kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

সাক্ষাৎকার

২০ বছরের শাকিব খান

২৮ মার্চ মাসুদ রানার বয়স হলো ৪০। আর ২৮ মে পর্দার শাকিব খানের বয়স হবে ২০। দুজন একই ব্যক্তি। ১৯৯৯ সালে ‘অনন্ত ভালোবাসা’য় অভিষেক হয়েছিল এই নায়কের। দুই দশকের শাকিবকে নিয়ে পূর্ণ পৃষ্ঠার আয়োজন। সাজিয়েছেন দাউদ হোসাইন রনি, সুদীপ কুমার দীপ ও মীর রাকিব হাসান

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০ বছরের শাকিব খান

দারোয়ানকে ঘুষ দিয়ে এফডিসিতে ঢুকেছিলাম

নায়কই হবেনসিদ্ধান্তটা কখন নিয়েছিলেন?

নায়ক হব এমন কোনো স্বপ্ন ছিল না। ছবি দেখতে ভালো লাগত। বন্ধুরা মিলে হলে যেতাম। হল থেকে বের হওয়ার পর সারা দিন এক ধরনের ঘোরে থাকতাম। বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, একদিন শুটিং দেখতে যাব। কে জানত শুটিং দেখতে গিয়েই মায়ায় পড়ে যাব!

 

ঢালিউডে তো আপনার পরিচিত কেউ ছিল না কিভাবে এগিয়েছিলেন?

প্রচেষ্টাই ছিল মূল পুঁজি। রাত-দিন পরিশ্রম করেছি। তবে নৃত্য পরিচালক আজিজ রেজা, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ও আফতাব খান টুলুর কথা ভোলার নয়। তাঁরাই আমার পথ মসৃণ করে দিয়েছেন। সাংবাদিকরাও ছিলেন পাশে।

 

এফডিসিতে প্রথমবার ঢুকেছিলেন কিভাবে, মনে আছে?

দারোয়ানকে ঘুষ দিয়ে ঢুকেছিলাম। আমার সঙ্গে কয়েকজন বন্ধুও ছিল। সবাই ভীষণ উত্তেজিত ছিলাম। তখন প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে শুটিং চলছিল। কোনো ফ্লোরেই ঢুকতে পারছিলাম না। পরে ঝরনা স্পটে গিয়ে প্রথম শুটিং দেখি।

 

মাসুদ রানা থেকে শাকিব খাননামটা কে দিয়েছিল?

সোহানুর রহমান সোহান ভাইসহ প্রথম ছবিটির ইউনিট বেশ কয়েকটি নাম পছন্দ করেছিলেন। সেখান থেকে আমিই শাকিব খান নামটি পছন্দ করেছিলাম।

 

অনন্ত ভালোবাসা মুক্তির পর ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে বরণ করে নিয়েছিল?

এক ছবি দিয়ে কি আর অবস্থান হয়!

তবে ছবিটি আমাকে পরিচিতি দিয়েছিল। তখনকার নির্মাতারা ছবিটি দেখতে হলে গিয়েছিলেন। আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন। এরপর অনেক গুণী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম।

 

স্ট্রাগলিং সময়ের কিছু কথা শোনাবেন?

আমি ছিলাম কাজপাগল। যখন যে চরিত্র পেয়েছি লুফে নিয়েছি। অনেক ছবি আছে, যেখানে আমি সেকেন্ড হিরো। ‘না’ করিনি। জানতাম, পর্দায় মুখ দেখাতে পারলেই নজর কাড়তে পারব। হয়েছেও তাই।

 

গত ২০ বছরে কতগুলো ছবি মুক্তি পেয়েছেহিসাব আছে আপনার কাছে?

সঠিক বলতে পারব না। আনুমানিক দেড় শতাধিক হবে।

 

আজকের শাকিব খান হওয়ার পেছনে কোন ছবিগুলোকে সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করবেন?

কোনোটিকেই ছোট করে দেখি না। ‘অনন্ত ভালোবাসা’, ‘আমার স্বপ্ন তুমি’, ‘কোটি টাকার কাবিন’ বা ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’—সব কটিই আমাকে নতুন করে চিনিয়েছে।

 

শাবনূর, পপি, মুনমুন, অপু, সাহারা বুবলীআপনাকে এই নায়িকাদের সঙ্গে বেশি দেখা গেছে আপনার চোখে সেরা কে?

শাবনূর যেকোনো চরিত্রে সহজে মানিয়ে যান। অপুর সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি ছবি হয়েছে, দর্শক পছন্দ করেছে বলেই তো নির্মাতারা নিয়েছেন! সাহারার সঙ্গে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি রয়েছে। এই সময়ে এসে বুবলী একটা নিজস্ব অবস্থান গড়ে নিয়েছে। পপি, মুনমুনরাও দারুণ অভিনয় করেন।

 

শুরুর দিকে মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌস, রুবেলের মতো নায়ককে প্যারালালি পেয়েছিলেন এখন তো বলতে গেলে আপনি একাই বাপ্পী, শুভ, সিয়ামরা তো প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে এমনটা কি আপনি চেয়েছিলেন?

প্রতিযোগিতা না থাকলে ভালো কাজ হয় কম। সব সময় চেয়েছি অন্তত পাঁচ-সাতজন প্যারালাল নায়ক-নায়িকা ইন্ডাস্ট্রিতে থাকুক। এতে ছবি নির্মাণও বাড়বে। কিন্তু কেন জানি সেটা হচ্ছে না। আমার শিডিউল নিয়েই সবার টানাহেঁচড়া। এটা কখনোই কাম্য নয়।

 

একসময় সুভা দেবদাস করেছিলেন এখন কেন সাহিত্যনির্ভর ছবি করছেন না?

‘সুভা’ ও ‘দেবদাস’ করেছি, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের গল্পে ‘এই তো প্রেম’ও করেছি। ‘সত্তা’র মতো ছবিকেও প্রাধান্য দিয়েছি। এখনো করতে চাই। কেউ ভালো গল্প নিয়ে আসুক, প্রয়োজনে নিজে প্রযোজনা করব।

 

 

অভিযোগ আছে, ক্যারিয়ারের শুরুতে যাঁরা আপনাকে সহযোগিতা করেছিলেন আপনি এখন তাঁদের এড়িয়ে চলেন

কারা এসব বলে বেড়ায়। গত বছরই তো আমার অভিনীত ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’তে আজিজ রেজা ভাই কাজ করেছেন। সোহান ভাইয়ের কথাও বলেছি প্রযোজকদের। কিছু দিন আগে এফ আই মানিক ভাইয়ের জন্যও একটি ছবির ব্যবস্থা করলাম। এর পরও বলবেন এড়িয়ে চলছি?

 

অনেকে বলেন, ইন্ডাস্ট্রির যত কলকাঠি সব নড়ে আপনার ইশারায়...

নিজের কাজ করে শেষ করতে পারি না, কলকাঠি নাড়ানোর সময় আছে! তবে হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে দু-একটা সিদ্ধান্ত নিই। সেটা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই নিই।

 

দুই দশকে আপনার সেরা অর্জন কী?

সবার আগে দর্শকদের ভালোবাসা। তারাই আমাকে শাকিব খান বানিয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি তিনবার। ভারতেও এখন আমি জনপ্রিয়। সীমানার গণ্ডি বেঁধে রাখতে পারেনি আমাকে—এটাও অর্জন।

মন্তব্য