kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

এই বেশ ভালো আছেন

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই বেশ ভালো আছেন

‘ঘাতক’, ‘আখেরি রাস্তা’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’সহ অনেক ছবির নায়িকা তিনি। সর্বশেষ অভিনয় করেন ‘বউ শ্বাশুড়ির যুদ্ধ’তে। ২০০৫ সালে পাড়ি জমান লন্ডনে। ১৪ বছরে দেশে ফেরেননি একবারও। কেমন আছেন সোনিয়া? কী করছেন সেখানে? লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

 

দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা। পুরোদস্তুর সংসারী। সকালে ঘুম থেকে উঠে ছেলে-মেয়েকে স্কুলে দিয়ে চলে যান নিজের কর্মক্ষেত্রে। একটা প্রাইভেট কম্পানিতে পার্টটাইম চাকরি করেন। স্বামীর হোটেল ব্যবসা। ইচ্ছা থাকলেও সেখানে সময় দিতে পারেন না। প্রতি মঙ্গলবার ‘বেতার বাংলা’ নামের একটি রেডিও চ্যানেলে আরজেগিরি করেন। মাঝেমধ্যে মঞ্চনাটকেও অভিনয় করেন। লন্ডনের বাঙালি কমিউনিটির সঙ্গে বেশ ওঠাবসা তাঁর। কোনো নাটক মঞ্চস্থ করতে গেলেই সোনিয়াকে তাদের চাই! গত সপ্তাহেও করলেন বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’। সুলতানা হয়েছেন তিনিই। দারুণ সাড়া পেয়েছেন বলেও জানালেন, ‘মঞ্চে আমার অভিনয় দেখে দর্শক যখন আপ্লুত হন তখন অন্য রকম এক অনুভূতি তৈরি হয়। লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের কথা মনে পড়ে যায়। রিহার্সেলে পাণ্ডুলিপিটা হাতে নিলেই পুরনো সময়টা চোখে ভেসে ওঠে। ভীষণ নস্টালজিয়ায় ভুগি।’

১৪ বছর হলো লন্ডনে আছেন। একবারের জন্যও বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে উঠতে পারেননি। বেশ কয়েকবার টিকিট করেও পরে বাতিল করেছেন। জন্ম থেকেই বড় মেয়ে অসুস্থ। মানসিক বিকাশ হয়নি তার। প্রথম তিন বছর রাখতে হয়েছিল চাইল্ড কেয়ারে। বড় ছেলেরও জন্মের পর দেখা দেয় ত্বকের সমস্যা। সেটা নিয়েও কেটে গেছে দুই বছর। এরপর ছোট ছেলে। ৯ বছর শুধু তাদের পেছনেই সময় কেটেছে সোনিয়ার। বাকি পাঁচ বছর গেল সংসার সাজাতে। ‘আমি মানসিকভাবে খুব শক্ত। সবকিছু মানিয়ে নিতে পারি। এই যে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনদের না দেখে এতটা বছর এখানে আছি, একটুও কষ্ট পাই না। ছেলে-মেয়েদের মুখ দেখলে সব সামলে নিতে পারি। তবে আশা আছে এই ডিসেম্বর নয়তো পরের ডিসেম্বরে দেশে যাব’—বললেন সোনিয়া।

সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ৫টা ৩০ মিনিটে বেতারে হাজির হন। ‘চিত্রমণিহার’ নামের দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও গ্রন্থনা সোনিয়ারই। চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা থেকে শুরু করে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, চিত্রনাট্যকার, মারপিট পরিচালক—একেক দিন একেকজনের জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। প্রসঙ্গক্রমে মাঝেমধ্যে নিজের কথাও চলে আসে। কিছুদিন আগে দীলিপ বিশ্বাসকে নিয়ে পর্ব সাজাতে গিয়ে খেয়াল করলেন তাঁর বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। স্মৃতিকাতর হয়ে শ্রোতাদের শোনান নিজের অভিনীত ছবির একটি গান। বাংলাদেশ থেকে কোনো তারকা লন্ডনে গেলে সোনিয়া তাঁকে আমন্ত্রণ জানান হট সিটে। শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলিয়ে দেন। এর মধ্যে দুবার ইলিয়াস কাঞ্চন উপস্থিত হয়েছিলেন ‘চিত্রমণিহার’-এ।

এখন আর চলচ্চিত্রে নেই, এটা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন সোনিয়া। বরং চলচ্চিত্র থেকে দূরে আছেন বলে ভালো আছেন। বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খুব চিন্তিত। আমাদের সময়ে বছরে ৮০-৯০টি ছবি হতো। এখন হয় ৩০-৩৫টি। এত দিনে হয়তো আমাকে ভাবি নয়তো মায়ের চরিত্রে ডাকা হতো। তাও কাজ পাওয়ার জন্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকতে হতো। এমন পরিণতি আসার আগেই চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে এসেছি, সৌভাগ্যই বলতে হবে।’

কামাল আহমেদ, দেওয়ান নজরুল, দীলিপ বিশ্বাস, দীলিপ সোম, বাদল খন্দকার, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ছটকু আহমেদ, সোহানুর রহমান সোহান, রায়হান মুজিব, নূর মোহাম্মদ মণি, দেবাশীষ বিশ্বাসের মতো পরিচালকদের ছবিতে অভিনয় করেছেন। রিয়াজের অভিষেক ছবি ‘বাংলার নায়ক’-এ নায়িকা হয়েছিলেন। মনে আছে সেটাও, ‘রিয়াজ খুব লজ্জাটে স্বভাবের ছিল। সেটে চুপচাপ বসে থাকত। আমিই ওকে সহজ হতে সাহায্য করি। ইউনিটে অনেক হাসি-ঠাট্টা করতাম ওর সঙ্গে।’

সালমান শাহ, ওমর সানী, অমিত হাসান, আমিন খানের মতো তারকারা একের পর এক ছবিতে সোনিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন। জীবনে এটাই অনেক পাওয়া বলে মনে করেন সোনিয়া। চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রের মানুষদের এখনো কাছের মানুষ তিনি। শাবনূরের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন ফেসবুকে। ওমর সানীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথা বলেছেন গত সপ্তাহেই। অমিত হাসানও নিয়মিত খোঁজখবর নেন তাঁর। তা ছাড়া দেবাশীষ বিশ্বাস ভালো বন্ধু, শাহীন আলম অনেক সাদা মনের মানুষ, মৌসুমীর হাসিটা এখনো মিস করেন বলে জানালেন। বিদেশ-বিভুঁইয়ে সত্যিই ভালো আছেন তো? তৃপ্তির হাসি হেসে বললেন, ‘প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে থাকলেও বলতে হবে, এই বেশ ভালো আছি।’

সোনিয়া তখন। ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র শুটিংয়ে সালমান শাহ ও আজিজ রেজার সঙ্গে

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা