kalerkantho

রবির সেরা ৫

নিজের গাওয়া পছন্দের ৫টি গানের গল্প শুনিয়েছেন রবি চৌধুরী। লিখেছেন আতিফ আতাউর। ছবি তুলেছেন আপন খান

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রবির সেরা ৫

বেদনার সবটুকু আমাকে দিয়ে

‘বেদনার সবটুকু আমাকে দিয়ে, সুখ নিয়ে তুমি ফিরে যাও’ আমার খুব প্রিয় একটি গান। নিজের লেখা-সুর করা প্রথম গান। আমার প্রথম অ্যালবাম ‘প্রেম দাও’-এ গানটি প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে। ব্যবসার কারণে তখন নিয়মিত সৌদি আরব যেতাম। একবার সৌদি আরব যাওয়ার পর গানটির থিম মাথায় আসে। সেখানে বসেই লেখা। সেখানে পাকিস্তানের এক ভদ্রলোকের স্টুডিও ছিল। তাঁর স্টুডিওতে নিজেই    কি-বোর্ড বাজিয়ে রেকর্ড করি। আমার কণ্ঠ কেমন আসে সেটা যাচাই করি। শুনে অনেকেই প্রশংসা করেন। দেশে এসে পুরানা পল্টনের সিম্ফনি রেকর্ডিং স্টুডিওতে নতুন করে গানটিতে ভয়েস দিই। অ্যারেঞ্জার ছিলেন প্রয়াত বদরুল আলম বকুল। অ্যালবামটি সুপারডুপার হিট ছিল।

 

তুমি দুঃখ পাও, তুমি কষ্ট পাও, এ আমি চাই

থিমটা আমারই। লিখেছেন এইচ এম লিপু। রাত ২টার সময় আমার বনশ্রীর বাসায় বসে লিপু গানটি লিখেছিল। দুজন একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাত্ থিমটি মাথায় এলে লিপুর সঙ্গে শেয়ার করি। এরপর আড্ডা বাদ দিয়ে সে লিখতে বসে যায়। গান লেখায় আমার কাছেই তার হাতেখড়ি। গানটি ভীষণ জনপ্রিয়। আমিই সুর করেছি। সংগীতায়োজন করেছেন শওকত আলী ইমন। গানটি যে হিট হবে, এ বিষয়ে আমরা ভীষণ আশাবাদী ছিলাম। লেখার পর খাতার ওপরের কোনায় লিখেও দিয়েছিলাম, ইনশআল্লাহ হিট! অ্যালবামের নামও ছিল ‘তুমি দুঃখ পাও’। প্রকাশ পায় ২০০০ সালে।

 

সজনী রজনীকে যেতে দিও না

২০০০ সালে সাউন্ডটেক থেকে প্রকাশিত ‘আঘাত’ অ্যালবামের গান এটি। গীতিকার চট্টগ্রামের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার মোবায়দুল ইসলাম। তিনি গল্প-কবিতা লেখেন। আমার গান খুব পছন্দ করেন। আমাকে দিয়ে গান করানোর শখ ছিল তাঁর। সে জন্য একদিন বাসায় দাওয়াত দেন। পার্টি শেষে তাঁর লেখা অনেকগুলো গান ও কবিতা আমাকে দেখান। পড়ার পর এই গানটি ভালো লেগে যায়। রাত ১০টা-১১টার দিকে তাঁর বাংলোতে বসেই সুর করি। ঠুমরি ঘরানার গান। শ্রোতারা অনেক পছন্দ করেছে। বিভিন্ন লাইভ শোতে নিয়মিত গাই।

 

রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টি যখন ঝরে

আমার প্রথম অ্যালবাম ‘প্রেম দাও’-এর আরেকটি জনপ্রিয় গান। তখন আমার গাওয়া বেদনা-বিরহের গানগুলো বেশি চলছিল। সে সময় অডিও কম্পানি থেকে বলা হলো দ্রুত লয়ের একটি গান করার জন্য। তখন রিতা নামে রাজশাহীর এক মেয়ে আমাকে এই গানটি গেয়ে শোনায়। শুনে মনে হলো, গানটি করলে শ্রোতাদের পছন্দ হতে পারে। লিখেছিলেন রাঙা নামের রাজশাহীর এক ভদ্রলোক। তাঁর কাছ থেকে মুখটুকু নিয়ে কাজী ফারুক বাবুলের সঙ্গে গানটি নতুনভাবে করি।

 

এক নয়নে কান্দো

একদিন নাটকে একটি গান শুনি—‘এক নয়নে হয় না কান্দন’। সংগীত পরিচালক বিটিভির মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ ভাই। গানটি খুব মনে ধরে। একদিন তাঁর কাছে গিয়ে বলি, গানটি আমাকে দেন। আমার ফোক অ্যালবামে গাইতে চাই। টাইটেল হিসেবে রাখব। তিন-চারবার তাঁর কাছে গেলাম। কিন্তু দেব দেব করেও দিচ্ছিলেন না। মনে জিদ চেপে গেল—এক নয়নে হয় না কান্দন, কিন্তু আমি এক নয়নেই কান্দাব। আমি প্রণবদার [প্রয়াত সুরকার প্রণব ঘোষ] বাসায় গেলাম। তাঁকে সব জানিয়ে বললাম, আমার অ্যালবামের নাম হবে ‘এক নয়নে কান্দো’। গানটা কাকে দিয়ে লেখাই? তিনি বললেন, ‘এত কঠিন গান কাকে দিয়ে লেখাবা? চলো, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের বাসায় যাই।’ গেলাম দুজন। তিনি ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে লিখে দিলেন—‘দৃষ্টি হারা দুই নয়নকে লোকে বলে অন্ধ, ভালোবাসার দেখা পাবে এক নয়নে কান্দো’। সুর করলেন প্রণবদা। ১৯৯৪ সালে সাউন্ডটেক থেকে অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য