kalerkantho

তারার বন্ধু তারা

আপনি থেকে তুই

সাবিলা নূর, প্রীতম আহমেদ—একজন মডেল-অভিনেত্রী, আরেকজন গায়ক-অভিনেতা। তাঁদের বন্ধুত্বের গল্প জানেন শোবিজের অনেকেই। পাঠকদের জানাচ্ছেন মীর রাকিব হাসান

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আপনি থেকে তুই

২০১৬ সালে বিপিএলে খুলনা টাইটানস দলের শুভেচ্ছাদূত হয়েছিলেন সাবিলা নূর। ছিলেন মিউজিশিয়ান অদিত রহমানও। অদিত ও প্রীতমের স্টুডিও তখন পান্থপথে। অদিতের স্টুডিওতেই প্রীতমের সঙ্গে প্রথম দেখা সাবিলার। “প্রথম দেখায় প্রীতমকে আপনি করে বলছিলাম। ও বলে, ‘তুমি করে বলো। আমি তোমার চেয়ে বুড়ো না, আমি তো তোমাকে তুমি করে বলছি।’ আমিও বললাম ‘তুমি’। এরপর সেই সম্পর্কটা এখন ‘তুই’তে নেমে এসেছে”—বললেন সাবিলা।

দুজন একসঙ্গে প্রথম অভিনয় করেন নুহাশ হুমায়ূনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘৭০০ টাকা’য়। নুহাশ প্রথম অভিনয়ের প্রস্তাব দেন প্রীতমকে। নুহাশ তখন এটাও জানালেন, একটা ভালো মেয়ে দরকার, যে অভিনয়টাও ভালো পারে। সঙ্গে সঙ্গে সাবিলার কথা মাথায় এলো প্রীতমের, ‘নুহাশ ভাইকে বললাম, সাবিলা আমার বন্ধু। ও এমনিতেই ভালো অভিনেত্রী। আমি রিকোয়েস্ট করলে আরো ডেডিকেশন দেবে। এভাবেই একসঙ্গে প্রথম কাজ আমাদের।’

‘৭০০ টাকা’য় গানও করেছিলেন সাবিলা। টাইটেল গানের র্যাপ পার্ট গেয়েছিলেন। প্রীতমের আগ্রহেই র্যাপটা করেছিলেন। করে ভীষণ মজাও পেয়েছেন, ‘আমি ওকে বলে রেখেছি, এ রকম যদি কোনো সুযোগ হয়, আমাকে ডাকিস।’ ‘৭০০ টাকা’র পর দুটি বিজ্ঞাপনচিত্র করেছেন তাঁরা—ক্লোজআপ কাছে আসার গল্পের ‘ছন্দ ছাড়া গান’ এবং একটি অনলাইন কমার্শিয়াল। ‘আমাদের বন্ধুত্বটা তো আসলে কাজের জন্য নয়; কাজের বাইরেই আমাদের বন্ধুত্বটা অনেক বেশি স্ট্রং। আমাদের যে খুব বেশি দেখা হয়, তা না। কিন্তু কিছুদিন পর পরই আমি, প্রীতম, নুহাশ ভাইসহ শোবিজের বাইরেও কিছু ফ্রেন্ড আছে, যাদের নিয়ে দেখা করি’—বললেন সাবিলা।

প্রীতমের চোখে সাবিলার খারাপ দিক, হুটহাট রেগে গিয়ে চিত্কার-চেঁচামেচি করে সাবিলা। তবে অভিযোগটা আমলে নিলেন না সাবিলা, ‘আমি জানি, ওর সঙ্গে কোনো কারণে রাগ করলে বা চিত্কার-চেঁচামেচি করলে ও কিছুই মনে করবে না। তাই অনেক সময়ই ওর ওপর রাগটা ঝাড়ি। ও কিছু মনে না করে পরক্ষণেই বলে, আরে আয়, ভুল হয়ে গেছে।’

প্রীতমের চোখে সাবিলার সবচেয়ে ভালো দিক, ‘ও কাজের প্রতি ডেডিকেটেড। ও যখন অভিনয় করে, তখন সব কিছু ভুলে যায়। ও যখন ভালো কোনো গল্প পায়, তখন সেটা নিয়ে প্রচুর ভাবে। আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে কিভাবে আরো ভালো করা যায়।’

সাবিলার উল্টোটা প্রীতম। সেটা জানালেন সাবিলা, ‘ও অনেক ভালো অভিনেতা হতে পারত। কিন্তু একে তো ও অলস, তার ওপর এনার্জি খুবই কম। আমরা তো অনেক সময় রাত পার করে পরদিন সকাল পর্যন্ত শুট করি। রেগুলার অভিনয়শিল্পীরা এটাতে অভ্যস্ত। প্রীতম এটা মানতেই পারে না। সে জন্য ওই ফুল ডেডিকেশনটা কখনো দিতে পারে না। ও চাইলেই কিন্তু ভালো অভিনয় করতে পারে।’

প্রীতমের প্রশংসাও করলেন সাবিলা, ‘আমি কথা কম বলি, শুনতে পছন্দ করি। তা ছাড়া আমি সবার সঙ্গে মিশতেও পারি না। প্রীতম খুবই সিম্পল ও সহজ-সরল। ওর সঙ্গে এ কারণেই সব কিছু শেয়ার করা যায়, দুষ্টুমি করা যায়। অনেক সময় রেগে গেলেও ও কিছু মনে করে না। তবে আমাদের প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হয়। ও তখন চুপ করে বসে থাকে।’

অভিনয়ে প্রীতমকে অনেক সাহায্য করেন সাবিলা। ‘ও আমাকে অ্যাক্টিংটা অনেকখানি শিখিয়েছে। ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পর অ্যাক্টিংয়ের প্রতি ভালোবাসা কিছুটা হলেও বেড়েছে। ও অনেক হেল্প করে এ ব্যাপারে’—বললেন প্রীতম।

মন্তব্য