kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

এবার আন্তর্জাতিক

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার আন্তর্জাতিক

জনপ্রিয় ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ সিরিজের চতুর্থ কিস্তি ‘মেন ইন ব্ল্যাক : ইন্টারন্যাশনাল’। তবে এবার নেই আগের পর্বগুলোর জনপ্রিয় দুই তারকা টমি লি জোন্স ও উইল স্মিথ। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

 

চকচকে কালো স্যুট, চোখে সানগ্লাস আর হাতে অদ্ভুতদর্শী সব অস্ত্র। এই সাজেই টমি লি জোন্স ও উইল স্মিথ ১৯৯৭ সাল থেকে লড়াই করে আসছেন পৃথিবীতে ভিনগ্রহবাসীদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। ১৯৯৭ সালে মালিবু কমিকসের জনপ্রিয় সিরিজ অবলম্বনে ব্যারি সোনারফিল্ডের পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘মেন ইন ব্ল্যাক’। টমি লি জোন্স ও উইল স্মিথের এজেন্ট জে ও এজেন্ট কে পরিণত হয় জনপ্রিয় আইকনে। পরে মুক্তি পায় আরো দুটি কিস্তি, বক্স অফিসে তোলপাড় তোলে প্রতিটি চলচ্চিত্রই। আবার পর্দায় আসছে ‘মেন ইন ব্ল্যাক’, তবে কিছুটা ভিন্ন রূপে। এবার আর দেখা যাচ্ছে না টমি লি জোন্স ও উইল স্মিথকে। কারণ ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ সংস্থার লন্ডন শাখার কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘মেন ইন ব্ল্যাক : ইন্টারন্যাশনাল’। লন্ডনের ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ শাখায় যোগ দেন একজন শিক্ষানবিশ, এজেন্ট এম। তাঁর দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে সে শাখার প্রধান তাঁকে জুড়ে দেন ইংল্যান্ডের সেরা এজেন্ট এইচের জুটি হিসেবে। পৃথিবীতে হুট করে বেড়ে যাওয়া এলিয়েন আক্রমণের রহস্য ভেদের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাদের। এ দুই এজেন্ট জড়িয়ে পড়ে এক ভয়ংকর জালে। পৃথিবীকে বাঁচানোর অভিপ্রায়ে ছুটে বেড়াতে হয় নানা প্রান্তে। এজেন্ট এইচের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ এবং এজেন্ট এমের ভূমিকায় টিসা থম্পসন। এ ছাড়া লন্ডন শাখার প্রধান হিসেবে দেখা যাবে জনপ্রিয় তারকা লিয়াম নিসনকে। সিরিজের আগের চলচ্চিত্রগুলো থেকে থাকছেন এমা থম্পসন।

২০১২ সালে ‘মেন ইন ব্ল্যাক’-এর তৃতীয় কিস্তি মুক্তির পর থেকেই পরের কিস্তির আলোচনা চলতে থাকে। বিশ্বজুড়ে ‘চলচ্চিত্র ইউনিভার্স’-এর জনপ্রিয়তার প্রভাব পড়ে ‘মেন ইন ব্ল্যাক’-এর ওপরও। ২০১৪ সালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঘোষণা করা হয় আরেকটি জনপ্রিয় সিরিজ ‘টোয়েন্টি ওয়ান জাম্প স্ট্রিট’-এর সঙ্গে যোগ করে ফেলা হবে ‘মেন ইন ব্ল্যাক’কে! ‘টোয়েন্টি ওয়ান জাম্প স্ট্রিট’-এর প্রধান দুই তারকা চানিং ট্যাটাম ও জোনাহ হিল এখন দুষ্ট মানুষের বদলে লড়াইয়ে নামবেন দুষ্ট এলিয়েনদের বিরুদ্ধে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এই পরিকল্পনা বাদ দেয়। ঘোষণা দেয় আমেরিকার বাইরে ‘মেন ইন ব্ল্যাক’-এর কার্যক্রম নিয়ে চলচ্চিত্র বানানোর। ব্যারি সোনারফিল্ডের জায়গায় পরিচালনায় আসেন এফ এফ গ্যারি। উইল স্মিথ ও টমি লি জোন্সও জানিয়ে দেন, এবার দর্শক দেখতে পাবে না এজেন্ট জে ও এজেন্ট কে জুটিকে।

‘মেন ইন ব্ল্যাক : ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রধান দুই চরিত্রে ‘থর’ চলচ্চিত্রের দুই তারকা ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও টিসা থম্পসন। অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা ক্রিস হেমসওয়ার্থ কেশোর থেকেই ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ সিরিজের বড় ভক্ত। প্রস্তাব পাওয়ার পর অভিনয়ে রাজি হতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি। চলচ্চিত্রটিতে চিত্রায়ণের অভিজ্ঞতাও ছিল বেশ মজার। একবার তো তিনি ভুল করে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে নেওয়ার জায়গায় থরের বিখ্যাত অস্ত্র হাতুড়ি তুলে নেন! পরিচালকের ঘটনাটি এতই পছন্দ হয় যে চলচ্চিত্রেও রেখে দেন দৃশ্যটি। ‘থর : র‌্যাগনারক’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জারস : এন্ডগেম’-এর পর টিসা থম্পসনের সঙ্গে আবারও জুটি বাঁধার ঘটনা নিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘আমি সত্যি ভাগ্যবান, সহশিল্পীর সঙ্গে রসায়নটা আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল।’ উইল স্মিথের চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে মোটেই রাজি নন এই তারকা। তিনি বলেন, ‘উইল স্মিথের অনেক বড় ভক্ত আমি। তাঁর চলচ্চিত্রের গল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগটা তো আমার সৌভাগ্য।’

 

মন্তব্য