kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

ওদের সঙ্গে আছি

যুক্তরাজ্যে বসেছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড—তিন দলের মুখোমুখি হয়ে কেমন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল? কী ভালো হয়েছে বা কী করলে আরো ভালো হতো? বলেছেন ৫ শোবিজ তারকা

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ওদের সঙ্গে আছি

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে টাইগারদের একাংশের উল্লাস

বোলিংয়ে কিছু চেঞ্জ আনা উচিত

ওমর সানী

ইংল্যান্ড তো বাংলাদেশের সঙ্গে চার শ রান করেই ফেলত। এত বড় স্কোর যখন বিপক্ষ দল করে, তখন বুঝতে হবে নিশ্চয়ই বোলিংয়ে গাফিলতি আছে। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, আমাদের ভোগাচ্ছে ‘ওভার কনফিডেন্স’। সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শুরুতেই জয় পাওয়ায় এটা হয়েছে। আমি দেখছি, প্রথম দু-চারজন ভালো রান না করলেই টিম দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে, কেউ আর দাঁড়াতে পারছে না। বাংলাদেশের বোলিংয়ের যে বৈশিষ্ট্য, রান চাপিয়ে রাখা, সেটাই পারেনি ইংল্যান্ড ম্যাচে। এটা কিন্তু সামনে আমাদের ভোগাবে। বোলিংয়ে কিছু চেঞ্জ আনা উচিত। একটু এদিক-ওদিক করলে বিপক্ষ দলের গেম প্ল্যানেও কিন্তু সমস্যা হয়। 

 

সবচেয়ে অভিজ্ঞ টিম বাংলাদেশই

চঞ্চল চৌধুরী

দুর্ভাগ্যক্রমে পর পর দুটি ম্যাচ হারলাম। আমার কেন যেন মনে হয়, দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশের সম্ভাবনা ছিল। ইংল্যান্ডের ৩৮৬ রান তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ ২৮০ করল। বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাট করত, আমার মনে হয় ৩০০ ছাড়িয়ে যেত। ইংল্যান্ড তখন একটু হলেও চাপে পড়ত। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটায় যেমন দেখেছি। আমি ক্রিকেটার বা ক্রিকেটবোদ্ধা নই। তবে সাধারণ জ্ঞান থেকেই বলছি, বাংলাদেশ ম্যাচে যেকোনো সময়ই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। দুই ম্যাচ হারার পর নিশ্চয়ই টিম ম্যানেজমেন্টের চোখে অনেক ভুলত্রুটি চোখে পড়েছে। সেগুলো নিশ্চয়ই শুধরে নেবে। সাকিব আল হাসান টানা ভালো খেলছে। দেখা গেল, সামনের ম্যাচেই আমরা তামিমের কাছ থেকে বড় স্কোর পেয়ে গেলাম, যেটা তামিম এখনো পারছে না বিশ্বকাপে। আমি বাংলাদেশ টিম নিয়ে এখনো আশাবাদী। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের টিম গোছানো। বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ টিম বাংলাদেশেরই। ঘুরে দাঁড়াবে আশা রাখি।

 

একজন জেনুইন বোলার দরকার

রওনক হাসান

শুরুটা খুবই ভালো ছিল। ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের রেশ পাওয়া গেল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পিছিয়ে পড়ে আবার কামব্যাক করাটাও ভালো ছিল। তবে আমার মনে হয়েছে, তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার ছিল। ওয়ার্ল্ড কাপের মতো বড় আসরে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মিঠুন, মোসাদ্দেকের বদলে সাব্বির-লিটনদের সুযোগ দিলে ভরসাটা বাড়ত। রুবেলকেও মিস করেছি। ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারে ও। মিঠুন ও মোসাদ্দেক যে খেলতে পারে না তা নয়। টানা সুযোগ পেলে হয়তো ভালো খেলবে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে ধারাবাহিকতা আশা করতে পারছি না কেন যেন।

আরেকটি কথা, দলে এত অলরাউন্ডার না রেখে একজন জেনুইন বোলার বাড়ানো উচিত। বোলিংয়ে কিন্তু দুর্বলতা চোখে পড়ে। ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডার ভেঙে পড়লে খুব বেশি আশা করা যাচ্ছে না। আমরা কৌশলের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছি কি না সেটাও ভাবা দরকার। দ্বিতীয় ম্যাচে উইনিং কম্বিনেশন রাখা হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে অপরিবর্তিত দল রাখার কারণ বুঝতে পারিনি। ইংল্যান্ডের একেক মাঠের একেক রূপ। সেটা মাথায় রেখে দল করা উচিত। সেখানে যে কেউই বাদ পড়তে পারে। তবে আমি এখনো আশাবাদী, বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা রাখে।

 

ব্যাটিং নেওয়া উচিত ছিল

শারমিন সুলতানা সুমী

সমর্থক হিসেবে বলব, আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা সমর্থকরা ভালোবাসি বলেই অনেক কিছু বলি। মাঠে যারা খেলে তারা নিশ্চয়ই বাংলাদেশের জন্য সেরাটাই করার চেষ্টা করে সব সময়। সামনে আমাদের অনেক খেলা আছে। আশা করি, আরো তিন-চারটা ম্যাচ আমরা জিতব। আমরা প্রথম ম্যাচেই জয় পেলাম। দ্বিতীয় ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলা বেশ ভালো লেগেছে। ব্যাটিং ভালো হলো না, বোলিংয়ের শুরুটাও কোনো আশা দেখাতে পারছিল না, কিন্তু শেষ মুহূর্তে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেটা অসাধারণ ছিল। তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে টসে জিতে ব্যাটিংটাই নেওয়া উচিত ছিল। কারণ ওদের ব্যাটিং লাইনআপ দুর্ধর্ষ। ওরা প্রেসার না নিয়ে খেলে এত বড় স্কোর গড়ে দিল। আমরা ম্যাচের অর্ধেক সময়েই হেরে গেলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুবেলকে দরকার ছিল। হতাশ হওয়ার কিছু নেই, এখনো আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি। টিমকে ভালোবেসে পাশে থাকতে হবে সমর্থকদের। 

 

মিরাজ ভবিষ্যতের সাকিব

মৌসুমী হামিদ

পর পর দুটি ম্যাচ হেরে গেছি মানে এই নয় আমরা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছি। ভারত যেমন টানা জয় পাচ্ছে, আবার কিন্তু পর পর দুটি ম্যাচ হেরেও যেতে পারে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমরা যারা সমর্থক, তারা অত্যধিক পরিমাণে রিঅ্যাক্ট করি। দল যখন জেতে তখন প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলে ফেলি, আবার যখন হারে নিন্দা শুরু করি। সাকিব আল হাসান আজকে ভালো খেললে তার প্রশংসা, কাল খারাপ খেললে তাকে ধুয়ে দেওয়া হবে, এ কেমন সমর্থক বাবা! ওরা তো একা খেলে না। ২০ কোটি মানুষও ওদের সঙ্গে খেলে। গত ম্যাচগুলোতে মুস্তাফিজকে নিয়ে আশায় ছিলাম, ও ভালো বল করবে। কিন্তু পারেনি। মিরাজের খেলা আমাকে খুবই মুগ্ধ করে। মিরাজকে মনে হয় ভবিষ্যতের সাকিব আল হাসান। মিরাজ আবার আমার খুলনার ভাই। টিমের সাতটা প্লেয়ারই যদি হয় আমার খুলনার, তা-ও আবার ঘরের পাশের সাতক্ষীরার দুজন। সব ভাইব্রাদার খেলছে এই টিমে। সেদিন নিলয় আলমগীর, শ্যামল মাওলার সঙ্গে খেলা দেখছিলাম শুটিংয়ের ফাঁকে। ওরা বলে, এটা তো নিউজিল্যান্ড বনাম খুলনার খেলা হচ্ছে। যাই হোক, মাশরাফির দল। তার ওপর আমাদের আস্থা অপরিসীম। তিনি নিশ্চয়ই আমাদের জয়ের ধারায় নিয়ে যাবেন।

অনুলিখন : মীর রাকিব হাসান

মন্তব্য