kalerkantho

মোস্ট ওয়ান্টেড যেভাবে ধরা পড়ল

ইন্ডিয়ান মুজাহিদীনের জঙ্গি আবদুল সুবাহান কুরেশিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’জ মোস্ট ওয়ান্টেড’। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা রাজকুমার গুপ্তর ছবিটি নিয়ে লিখেছেন মামুনুর রশিদ

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোস্ট ওয়ান্টেড যেভাবে ধরা পড়ল

একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটেই চলেছে। নাশকতার পেছনে মূল হোতা কে বা কারা কোনোভাবেই জানা যাচ্ছে না। নাম না জানা এই মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীকে গোয়েন্দা দপ্তর চিহ্নিত করেছে ‘ভারতের ওসামা’ হিসেবে। ২০০৯-১৩—এই চার বছরে ৫২টি বিস্ফোরণের মূল হোতা সে! এসব বিস্ফোরণে ৪৩৩ জন নিহত হয়, আহত আট শরও বেশি। ‘ভারতের ওসামা’কে ধরার দায়িত্ব পড়ে বেপরোয়া গোয়েন্দা অফিসার প্রভাত ঠাকুরের ওপর। কোনো রকম পুলিশি সহযোগিতা, গুলি খরচ না করে মাত্র চার দিনের মধ্যেই পর্দার আড়ালের এই অপরাধীকে ধরার মিশনে সফলও হন তিনি। এমন সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’জ মোস্ট ওয়ান্টেড’। মূলত জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদীনের সদস্য আবদুল সুবাহান কুরেশি ধরার ঘটনা নিয়েই এই ছবি।

প্রভাত ঠাকুর চরিত্রটি করেছেন অর্জুন কাপুর, যাঁর শেষ কয়েকটি ছবি ফ্লপ। তবে অভিনেতা বলছেন, এই ছবি দিয়েই ‘নতুন অর্জুন’-এর যাত্রা শুরু হবে, ‘ভালো-খারাপ সময় আসবেই। শেষ কয়েকটি ছবি বাছাই করতেও ভুল করেছি। এখন থেকে আরো সতর্ক হব।’ এই ছবি ছাড়াও এ বছর দিবাকর ব্যানার্জি, আশুতোষ গোয়াড়িকরের ছবি করেছেন অর্জুন। জঙ্গির চরিত্রে কে অভিনয় করেছেন সেটা খোলাসা করা হয়নি। ট্রেলারেও তাঁকে স্পষ্ট করে দেখানো হয়নি।

‘ইন্ডিয়া’জ মোস্ট ওয়ান্টেড’-এর পরিচালক রাজকুমার গুপ্ত। সত্য ঘটনা অবলম্বনে কম বাজেটে ছবি তৈরিতে যিনি বিশেষ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘রেইড’-এর পর এবার তিনি হাজির এই ছবি নিয়ে। সর্বশেষ ‘রেইড’ মুক্তির মাত্র এক বছরের মাথায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই সিনেমা। এক বছরের মধ্যে মুক্তি পেলেও পরিচালক আসলে তিন বছর ধরেই ‘ইন্ডিয়া’জ মোস্ট ওয়ান্টেড’ নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর ছবি মূলত পাঁচ গোয়েন্দার এক গোপন অভিযান নিয়ে। জটিল বিষয় নিয়ে চিত্রনাট্য লেখার প্রস্তুতিতেই প্রচুর সময় চলে যায়। গোয়েন্দাদের পরিচয়, মিশনের যাবতীয় তথ্য সবই গোপনীয় ব্যাপার। মূলত নানা সূত্রে এসব সংবেদনশীল তথ্য জোগাড় করতেই অনেক সময় লেগেছে। পরিচালকের প্রথম সিনেমা ‘আমির’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০৮ সালে। সেই সিনেমাও ছিল জঙ্গিবাদ নিয়ে। প্রায় এক যুগ পর নতুন ছবির জন্য ফের একই বিষয়কেই বেছে নিয়েছেন রাজকুমার। তবে পরিচালক বলছেন, এই ছবির প্রেক্ষাপট একেবারেই আলাদা, ‘আগেরটির সঙ্গে বিষয় ছাড়া এই সিনেমার অন্য কোনো মিল নেই। আগেরটি ছিল কাল্পনিক, এবারেরটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক সহজলভ্য হয়ে যাওয়াও তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর সংবাদ মানুষ বিশ্বাস করছে। আমি চেষ্টা করেছি সত্যিটা তুলে আনতে। পুরোপুরি সৎ থেকে গল্প বলতে।’ রাজকুমার ছবিটির বাণিজ্যিক আবেদন বাড়াতে কোনো রকম চটকদার উপাদান ব্যবহার করেননি। কোনো নায়িকার উপস্থিতি নেই। হলিউডি গোয়েন্দা সিনেমাগুলোর মতো ছবি বানাতে চাননি, চেষ্টা করেছেন বাস্তবসম্মতভাবে গল্প তুলে ধরতে। ছবির অভিনেতা অর্জুন কাপুর বলছেন, ‘এই ছবির প্রধান চরিত্রকে দেখলে মানুষ নিজেদের সঙ্গে মেলাতে পারবে। সে প্রচুর ভুল করে, যেমনটা আমরা সবাই করি। তার মধ্যে নায়কোচিত কোনো ব্যাপার নেই, সাদামাটা জীবন যাপন করে।’

মন্তব্য