kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টিটোর স্বাধীনতা

স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশ পাচ্ছে অবসকিওরের ১৩তম অ্যালবাম ‘টিটোর স্বাধীনতা’র টাইটেল। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আসবে পুরো অ্যালবাম। গানগুলোর নেপথ্যের গল্প শুনিয়েছেন ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও ভোকাল সাঈদ হাসান টিপু

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিটোর স্বাধীনতা

টিটোর স্বাধীনতা

একাত্তরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল কিশোর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা টিটো। টিটোর মা-বাবাকে গুলি করে মেরেছিল পাকিস্তানি হানাদাররা। কোনোমতে পালিয়ে সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের কাছে হাজির হয় সে। অনেক বুঝিয়েও টিটোর সংকল্পের কাছে হার মানেন খালেদ। টিটো যোগ দেয় কমান্ডার মানিক ও কমান্ডার নাসির উদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সে। সাভার ডেইরি গেটের ডান পাশে রয়েছে তার কবর। তাকে নিয়েই এ গান। লিখেছেন কলকাতার কবি অমিত গোস্বামী। টিটোকে নিয়ে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ২৬ পৃষ্ঠার একটি বই আছে—‘টিটোর স্বাধীনতা’। সেখান থেকেই উৎসাহটা পেয়েছি। ২০১৪ থেকে মুক্তিযুদ্ধ আর দেশ নিয়ে গান করছি। ক্র্যাক প্লাটুন ও আজাদকে নিয়ে পুরো অ্যালবাম করেছি। এই মানুষগুলোকে নিয়ে বলার মানুষ খুব কম। তাঁদের সেভাবে স্মরণও করা হয় না। সে কারণেই আমরা তাঁদের নিয়ে গান করছি। মানুষকে তাঁদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানানোই এর উদ্দেশ্য।

 

সুরের বরপুত্র

লুৎফর রহমান রিটনের কথায় শহীদ আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে গান। আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে দিনু বিল্লাহর লেখা বইয়ের শুরুতে লুৎফর রহমান রিটনের এই কবিতাটি আছে ‘সুরের বরপুত্র’ নামে। কবিতাটি পড়ে মনে হলো, এটা থেকে গান হতে পারে। রিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু কবিতার কথা এদিক-সেদিক করা যাবে না। সুর করার পর দেখি, একটি লাইন কোনোভাবেই বসছে না। বলার পর তিনি রাজি হন লাইনটি পরিবর্তন করে দিতে। এভাবে গানটি হয়।

 

আমার পিছে মিথ্যার আসন

কবি মহাদেব সাহার লেখা। অমি রহমান পিয়ালের কথায় ‘জাতির পিতা’ শিরোনামের একটি গান করেছিলাম। মহাদেব সাহার কবিতাটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন পিয়াল। সেখানে একজন মন্তব্য করেন, এটাকে গান করা যায় কি না! পিয়াল পোস্টটি আমাকে ট্যাগ করেন। কবিতাটি দেখামাত্র পছন্দ হয়। মহাদেব সাহাকে খুঁজে পেতে কিছুটা সময় পেরিয়ে যায়। প্রথমে শুনি কানাডায়, শেষ পর্যন্ত উত্তরায় খুঁজে পাই। তাঁকে ফোন করে অনুমতি নিই।

নস্টালজিয়া

স্কুলজীবনে ফিরে যাওয়ার গান। ছোটবেলায় আমরা যেভাবে বেড়ে উঠেছি, বন্ধু-বান্ধব এসব নিয়ে স্মৃতিচারণা করে। গানটির মধ্যে বন্ধুরা আছে। আমার স্ত্রী শাওনের সঙ্গে পরিচয়-পরিণয়ের কথা আছে। অমিত গোস্বামীর লেখা। অনেক দিন আগে পাঠিয়েছিলেন।

 

রঙিন শাড়ি

দেশ টিভির সংবাদ পাঠিকা সোনিয়া স্নিগ্ধা ধরেছিলেন তাঁর লেখা একটি গান করার জন্য। তাঁর পাঠানো চার-পাঁচটি গান ভেঙেই এটি করা। সুরটি পাহাড়ি ধরনের।

 

যাও

গীতিকার মাহমুদ আকাশ তাঁর লেখা কিছু গান ফেসবুকে পাঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে এই গানটি বাছাই করা। দ্রুত লয়ের রোমান্টিক গান এটা।

 

তোমার বুকে দুঃখ আমার রেখে

আমার স্কুলের বন্ধু মিল্টন হাসনাত। এখন অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। আগের অ্যালবামে তার কথায় গান ‘ঝুম বৃষ্টি’ করেছিলাম। তার খুব ভালো লাগে গানটি। এবার অ্যালবামের পরিকল্পনার সময় তাকে বললাম লিখতে। তার পরই এটা পাঠিয়ে দেয়। গানটি সাত মাত্রার। খুবই রোমান্টিক। ঢাকায় আসার পর তাকে ডেমো শোনাই। তাতেই সে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে।

 

নিরুদ্দেশ

এটিও অমিত গোস্বামীর লেখা। অমিতের একটাই মেয়ে। সেই মেয়েরও আবার একটাই মেয়ে। ও কলকাতায় এসেছিল। অনেক দিন থেকেছে। ফেরার সময় অমিত যখন তাকে এয়ারপোর্টে তুলে দিতে যান, তখন তাঁর খুব মন খারাপ হয়। সে সময় গানটি লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। নাতনির জন্য তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে গানটিতে।

অনুলিখন : আতিফ আতাউর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা