kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

গ্রাঁ প্রিঁ

সুলেইমানের ভূত

৩০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুলেইমানের ভূত

আটলান্টিকস

ডাকারের প্রাণকেন্দ্রে একটি বহুতল অট্টালিকা। এই চাকচিক্যের আড়ালে আছে এক নিষ্ঠুর বাস্তবতাও। ভবনের নির্মাণশ্রমিকদের অনেক মাস ধরেই বেতন নেই। যেমন সুলেইমান। যার প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যায় এক ধনী যুবকের সঙ্গে। সুলেইমান পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে স্বপ্নের ইউরোপে। কিন্তু আটলান্টিকে নৌকাডুবিতে তার সলিলসমাধি হয়। তবে এর কিছুদিন পরই ডাকারজুড়ে ঘটতে থাকে অদ্ভুতুড়ে ঘটনা। ভয়ংকর এক জ্বর ছড়িয়ে পড়ে, শহরের অনেক মানুষ দেখতে পায় মৃত সুলেইমানকে! এই হলো মাতি ডিওপের ‘আটলান্টিকস’-এর গল্প। সেনেগালের পটভূমিতে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে পরিচালক ভৌতিক ও কল্পবিজ্ঞানের সংমিশ্রণে তুলে ধরেছেন বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের এক নিষ্ঠুর রূপ। চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘গ্রাঁ প্রিঁ’ পেয়েছে। বিভিন্ন চরিত্র করেছেন মামে বিনেতা, আমাতউ এমদউ, ইব্রাহিমা টাওরে প্রমুখ।

মাতি ডিওপির জন্ম ফ্রান্সের এক সেনেগালি পরিবারে। ফ্রান্সে থাকলেও মাটির টান কখনোই ভুলে যাননি। ২০০৪ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ডাকার যান। সেখানকার পথে-প্রান্তরে হাঁটেন। খেয়াল করেন সম্পদের অসম বণ্টন, দারিদ্র্যের নিষ্ঠুরতা ও ইউরোপমুখী তরুণ সমাজ—সেনেগালে এক কঠিন বাস্তবতা। প্যারিসে বড় হওয়া মাতি ডিওপের কাছে এ অভিজ্ঞতা ছিল এক অদ্ভুত জাদুবাস্তবতা। তখনই সিদ্ধান্ত নেন এই গল্পকে তুলে আনবেন রুপালি পর্দায়। ২০০৯ সালে এই অভিবাসনের ওপর নির্মাণ করেন একটি প্রামাণ্যচিত্র, যা বিশ্বের বড় বড় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পায়। সেই প্রামাণ্যচিত্রটির নামও তিনি দিয়েছিলেন ‘আটলান্টিকস’। এবারের চলচ্চিত্রটির গল্প ফুটিয়ে তুলতে পরিচালক আশ্রয় নিয়েছিলেন রোমিও-জুলিয়েটের মতো ভালোবাসার গল্পে, যার সঙ্গে মিশিয়েছেন অতিপ্রাকৃত ঘটনাবলি।

কান উৎসবে পুরস্কার পেয়ে মাতি ডিওপ সৃষ্টি করেছেন নতুন ইতিহাস। কানের ৭২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আফ্রিকান বংশোদ্ভূত নারী পুরস্কার জিতলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা