kalerkantho

নয়া জুটি

নুসরাত ইমরোজ তিশা-ইয়াশ রোহান—একজন অভিনয় করছেন দেড় যুগ ধরে, আরেকজনের ক্যারিয়ারের বয়স মাত্র দেড় বছর। এই জুটির প্রথম ছবি ‘মায়াবতী’ মুক্তি পাবে কাল। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন রাফিয়া আহমেদ

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নয়া জুটি

তিশার সঙ্গে ইয়াশের জুটি হওয়ার খবরে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। তাঁদের জুটি বাঁধার গল্প বললেন তিশাই, ‘পুরোটা পরিচালকের ক্রেডিট। অরুণদা যখন গল্প বললেন তখনই জানিয়েছেন, নতুন কাউকে নেবেন। সেন্সিবল, চরিত্রটা পুল করতে পারবে এবং ফ্রেশ—এমন কাউকে খুঁজছিলেন তিনি। এই সব গুণই পাওয়া গেল ইয়াশের মধ্যে, তাই তাকেই নেওয়া হলো।’

তবে তিশার সঙ্গে ছবিটি করার আগে একটু টেনশনে ছিলেন ইয়াশ, ‘তাঁর সামনে অভিনয় করতে গিয়ে আবার না কোনো ভুল করে বসি, টেনশন ছিল এটাই। উনি অনেক অভিজ্ঞ শিল্পী। কিন্তু কিভাবে যেন খুব সহজেই সবাইকে হালকা করে ফেলেন। সহশিল্পী যেন প্রপার সংলাপটা দিতে পারেন, কোনো জড়তা না থাকে সে ব্যাপারটিও তাঁর খেয়ালে থাকে। এই ছবির শুটিংয়ের কিছুদিন আগেই আমরা একটা নাটক করেছিলাম। তখনই আমাদের বন্ডিংটা হয়ে গিয়েছিল। তাই সিনেমায় তেমন নার্ভাসনেস ছিল না। তবে তিশার সঙ্গে আমার পরিচয় ছোটবেলা থেকেই।’

তিশা বলেন, “বহু আগে থেকেই ওকে চিনি। নরেশদা-অপুদির [নরেশ ভুঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপু] ছেলে। একসময় আমার শুটিংয়েও এসেছিল অপুদির সঙ্গে। শুটিংয়ে আমরা অনেক হৈ-হুল্লোড় করি। ওর সঙ্গে প্রথম নাটক করার সময় সেটে গিয়েই ওকে খুঁজেছিলাম, ইয়াশ কই? একজন বলে, ওই পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে ডাকলাম। দেখি, খুবই নার্ভাস হয়ে আছে ছেলেটা। ভালোই হয়েছে, সিনেমার আগে নাটকটা করেছিলাম আমরা। আর অভিনয়ের সময় ওর কাছ থেকে নতুন আইডিয়া পেতাম, ও একদমই ফ্রেশ তো। আড্ডা দিতে দিতে আর বাদাম খেতে খেতেই ‘মায়াবতী’র শুটিং শেষ করে ফেললাম আমরা।”

ছবির শুটিং হয়েছে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে হয়েছে। আগেও দুইবার দৌলতদিয়ায় শুটিং করেছেন তিশা। ইয়াশের জন্য দৌলতদিয়া একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা ছিল তার কাছে রোমাঞ্চকর, ‘শুটিংয়ের খাতিরে এমন একটি জায়গা দেখা আমার জন্য নতুন একটা অভিজ্ঞতা। আমি দেখতে চাইতাম, জায়গাগুলো কেমন হয়। যদি ট্যুরিস্ট হিসেবে যেতাম বা একা যেতাম, তাহলে হয়তো এভাবে ওখানকার বাসিন্দাদের দেখতে পারতাম না। কারণ জায়গাটা সাধারণের জন্য নিরাপদ নয়।’

‘মায়াবতী’ দর্শক কেন দেখবে? কী আছে এখানে? তিশা বলেন, “একটা বার্তা আছে এখানে, ‘না’ মানে ‘না’। একটা মানুষ যখন ‘না’ বলে তখন সে পতিতা হোক আর যেই হোক তার ‘না’টাকে সম্মান করা উচিত। এর ওপর ভিত্তি করেই সিনেমার গল্প। সুন্দর গল্প। গান আছে, নাচ আছে, কিছু সুন্দর মুহূর্ত আছে। আছে কষ্ট ও রোমান্স। দর্শক হতাশ হবে না।’

পরিচালক অরুণ চৌধুরীর দ্বিতীয় ছবি ‘মায়াবতী’। পরিচালকের বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন তিশা। সিনেমায় প্রথমবার তাঁকে পরিচালক হিসেবে পেলেন। সিনেমার অরুণ চৌধুরীকে কেমন দেখলেন? ‘নাটকে যে সিরিয়াসনেসটা তাঁর মধ্যে দেখেছি, সিনেমায়ও সেটাই দেখেছি। তাঁর যে গুণটা সবচেয়ে  মুগ্ধ করে, শুটিংয়ে অনেক সময় গল্প বা চিত্রনাট্যের অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হয়। সবার সঙ্গে আলাপ করে তিনি পরিবর্তন করতেন।’

ইয়াশের বাবার দীর্ঘদিনের বন্ধু অরুণ চৌধুরী। তাঁদের সম্পর্কটা চাচা-ভাতিজার। ইয়াশ বলেন, ‘বাবার বন্ধু তো ঠিকই আছে; কিন্তু তাঁর সামনে অভিনয় করাটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। একটা চ্যালেঞ্জও। তিনি আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটা আমি কতটা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি। এত বছর ধরে আংকেলরা কাজ করছেন। তাঁরা আমাদের শিক্ষক। যখন তাঁদের সঙ্গে যখন কাজের সুযোগ পাই, সেটা তখন শুধুই শুটিং থাকে না, সেটা আমার বিদ্যালয় হয়ে যায়।’

মন্তব্য