kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

। ঈদের ছবি।

বসন্ত এসে গেছে

ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তিন ছবি নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন। অনন্য মামুনের ‘আবার বসন্ত’ নিয়ে প্রথম কিস্তি। ছবির প্রধান দুই অভিনেতা তারিক আনাম খান ও অর্চিতা স্পর্শিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বসন্ত এসে গেছে

কে যেন রটিয়ে দিয়েছিল তারিক আনাম খান আবার বিয়ে করতে যাচ্ছেন। মেয়েটা আবার খুবই অল্প বয়সী। তার সঙ্গে প্রেমও করতেন। হুলুস্থুল গুজব রটে যায় শোবিজে। একের পর এক ফোন তারিক আনাম খানের কাছে। আসল ঘটনাটা অবশ্য খুব তাড়াতাড়িই জানা গেল। অভিনেতা নতুন যে ছবিটি করছেন, সেটার গল্পই এমন। আড্ডার শুরুতে তারিক আনাম বললেন ছবির গল্পের কিছুটা। ষাটোর্ধ্ব এক সফল ব্যক্তির গল্প। জীবনের শুরুতে অনেক ঝড়ঝাপ্টা গেছে তার। সন্তান ও সংসারের জন্য নিজেকে নিয়ে আলাদা করে কখনো ভাবেনি। দুই ছেলে এক মেয়ে প্রতিষ্ঠিত। নাতি-নাতনিও আছে। সবাই যে যার জীবনে ব্যস্ত। প্রবীণ লোকটির আর সময় কাটে না। সেরা ব্যবসায়ীর পুরস্কারও তার একাকিত্ব কাটাতে পারে না, রাত কাটে মৃত্যুর কথা ভেবে। স্ত্রী মারা গেছে ১৫-১৬ বছর আগে। একদিন পরিবারের সদস্যদের ডেকে লোকটা জানায়, সে একজন সঙ্গী চায়। বাকি জীবন এই মেয়ের সঙ্গেই কাটাবে। ছেলে-মেয়েরা কিছুতেই তা মেনে নেবে না। পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেয় লোকটা। এই সূত্র ধরেই স্পর্শিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। 

বড় পর্দায় তারিক আনামের সঙ্গে স্পর্শিয়ার প্রথম অভিনয় এই ছবিতে। আগে নাটকে অভিনয় করেছেন তাঁরা। তারিক আনামের বয়সী নায়কের নায়িকা হওয়ার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার গল্প বললেন স্পর্শিয়া, “এর আগে অনন্য মামুনের সঙ্গে ‘বন্ধন’ করেছি। মামুন ও তার টিমের সবাই আমার পরিচিত। এমনিতেই একদিন ওর অফিসে গেলাম। সেদিন আমাকে গল্পটা শোনাল। ও কিছু বলার আগেই বললাম, মামুন, আমি ছবিটা করতে চাই। ও বলল, এটা তুমিই করবে। তোমাকেই ভেবে রেখেছি। মামুন অবশ্য দ্বিধায় ছিল, আমি করব কি করব না। এ কারণে ভয়ে গল্পটা শুনিয়েছিল।”

এই ছবি করতে রাজি হওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন তারিক আনামও, ‘যেকোনো অভিনেতার আকাঙ্ক্ষা থাকে ছবির প্রধান চরিত্র করার।  পাণ্ডুলিপি পাওয়ার পর মনে হয়েছে আমাকে নিয়ে এবং আমাকে ঘিরেই গল্প। সুস্পষ্ট একটা বক্তব্য আছে, যেটা বর্তমান সমাজের জন্য ভীষণ দরকারি। সুন্দর আনন্দ বিনোদনও আছে, এমন ছবি কেন করব না!’

স্পর্শিয়া জানালেন তারিক আনামের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথা, ‘নাটকের শুটিংয়ে তাঁকে সেভাবে জানতে পারিনি। ছবির শুটিংয়ে দীর্ঘ সময় আমরা একসঙ্গে কাটিয়েছি। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তিনি আমার চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক। চিন্তা-ভাবনা, চলন-বলন সব কিছুতেই। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যত মজা করেছি আমার সমবয়সী কারো সঙ্গেও আগে এতটা উপভোগ করিনি। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শুটিং করেছি, হাসিঠাট্টা আর ফুর্তিতেই কেটেছে সময়টা।’

তারিক ভাই আমার চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক... তাঁর সঙ্গে যত মজা করেছি আমার সমবয়সী কারো সঙ্গেও আগে এতটা উপভোগ করিনি

স্পর্শিয়ারও দারুণ প্রশংসা করলেন তারিক আনাম, ‘খুবই ভালো করেছে ও। আমি একা নই, যাঁরা সিনেমাটি দেখেছেন, এমনকি সেন্সর বোর্ডের সদস্যরাও তার খুব প্রশংসা করেছেন। ওর বয়সী একটা মেয়ে সিনিয়র কারো সঙ্গে জুটি গড়বে—এই সাহস অনেকেই করে না। আমাদেরই পরিচিত আরেকটি মেয়ে ছবিটি করতে রাজি হয়নি। স্পর্শিয়া সেখানে ভীষণ সাহসী এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজটি করেছে। যে কারণে আমিও স্বাচ্ছন্দ্যে অভিনয়টা করতে পেরেছি। ও বৃত্তের বাইরে গিয়ে ভাবতে পারে, এটা খুবই ভালো দিক।’

‘আবার বসন্ত’র স্পর্শিয়া ভীষণ চঞ্চল, হাসিখুশি। কিন্তু এই হাসি-খুশি মেয়েটারও অতীত আছে, অনেক কষ্টের গল্প আছে। স্পর্শিয়া বলেন, ‘ছবির গল্পের চেয়েও চরিত্রটা বেশি ভালো লেগেছে আমার।’ 

নিজের চোখে দেখা বাস্তবের একটা গল্প বললেন তারিক আনাম, ‘নাম বলব না। আমার পরিচিত এক মেয়ের বাবাকে নিয়েও এমন জটিলতা হয়েছিল। লোকটি বেঁচে নেই। তাঁকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক জিজ্ঞেস করলেন, উনার স্ত্রী কোথায়? ছেলে-মেয়েরা বলল, উনি মারা গেছেন ২০ বছর আগে। চিকিৎসক খুব বকেছিলেন ওদের, তোমরা তো খুব নিষ্ঠুর লোক। তোমার স্বামী আছে, সন্তান আছে। তাদের নিয়েই ব্যস্ত থাকো। কিন্তু এ মানুষটাকে কিভাবে এমন একা রাখলে!’ 

এই ছবি দর্শক কেন দেখবে? ছবির প্রধান দুই তারকার ভাষ্য প্রায় একই, ‘আমাদের সিনেমার গল্পে পরিবর্তন এসেছে। এখানে সামাজিক বক্তব্যগুলো খুব সিরিয়াসভাবে বলা হয়েছে তা কিন্তু নয়। দারুণ কিছু কমিক সিচুয়েশন আছে চিত্রনাট্যে। যারা একটু আধুনিক দর্শক, ভাবনার খোরাক চায়, আবার বিনোদনও চায়—তাদের কাছে খুব ভালো লাগবে ছবিটা।’ 

তারিক আনামের আরেকটি ছবি মুক্তি পাবে এবারের ঈদে—‘নোলক’। এখানে তিনি শাকিব খানের বাবা। বললেন এই ছবি নিয়েও, ‘এটাও খুব এন্টারটেইনিং সিনেমা। ঈদে বা উৎসবে আমরা যেমন ছবি পছন্দ করি তেমনই। হিরো-হিরোইন আছে, ভালো গানও আছে। ভালো বাজেটে তৈরি হয়েছে, এমন ছবি খুব দরকার।’

মুক্তির অপেক্ষায় আছে তারিক আনামের আরো তিনটি ছবি—‘বেপরোয়া’, ‘পেয়ারার সুবাস’ ও ‘সাপলুডু’। আর ঈদের পরপরই মুক্তি পাবে স্পর্শিয়ার ‘কাঠবিড়ালি’, তারপর ‘মানুষের বাগান’ ও ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’।

মন্তব্য