kalerkantho

ডেঞ্জার জোন থেকে...

শুটিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করতে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন বাপ্পী চৌধুরী। সেদিন কী ঘটেছিল, এখন কেমন আছেন? জানালেন নায়ক নিজেই

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ডেঞ্জার জোন থেকে...

ঘটনা ২৪ জুলাইয়ের। গাজীপুরে জাতীয় উদ্যানে বেলাল সানির ‘ডেঞ্জার জোন’ ছবির অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং করছিলাম আমি আর জলি। দৃশ্যটি ছিল—জলি আমাকে মারতে থাকবে এবং একপর্যায়ে আমাকে শূন্যে ছুড়ে মারবে, এক গাছ থেকে আরেকটা গাছে ধাক্কা খাব। শূন্যে ছুড়ে মারা বা গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগার দৃশ্য করার জন্য ক্রেন ছিল। সব ঠিকঠাকই চলছিল, পরিচালক অ্যাকশন বলতেই দুর্ঘটনায় পড়ে গেলাম। আমার কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল, দড়ির আরেকটা পাশ বাঁধা ছিল ক্রেনের সঙ্গে। ক্রেন এত দ্রুত টান দিল, আমিও ব্যালেন্স হারিয়ে ফেললাম, রীতিমতো উড়ে গেলাম। ঘাড় বাঁকা হয়ে নিচের দিকে চলে যায়, এই অবস্থায়ই মাটিতে পড়লাম। কোমর ও ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেলাম। দম নিতে পারছিলাম না। ইউনিটের সবাই দৌড়ে এসে আমাকে উদ্ধার করলেন। সরাসরি নেওয়া হলো হাসপাতালে। প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে চিকিত্সক জানিয়ে দিলেন, অন্তত সপ্তাহখানেক বিশ্রামে থাকতে হবে। এ সময় ভারী কিছু তোলা যাবে না, জিমে যাওয়াও বারণ।

ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে নিজের স্টান্ট নিজে দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ডামি জিনিসটা আমার পছন্দ না। এর আগে ‘প্রেম প্রেম পাগলামি’র শুটিংয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়তে যাচ্ছিলাম। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম। ‘তবুও ভালোবাসি’র শুটিংয়ে ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হতে গিয়েও কোনোমতে বেঁচে ফিরেছিলাম। সেবার মাথা ফেটে গিয়েছিল। বারবার ভাগ্যের বরাতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি।

চেয়েছিলাম টানা শুটিং করে ‘ডেঞ্জার জোন’-এর কাজ শেষ করব। এই দুর্ঘটনার পর শুটিং প্যাক আপ করলেন পরিচালক। ইচ্ছা আছে পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে সবার আগে এই ছবির কাজ শেষ করব, তারপর অন্য ছবির শুটিং।

 

অনুলিখন : কাউছার এইচ তানজিল

মন্তব্য