kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

এবার তবে সিনেমা?

১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার তবে সিনেমা?

‘জাতীয় শিশু প্রতিযোগিতা’র পর বিচারক হলেন আরটিভির ‘ক্যাম্পাস স্টার’-এ। নাচ আর টিভি নাটকের অভিনয়ে ভীষণ ব্যস্ত তিনি। এবার চাইছেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। নাদিয়া আহমেদকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান, ছবি তুলেছেন মোহসীন আহমেদ কাওছার

কোরবানির ঈদের নাটকের শুটিং শুরু করে দিয়েছেন। হাতে আছে একক ও ঈদ ধারাবাহিক মিলিয়ে প্রায় ১০টি নাটক। আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকীর দুটি নাটকও—অঞ্জন আইচের ‘মুক্তির উপায়’ ও আবুল হায়াতের ‘উদ্ধার’। ৬ আগস্ট পর্যন্ত টানা শুটিং করবেন এগুলোর। এরই মধ্যে করতে হবে মুন্নু সিরামিকের বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং, দীপ্ত টেলিভিশনের নাচের অনুষ্ঠানও আছে একটা। আলাপের শুরুতেই জানালেন ব্যস্ততার ফিরিস্তি।

জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় বিচারকাজ করেছেন কিছুদিন আগে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই তিনি আজকের নাদিয়া হয়েছেন। ১৯৮৮-৮৯-৯০ সালে টানা তিনবার পুরস্কার জিতেছেন। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনিই ছিলেন বিচারক! ‘জানেন, ভীষণ নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলাম। বিচারকাজ শুরুর আগে শিশু একাডেমির মহাপরিচালকের রুমে আমাদের সবাইকে ব্রিফিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন আমার শিক্ষক কবিরুল ইসলাম রতন, নাচে আমার সিনিয়র আপু বিজরী বরকতউল্লাহ। ছোটবেলা থেকে যাঁদের দেখে বড় হয়েছি, আজ তাঁদের সঙ্গে আমিও বিচারক! অবাকই লাগছিল’—বললেন নাদিয়া।

আরটিভির ‘ক্যাম্পাস স্টার’-এর বিচারকাজের দায়িত্বও  নিয়েছেন। মাত্রই শুরু হয়েছে রিয়ালিটি শোটি। অডিশনের মাধ্যমে প্রতিযোগী বাছাই চলছে। ঈদের পর অফিশিয়ালি বিচারকাজ শুরু করবেন নাদিয়া।

নাচটা বরাবরই উপভোগ করেন। তবে কিছু হতাশা রয়েছে তাঁর। বিশেষ দিবস ছাড়া টেলিভিশনে নাচের অনুষ্ঠান হয় না বললেই চলে, ‘পাঠ্যপুস্তক হাতে তোলার আগেই শুরু করেছিলাম নাচ। ক্যারিয়ারের এত বছরে ঈদে একটা চ্যানেলেরই নাচের অনুষ্ঠানে সুযোগ পেয়েছি—বাংলাভিশনে। চ্যানেলে সাধারণত ফিল্মস্টার বা নাটকের আলোচিতদের নিয়ে একক নৃত্যানুষ্ঠান করা হয়। শুধু নৃত্যশিল্পীদের প্রতি আগ্রহ দেখায় না চ্যানেলগুলো। এ ধরনের অনুষ্ঠান আমি এড়িয়ে চলি। আমরা যারা অনেক বছর ধরে নাচ শিখছি, দেখা যায় আনাড়ি কোনো তারকার সঙ্গে আমাদের নাচতে বলে। আমার মতে, বাংলাদেশে অনেক ভালো নৃত্যশিল্পী আছেন, যাঁদের নিয়ে নিয়মিত নৃত্যানুষ্ঠান হওয়া উচিত।’

এত দিন চলচ্চিত্রে আগ্রহ দেখাননি। তবে এখন আগ্রহী হয়েছেন। কেন? “নিজেকে কখনোই বাণিজ্যিক ছবির যোগ্য মনে করিনি। এ ধরনের ছবিতে আমার এক ধরনের আড়ষ্টতা আছে। তা ছাড়া নাচটাই আমার ভালোবাসার সবচেয়ে বড় জায়গা। অভিনয়টা যে সিরিয়াসলি করব সেটা কখনো ভাবিনি। পেশা হয়ে যাবে সেটাও ভাবিনি। আর আমাদের পরিবারের একমাত্র আমি শিল্পচর্চায় আছি, অন্য কেউ নেই। পরিবারের সবাই ছবির ব্যাপারে নেতিবাচক। অনেক প্রস্তাব পেলেও তাই করা হয়নি। তবে এখনকার অনেক ছবিই বেশ আলোচিত হচ্ছে—অমিতাভ রেজা ‘আয়নাবাজি’ বানালেন বা তৌকীর ভাই যে ছবিগুলো বানাচ্ছেন। অভিনয়টা এখন বেশ উপভোগ করছি। তাই ভাবছি, ছবি করতেই পারি। এসব ছবিতে অভিনয়ের অনেক সুযোগও থাকে। যদি ওরকম কোনো চরিত্র পাই, প্রয়োজন হলে আলাদা সময় নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে ছবিতে অভিনয় করব।”—বললেন নাদিয়া।

বরাবরের মতো আসছে ঈদেও আমেরিকায় যাবেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ফিরবেন। নাদিয়ার পরিবারের সবাই থাকেন আমেরিকায়। মাঝখানে গুঞ্জন উঠেছিল তিনিও আমেরিকায় থিতু হচ্ছেন। জানালেন, তেমন কিছুই নয়। ঘরসংসার নিয়ে এখানেই সুখে আছেন। তবে যাওয়া-আসা তো হবেই। আর সংসারের নতুন কোনো খবর? হাসি দিয়ে বললেন, ‘সময় হলে সবাইকে জানানো হবে। আপাতত কিছু জানাচ্ছি না।’

মন্তব্য