kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

‘না’ বলতে শিখেছেন

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘না’ বলতে শিখেছেন

হাবিব ওয়াহিদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশিত হলো সাবরিনা পড়শীর নতুন গান ‘আবাহন’। আরো পাঁচটি গান নিয়ে প্রস্তুত এই গায়িকা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

 

দুই বছর ধরে জাগো এফএম ‘পড়শী নাইট’ অনুষ্ঠানটি করছে। প্রতি রবিবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হয় এই লাইভ শো। এখানে শ্রোতারা সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এই সুযোগে নতুন গানের খবর জানতে চেয়ে পড়শীকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতেন শ্রোতারা। ফেসবুক পেজে কমেন্ট করে এবং মেসেজ পাঠিয়েও জানতে চাইতেন একই কথা, নতুন গান কবে আসবে? শ্রোতাদের সেই অপেক্ষার পালা শেষ হলো ১ ফেব্রুয়ারি। হাবিব ওয়াহিদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশিত পেয়েছে পড়শীর নতুন গান ‘আবাহন’। সুর ও সংগীতায়োজনে হাবিব ওয়াহিদ।

এই গানের নেপথ্যের গল্প বললেন, “হাবিব ভাইয়ার সঙ্গে আমার নিয়মিতই যোগাযোগ হয়। ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিন্ন ধরনের একটি গান করাতে চেয়েছিলেন আমাকে দিয়ে। ‘আবাহন’-এর লিরিক পাওয়ার দুই দিন পরই আমাকে পাঠিয়ে দেন। তিন দিন পরই ডাকেন গানের স্কেল ঠিক করার জন্য। সেদিন রেকর্ড করার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। কিন্তু আমার কণ্ঠে গানটি শুনে তখনই রেকর্ড করার বন্দোবস্ত করেন হাবিব ভাই। পুরো গানটি গাইতে সময় লেগেছে মাত্র দুই ঘণ্টা!”

গানটির ভিডিও খুবই সাদামাটা। স্টুডিওতে হাবিব বাজাচ্ছেন আর গাইছেন পড়শী। সাদামাটাভাবেই নাকি করতে চেয়েছিলেন ভিডিওটি। ‘ভিডিওর আড়ালে অনেক সময় গানটাই চাপা পড়ে যায়। গানের কথা লিখেছেন নতুন গীতিকার ফৌজিয়া সুলতানা পলি। দারুণ লিখেছেন। আমরা চাইনি ভিডিওর আড়ালে এমন সুন্দর কথার গান চাপা পড়ে যাক। চেয়েছি শ্রোতারা যেন শুধু গানেই মনোযোগটা দিতে পারেন’—বললেন পড়শী।

গত বছর এপ্রিলে প্রকাশ করেছিলেন ‘রাস্তা’, ৯ মাস পর ‘আবাহন’। আগে কখনোই এত লম্বা সময় গান প্রকাশ না করে থাকেননি। পড়শী বলেন, ‘আসলে ভালো কিছুর অপেক্ষায় ছিলাম। খারাপ গান করে শ্রোতা নষ্ট করতে চাইনি। তা ছাড়া এই বিলম্বের কারণও গান। পাঁচটি গান তৈরি করেছি এই সময়ে। এখন ব্যাক টু ব্যাক প্রকাশ করব।’

পাঁচটির মধ্যে দুটি ইমরান মাহমুদুলের সঙ্গে, বাকি তিনটি ভারতীয় এক শিল্পীর সঙ্গে। এর মধ্যে একটি গেয়েছেন নিজের সুরে। ভারতীয় সংগীতশিল্পীর নামটা অবশ্য এখনই জানাতে চাইলেন না পড়শী। কিছু চমক রেখে দিতে চান।

কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ততা তো আছেই। সর্বশেষ গেয়েছেন বাহ্মণবাড়িয়ার কসবায়। সামনেই যাবেন রংপুর। পড়াশোনায় একটা পরিবর্তন আনতে চাইছেন। সাংবাদিকতায় পড়তেন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে, ভাবছেন সাবজেক্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন করবেন। পড়বেন আইন বিষয়ে। হঠাত্ আইনে আগ্রহী হওয়ার কারণ? ‘আমি কঠিন বিষয়টাকেই সব সময় ভালোবাসি। কেন জানি একটা এক্সপেরিমেন্ট করার ইচ্ছা জাগল’—বললেন পড়শী।

জানালেন ব্যান্ড ‘বর্ণমালা’র কথাও। বর্ণমালার সঙ্গে এখন শুধু কনসার্টই করে বেড়াচ্ছেন। কনসার্টের বাইরে বর্ণমালার আপাতত আর কোনো খবর নেই। সিলেবাসের বাইরের বই পড়তে খুব পছন্দ করেন। অবসরের বেশির ভাগ কেটে যায় বই পড়ে আর গান শুনে। বই কিনতে গত বছর বইমেলায় গিয়েছিলেন। এবারও বইমেলায় দেখা যাবে তাঁকে। বলেন, ‘আমার অত্যন্ত প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ স্যার। তিনি চলে যাওয়ার পর বইমেলায় যাওয়ার আগ্রহ অনেক কমে গেছে। তবু নতুন বই ও লেখকদের খোঁজ পেতে বইমেলায় যাই। এবারও যাওয়ার ইচ্ছা আছে।’

চ্যানেল আইয়ের রিয়ালিটি শো ‘ক্ষুদে গানরাজ’ থেকে উঠে এসেছিলেন আজকের পড়শী। সেও অনেক বছর আগের কথা। নামবদল হয়ে গেছে তার উঠে আসার মঞ্চটির। তিনিও আর আগের পড়শী নেই। খুব কি বদলে গেছেন? “না। আগের সেই পড়শীই আছি। এখনো অনেকে আমাকে সেই ছোট্ট পড়শী হিসেবেই দেখেন। তবে আগে যেমন কোনো কিছু না ভেবেই ‘হ্যাঁ’ বলে দিতাম, এখন আর সেটি করি না; এখন আমি ‘না’ বলতে শিখে গেছি”—বলেন পড়শী।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা