kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

শুধুই নারীদের চ্যানেল

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুধুই নারীদের চ্যানেল

২২ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘হারনেট টিভি’। দেশের প্রথম নারীবিষয়ক অনলাইন চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মডেল-অভিনেত্রী আলিশা প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন নাবীল অনুসূর্য

 

নারীদের নিয়ে কিছু একটা করার ইচ্ছা তাঁর অনেক দিনের। যখন শোবিজে নিয়মিত মডেলিং-অভিনয় করতেন, তখন থেকেই। শোবিজে তাঁর শুরুটা ২০০৮ সালে। ইউরো কোলার বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়ে দ্রুতই পরিচিতি লাভ করেন। নিয়মিত অভিনয় করেছেন নাটক ও চলচ্চিত্রে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। ‘২০১৬ সালের শুরুতে তথ্য-প্রযুক্তির ওপর ডিপ্লোমা করতে নিউ ইয়র্ক গিয়েছিলাম, ছিলাম ২০১৮ পর্যন্ত। এই পুরো সময়টাতেই আমি নারীদের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা করেছি। চাইছিলাম অনলাইনে একটা কিছু করতে। এমন কিছু যাতে মেয়েদের জীবনকে আরো সহজ করে তোলা যায়’—বললেন আলিশা প্রধান।

কাজ করতে গিয়ে দেখলেন, মেয়েদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য অনেকেই কাজ করছেন; কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে। বললেন, ‘জাতিসংঘ থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের বড় বড় সংস্থা নারীদের নিয়ে কাজ করছে, অনেক ফাউন্ডেশনও আছে। তাই আমি আর নতুন করে এসব করতে চাচ্ছিলাম না। বরং আমি দেখলাম, এত যে কাজ হচ্ছে, সেগুলো সবই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হচ্ছে। আমি চাচ্ছিলাম সবাইকে একত্র করতে। সবাইকে একটা জায়গায় এনে নারীদের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানগুলো তুলে ধরার একটা জায়গা তৈরি করতে। আমি সব সময় সমস্যার চেয়ে সমাধানের ওপর বেশি জোর দিই।’

সেই চিন্তা থেকেই হারনেট টেলিভিশনের ভাবনা আসে আলিশার মাথায়। শুরুতেই অবশ্য চ্যানেলের কথা ভাবেননি, ‘প্রথমে পরিকল্পনা ছিল একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির। পরে ভেবে দেখলাম, অ্যাপ বানালে আমাদের কার্যক্রম অনেক সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। তার চেয়ে অনলাইন টেলিভিশনে আরো বেশি নারীর কাছে পৌঁছাতে পারব। যোগাযোগটাও সহজ হবে। নানা ধরনের প্রগ্রাম করতে পারব। সেগুলোতে নারীরা তাদের সমস্যার কথা বলতে পারবে, বলতে পারবে তাদের স্বপ্নের কথা। আর নারীর সঙ্গে শিশুদের বিষয়ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নারী ও শিশু আমাদের সমাজে সবচেয়ে অবহেলিত। সেই জায়গা থেকেই আমার ভেতরে তাগিদটা বেশি অনুভূত হয়েছে।’

একই সঙ্গে বললেন প্রথাগত চ্যানেলগুলোর বাস্তবতার কথাও, ‘বাংলাদেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল আছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তারা যথাযথভাবে নারীদের জীবনধারাকে তুলে ধরতে পারে না। শুধু নারীবিষয়ক টেলিভিশন চ্যানেল করার সেটাও একটা কারণ।’

গত বছর দেশে ফিরেই অনলাইন টেলিভিশনের কাজ শুরু করেন আলিশা। একটা টেলিভিশন সম্প্রচারে যেতে ৮-৯ মাস লেগে যায়। এই সময়টায় অনুষ্ঠান পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সেগুলোর দৃশ্যধারণসহ সব কিছুই করতে হয়। অবশেষে ২২ জুলাই চ্যানেলটির আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়েছে। সেদিন গুলশান ক্লাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, র‌্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারসহ আরো অনেকে।

চ্যানেলটির অনুষ্ঠান নিয়েও বললেন, “আমাদের প্রতিটি অনুষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট কিছু বার্তা থাকে। সেগুলো দেখে নারীরা হয় কিছু শিখতে পারবে, নয়তো কোনো সমস্যার সমাধান পাবে। যেমন গর্ভবতী নারীদের নিয়ে একটা অনুষ্ঠান ‘প্রেগা কুইন’, কর্মজীবী নারীদের নিয়ে ‘ভেনাস অ্যাট ওয়ার্ক’। করছি নারীর ওপর সহিংসতা বন্ধে একটা আলোচনা অনুষ্ঠানও। আবার পথশিশুদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান আছে ‘মুক্তা মণি’। এমনকি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়েও আমরা একটি অনুষ্ঠান করছি ‘ইন বিটুউইন’।”

হারনেট টিভির পথচলা শুরুর মাধ্যমে আলিশার একটি স্বপ্ন পূরণ হলো। নারীদের উন্নয়নে তাঁর এই চ্যানেল অবদান রাখতে পারবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর। বাংলাদেশের জন্য এখন সেটা খুব প্রয়োজন, বললেন আলিশা, ‘যদি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হয়, দেশের প্রত্যেক নারীকে এগিয়ে যেতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। আশা করি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা