kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

পরিণত সাবিলা

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিণত সাবিলা

অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন, তবু এই পহেলা বৈশাখের তিনটি বিশেষ নাটকে দেখা যাবে তাঁকে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ফোন কম্পানির মডেল হয়েছেন। এ দুই প্রসঙ্গ তো আছেই, সাবিলা নূর বলেছেন তাঁর পরিণত হয়ে ওঠার কথাও। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন আতিক রহমান

 

একটি আন্তর্জাতিক মোবাইল ফোন কম্পানির বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়েছেন সাবিলা নূর। ২৭ ও ২৮ মার্চ দুবাইয়ে এটির শুটিং করে দেশে ফিরেছেন। কিন্তু পণ্যের নামটা কিছুতেই বলবেন না, এতে নাকি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যাবে। ‘রমজান মাসে এটি দেশটির প্রায় সব টিভি চ্যানেলে, এমনকি অন্য দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলেও প্রচারিত হবে, তখন এমনিতেই জেনে যাবেন’, বললেন সাবিলা।

বিজ্ঞাপনচিত্রটি নির্মাণ করেছেন সার্বিয়ার নির্মাতা পিটার প্যাসিক। আমেরিকায় বিজ্ঞাপনচিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এই পরিচালক। আইএমডিবিতে পরিচালকের প্রফাইল বেশ র‌্যাষ্টপুষ্ট। ২০০১ সালে নিউ ইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সলিটার’ ছবির জন্য সেরা নবাগত পরিচালকের পুরস্কার পান। নির্মাণ করেছেন বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও। এই নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলেন কিভাবে? ‘গত বছর এই ফোন কম্পানির একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছিলাম। এ বছর তারা আরো কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য ছয় মাসের চুক্তি করেছে আমার সঙ্গে। সেই চুক্তির প্রথম কাজ এটিই। আর ফোন কম্পানিটি কিন্তু নতুন, ঈদেই বাজারে আসবে।’

দেশের বাইরে বাংলাদেশের কত কত নাটকের শুটিং হয়। কিন্তু সাবিলার কখনো যাওয়া হয়নি। কারণ নাটকের শুটিংয়ে মাকে নিয়ে যেতে পারেন না। ‘অনেক বড় একটি সুযোগ আমার জন্য মানছি, তবে এই বিজ্ঞাপনটা করেছি আরেকটা কারণে—শুটিংয়ে আম্মুকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পেরেছি।’

সিনেমাটোগ্রাফার এসেছেন সার্বিয়া থেকে, সহকারী পরিচালক দক্ষিণ আফ্রিকার, মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন ভারত ও ব্রাজিলের। আর  সাবিলার সহশিল্পী ছিলেন দুবাইয়েরই। শুটিং নিয়ে সেখানে এমনই ব্যস্ত ছিলেন, আশপাশে নজর দেওয়ার সময়ও নাকি পাননি, ‘গর্জিয়াস লুকে দেখা যাবে আমাকে। শুটিংয়ের সময় দুপুরের খাবারও খাইনি, যদি মেকআপ-গেটআপ নষ্ট হয়ে যায়! শুটিং যখন শেষ হতো  সন্ধ্যা ৭টায়, তখন খেতাম দুপুরের খাবার।’

দেশে ফিরেই ঈদের নাটকের শুটিং শুরু করেছেন। তার আগেই পহেলা বৈশাখ। এবার চারটি নাটক প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর—তৌসিফের সঙ্গে ‘লাভ অ্যাট মিশন’, আফরান নিশোর সঙ্গে ‘একটি পুরাতন গল্প’ ও ‘সেইলর’ এবং ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে নাম ঠিক না হওয়া আরেকটি।

সাবিলাকে এখন নাটকে কমই দেখা যায়। কারণটাও বললেন, ‘আমি খুবই চুজি হয়ে গেছি। ব্যক্তিগত চিনপরিচয়ের কারণে নাটক হাতে নেওয়া বাদ দিয়েছি। সোজা কথা, আমার অনেক টাকা লাগবে না। কাজ করব গুনে-বেছে। মাসে একটি নাটকের শুটিং করলেও কোনো সমস্যা নেই। সেই কাজটা যেন দর্শকের মনে দাগ কাটে, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

উদাহরণ দিলেন, ‘গেল বছর দর্শক প্রতিটি নাটক দেখে কিন্তু আলাদাভাবে আমার প্রশংসা করেছে, যেটা আগে অতটা পাইনি। অনেকেই তো বলে, সাবিলা এখন পরিণত হয়ে গেছে। আর আমি পড়াশোনায়ও এখন বেশ সময় দিই। শুটিং ও পড়াশোনার যাতে মুখোমুখি সংঘর্ষ বেধে না যায় সে দিকটাও খেয়াল রাখতে হয়।’

এই যে সাবিলা পরিণত হয়েছেন বলছেন, এর সঙ্গে বিয়ের মতো খবরও কি দিতে যাচ্ছেন? ‘প্রেম করছি কি না সেটা এখন বলব না। তবে বিয়ে নিয়ে আরো অনেক অনেক পরে ভাবব। পড়াশোনাটা আগে শেষ করি। অভিনয়ে আরেকটু মনোযোগী হই। এখনো কত কী করার বাকি! সেগুলো বিয়ের আগেই করতে চাই। বিয়ে করলে সংসারটাও পারফেক্টলি করতে চাই’—বললেন সাবিলা নূর।

‘পরিণত সাবিলা’ সিনেমাও করতে যাচ্ছেন। সম্প্রতি কিছু সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যেগুলোতে অভিনয়ের প্রস্তাব শুরুতে এসেছিল তাঁর কাছেই। তখন করেননি। এখন ভাবছেন সিনেমা করবেন। তিনি চান শক্তিশালী গল্প। তেমন কিছু পাণ্ডুলিপি হাতে এসেছে, কথাও এগিয়েছে। শিগগিরই বিস্তারিত জানাবেন।

 

মন্তব্য