আমি গেয়েছি। প্রথম গাই ‘অচেনা হৃদয়’ ছবিতে। সেটার সংগীত পরিচালক পিন্টু। একই বছর গেয়েছি ‘সর্বনাশা ইয়াবা’য়, সেটাতে কিন্তু পিন্টু নেই।”

আর পিন্টু বলেন, ‘সুকন্যা আমার বউ বলে ওকে দিয়ে সব গান গাওয়াব, তেমনটা কখনোই ভাবি না। যে গান ওর গায়কির সঙ্গে যায়, শুধু সেগুলোই ওকে দিয়ে গাওয়াই।’

২০১৬ সালে চিরকুটকে বিদায় জানান পিন্টু। বলেন, “চিরকুটে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আমাকে কাজটা ঠিকমতো করতে দেওয়া হচ্ছিল না। শেষ দিকে আমাকে না জানিয়ে অতিথি শিল্পী নিয়েও শো করা হয়েছে। তখন বাধ্য হয়েই ব্যান্ড ছাড়ি। তাতে অবশ্য খুব বেশি কষ্ট হয়নি। বরং ব্যান্ডের দায়িত্ব না থাকায় নিজের মতো করে কাজ করতে পেরেছি। আগে ব্যান্ডের প্রতি দায়বদ্ধতার একটা জায়গা ছিল। যেমন ‘পদ্ম পাতার জল’ ছবিতে আমার একক গান করার কথা ছিল। পরিচালক তন্ময় ভাই [তন্ময় তানসেন] আমাকে একটা ধ্রুপদি গান করতে বলেছিলেন। শুনে সুমি আপা [শারমিন সুলতানা সুমি] বললেন একা না করে ব্যান্ডকে নিয়ে করতে। আমরা ঠুমরি ঘরানায় ‘তীর মেরো না’ করলাম।”

চিরকুট ছাড়লেও নিয়মিত ছবিতে সংগীত পরিচালনা করেছেন পিন্টু ঘোষ। এর অনেকটাতেই গেয়েছেন সুকন্যা। গায়িকা বলেন, “পিন্টুর সংগীতে ‘অজ্ঞাতনামা’র ইংরেজি টাইটেল গান গেয়েছি। সেটা ছবির আন্তর্জাতিক ভার্সনে ব্যবহার করা হয়েছে। তারপর ওর সংগীত পরিচালনায় ‘হালদা’য়ও তিনটি গান গেয়েছি। সেগুলো কিন্তু পিন্টু ঠিক করে দেয়নি। তৌকীর ভাই [তৌকীর আহমেদ] চেয়েছেন বলেই তিনটি গাওয়া হয়েছে। একটি গান তো পিন্টু আমার আগে আরো পাঁচ-ছয়জনকে দিয়ে গাইয়েছে। তারপর তৌকীর ভাইয়ের কথায় আমাকে গাইতে দিয়েছে।” সায় জানিয়ে পিন্টু বলেন, “যেমন ‘নোনা জল’ গানটা ওর চেয়ে নন্দিনীর গলায় ভালো মানায় বলে নন্দিনীকে দিয়েই গাইয়েছি।”

‘হালদা’র আরেকটি গুরুত্বের কথা বললেন সুকন্যা, “এতেই আমরা প্রথমবার দ্বৈত গেয়েছি—‘প্রেমের আগুন’। পরে ‘ফাগুন হাওয়া’য় ছবিতে ‘তোমাকে চাই’ গানটিও আমরা দুজন গেয়েছি।” পিন্টু যোগ করেন, “অবশ্য আমরা প্রথম দ্বৈত গাই সেলিম ভাইয়ের [শহীদুজ্জামান সেলিম] টেলিফিল্ম ‘কেউ কেউ মৃত জোনাকি’তে। এ ছাড়া ‘মুখোশ মানুষ’-এও আমার সংগীতে গেয়েছে সুকন্যা।”

এখন পিন্টুর হাতে আছে ফাখরুল আরেফিনের ‘গণ্ডি’র একটি গান। বলেন, “আরেফিন ভাইয়ের ছবির গল্প শুনে আমি রীতিমতো মুগ্ধ। সংগীত পরিচালনা করছেন কলকাতার দেবজ্যোতি দা [দেবজ্যোতি মিশ্র]। সেটির টাইটেল গানে আমি কণ্ঠ দেব। আমার গাওয়া চিরকুটের ‘একটা ছেঁড়া দিন’ শুনে আরেফিন ভাইয়ের নাকি মনে হয়েছে, গানটার জন্য আমার মতো একজন ভোকাল দরকার। যখন গাইতে বললেন, একটু দ্বিধায়ই পড়ে গিয়েছিলাম। কারণ কলকাতার কথা-সুরে গান কি আমার গায়কির সঙ্গে যাবে? কিন্তু গানটা আমাকে পাঠানোর পর দ্বিধা কেটে গেছে। এ ধরনের গান আগে কখনো গাইনি। গানটা আমার এত পছন্দ হয়েছে, বাজেট নিয়ে আলাপ না করেই রাজি হয়ে যাই। গানটা বেশ সময় নিয়েই করছি, যাতে ভালো কিছু হয়।”

পাশাপাশি রোদ্দুরকে ঘিরেও ব্যস্ততা বেড়েছে পিন্টু-সুকন্যার। সে তাদের ছয় মাসের ছেলে। পুরো নাম রুদ্রাক্ষ অবিনাশ ঘোষ। রোদ্দুরকে গর্ভে নিয়েও নিয়মিত গেয়েছেন সুকন্যা। গান শোনা তো তাঁদের নিত্যদিনের ব্যাপার। তার ফলও নাকি পাচ্ছেন, “এই বয়সেই রোদ্দুর ভীষণ গানপাগল। আমরা ওকে বলি ‘মিউজিক চাইল্ড’। যেখানেই গান বাজুক, ও মনোযোগ দিয়ে শোনে। এমনকি ঘুমের মধ্যে কোথাও গান শুনলেই জেগে যায়! আশা করি বড় হয়ে ও এমনই গান পছন্দ করবে।”

মন্তব্য