kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

৪০ বছরের মাইলস

১৯৭৯ সালে যাত্রা শুরু। এ বছর ৪০ বছর পূর্ণ করেছে মাইলস। এ উপলক্ষে দেশ-বিদেশে ছয় মাসব্যাপী কনসার্ট করবে তারা। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন ও মাহতাব হোসেন

২০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৪০ বছরের মাইলস

লন্ডন থেকে দেশে ফিরে একটি ব্যান্ড গঠন করেন ফরিদ রশিদ। নাম দেন ‘মাইলস’। প্রথম লাইন আপের কয়েক মাস পরই দলটিতে যোগ দেন দুই সহোদর হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ। শাফিন আহমেদ শোনালেন সেই গল্প, ‘১৯৭৯ সালের কথা। আমরা কিছু কমন বন্ধু একসঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতাম। সবাই মিউজিক করতাম। মাইলস গড়ে ওঠার কিছুদিন পর ধানমণ্ডিতে বন্ধু মুসার বাসায় ফরিদ রশিদের সঙ্গে আমাদের দুই ভাইয়ের দেখা। মুসা তখন মাইলসের রিদম গিটারিস্ট। সেখানে অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা-গান হলো। আমাদের দুই ভাইয়ের পারফরম্যান্স দেখে খুব পছন্দ করেন ফরিদ রশিদ। এর কয়েক দিন পরই আমাদের অফার দেন মাইলসে যোগদানের জন্য। আমি রাজি হয়ে যাই।’

মাইলসে মানাম আহমেদের যোগ দেওয়ার গল্পটা অন্য রকম। মানামের বাবা মনসুর আহমেদ তখন নামকরা সংগীত পরিচালক। তাঁদের বাসায় ব্যান্ড মিউজিকের সমস্ত ইনস্ট্রুমেন্ট। ফরিদ রশিদ মাঝেমধ্যেই তাঁদের বাসায় যেতেন। মানাম তখন বাসায় বিভিন্ন যন্ত্র অনুশীলন করতেন। মানাম বললেন, ‘একদিন মগবাজারের শ্রুতি স্টুডিওতে মাইলসের দুটি গানের রেকর্ডিং। তখন রবিন ভাই মাইলসে কি-বোর্ড বাজাতেন। তিনি নিজেও একটি গানে ভয়েস দেবেন। সে সময় কি-বোর্ড বাজিয়ে ভয়েস দেওয়ার উপায় ছিল না। ফরিদ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কি-বোর্ড বাজাতে পারব কি না। হ্যাঁ বলায় স্টুডিওতে ডাকলেন। রবিন ভাই গাইলেন, আমি কি-বোর্ড বাজালাম। সেই থেকে মাইলসের সঙ্গে আমার যোগসূত্র। তবে আমি যোগ দিয়েছি ১৯৮২ সালে, ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর। রবিন ভাই ব্যান্ড ছেড়ে দেওয়ার পর। মাইলসের বর্তমান লাইন আপের অন্য দুই সদস্য

সৈয়দ জিয়াউর রহমান তূর্য ও ইকবাল আসিফ জুয়েল। তূর্য মাইলসে যোগ দেন ১৯৯৬ সালে আর ইকবাল আসিফ জুয়েল ১৯৯৮ সালে।

শুরুতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল [সাবেক শেরাটন] হোটেলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ইংরেজি গান কাভার করত মাইলস। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তারা প্রথম গান করে ১৯৮২ সালে। সে বছরই শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথম লাইভ কনসার্ট করে। একই বছর প্রকাশ পায় তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘মাইলস’ [ইংরেজি]। ১৯৯১ সালে বের করে প্রথম বাংলা অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’। ১৯৯৩ সালে ‘প্রত্যাশা’। শাফিন বলেন, “বাংলা ব্যান্ড ইতিহাসে ‘প্রত্যাশা’র মতো আর কোনো ক্যাসেট বিক্রি হয়নি। গান শুনতে শুনতে ক্যাসেট ভেঙে গেলে মানুষ আবার ক্যাসেট কিনত, সংগ্রহে রাখত। এই ক্যাসেটের প্রতিটি গান ছিল শ্রোতার মুখস্থ।”

এ পর্যন্ত মাইলসের প্রকাশিত অ্যালবাম ১১টি। এর বাইরে ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে ‘বেস্ট অব মাইলস ১’ ও ‘বেস্ট অব মাইলস ২’। প্রকাশ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডিস্কো রেকর্ডিং। ১৯৯৮ সালে ভারতের আশা অডিও থেকে প্রকাশিত হয় ‘বেস্ট অব মাইলস ১’ ও ‘বেস্ট অব মাইলস ২’। দেশ-বিদেশে এ পর্যন্ত ৩৫০টির বেশি কনসার্ট ও অনেক চ্যারিটি শো করেছে তারা। প্রকাশিত গান দুই শতাধিক। মানাম বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি গান টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে বানানো হয়। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ব্যান্ডটি এগিয়ে গেছে।’

৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশ-বিদেশে ছয় মাসব্যাপী বিশেষ কনসার্ট করবে মাইলস। এই আয়োজনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘মাইলস ফর্টিথ অ্যানিভার্সারি লাইভ’ শিরোনামে চার মাসব্যাপী কনসার্ট হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলািয়ায়। প্রথম কনসার্টটি হবে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশে হবে ‘ম্যাজিক অব মাইলস’। শুরুতে চারটি বিভাগীয় শহর—চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে হবে তাদের পরিবেশনা। সর্বশেষ ঢাকায় গ্র্যান্ড কনসার্ট দিয়ে শেষ হবে এই আয়োজন। বর্তমান লাইন আপ—শাফিন আহমেদ (ভোকাল ও বেইস গিটার), হামিন আহমেদ (লিড গিটার ও ভোকাল), মানাম আহমেদ (কি-বোর্ড), ইকবাল আসিফ জুয়েল (গিটার ও ভোকাল) ও সৈয়দ জিয়াউর রহমান তূর্য (ড্রামস)।

মন্তব্য