kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

প্রেমের নাটক নির্মাতাদের প্রিয় প্রেমের ছবি

চয়নিকা চৌধুরী, শিহাব শাহীন, কৌশিক শংকর দাশ, আশফাক নিপুণ ও মিজানুর রহমান আরিয়ান—প্রেমের নাটক বানিয়ে খ্যাতি পেয়েছেন পাঁচজনই। তাঁদের প্রিয় প্রেমের ছবির খবর জেনেছেন মীর রাকিব হাসান

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রেমের নাটক নির্মাতাদের প্রিয় প্রেমের ছবি

‘মনপুরা’য় চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলি

অবুঝ মন

চয়নিকা চৌধুরী

কয়েকটা প্রজন্মের ছবি আমার দেখা। একটা সময় ‘অবুঝ মন’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘নয়নের আলো’ দেখে রীতিমতো কেঁদেছি। এর পরের ধাপে ভালো লাগল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘মনের মাঝে তুমি’। সর্বশেষ ভালো লাগল ‘পোড়ামন ২’। রাজ্জাক, শাবানা, সুজাতা অভিনীত কাজী জহিরের ‘অবুঝ মন’ আমার সবচেয়ে প্রিয়। মায়ের সঙ্গে মধুমিতা হলে গিয়ে ছবিটা দেখেছিলাম। গান থেকে শুরু করে অ্যাক্টিং—এই ছবির সবই ভালো লেগেছে। এখনো গানগুলো গুনগুন করে গাই। এসব ছবির কোথায় যেন একটা ম্যাজিক ছিল। আমাদের সময় প্রেমটা অহরহ ঘটত না। প্রেমিকের সঙ্গে দেখা হলে মনে হতো, হাত ছোঁব না। কিন্তু সেই না ছুঁয়ে থাকার মধ্যে ভালোবাসার আকুলতা ছিল। দেখামাত্রই হাত-পা কাঁপা শুরু হতো। এই হাত-পা কাঁপাকাঁপিতেই সত্যিকারের প্রেম ছিল। এখনকার সময়ে ‘আই লাভ ইউ’, ‘আই মিস ইউ’ যেমন; তেমনি ‘গো অ্যাওয়ে’, ‘গেট আউট’, ‘লিভ মি’ একই। কোনো ইমোশন নেই এখন।

 

সুজন সখী

শিহাব শাহীন

খান আতাউর রহমানের ‘সুজন সখী’ আমার খুবই পছন্দের। এখনকার রোমান্টিক বাংলা ছবি খুব একটা দেখিনি। ওপার বাংলার ছবি দেখাই হয় না। সত্তর-আশির দশকের ছবিগুলো এখনো আমাকে টানে—‘সুজন সখী’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘ময়নামতি’, ‘অবুঝ মন’। দুই টাকা দামের টিকিট কেটে দেখতাম। স্কুল পালিয়ে ফেনীর দুলাল সিনেমা, সুরতমহল হলে এসব ছবি দেখেছিলাম। সেই বয়সে এই ছবিগুলো মনে দাগ কেটেছিল। এখনো দেখলে খারাপ লাগে না। সংলাপের কারণে ‘সুজন সখী’কে ন্যাচারাল ও রিয়ালিস্টিক মনে হয়। টেকনিক্যালি হয়তো এখনকার মতো উন্নত ছিল না, তবু সংলাপ, চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের কারণে ছবিগুলো উপভোগ্য। পরবর্তীকালে অবশ্য ‘মনপুরা’ ভালো লেগেছিল।

 

‘নয়নের আলো’তে জাফর ইকবাল ও সুবর্ণা মুস্তাফা

নয়নের আলো

কৌশিক শংকর দাশ

ছোটবেলায় একটা ছবি খুব দেখেছিলাম—‘অনন্ত প্রেম’। তখন বয়স কম ছিল, ১২ কি ১৩। তখন মনে হয়েছিল, গল্পটা খুব রোমান্টিক। রোমান্টিক বিষয়টা কী, সেটা বুঝে ওঠার পর মনে খুব দাগ কেটেছিল ‘নয়নের আলো’। বেলাল আহমেদের এই ছবিতে অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল, সুবর্ণা মুস্তাফা, কাজরী। ছবির গানগুলো এখনো জনপ্রিয়। ‘আমার বুকের মধ্যিখানে মন যেখানে হৃদয় সেখানে’ অ্যান্ড্রু কিশোর ও সামিনা চৌধুরীর গাওয়া। আমি তখন কলেজে পড়ি। ছবিটি সেই অর্থে রোমান্টিক গল্পের নয়। তবে আমার কাছে খুবই রোমান্টিক লেগেছিল। মনের না-বলা কথা জাফর ইকবালকে বলতে যাবেন সুবর্ণা, তখনই দেখা যায় জাফর ইকবালের আগের প্রেমিকা তাঁর সামনে উপস্থিত। বলতে গিয়ে বলতে না পারার বিষয়টা আমাদের প্রজন্মের সবাইকে খুব টেনেছিল। তরুণ মজুমদারের ‘ভালবাসা ভালবাসা’ও মনে অসম্ভব দাগ কেটেছিল। অভিনয়ে দেবশ্রী রায় আর তাপস পাল। সেই সময়ে বাংলাদেশের তরুণ দর্শকরা ভিডিও ক্যাসেট ভাড়া করে কিভাবে টালিগঞ্জের ছবি দেখত, এ প্রজন্মের অনেকে সেটা কল্পনাও করতে পারবে না। তবে চট করে যদি বলতে বলা হয় আমার প্রিয় রোমান্টিক বাংলা ছবি কোনটি, ‘নয়নের আলো’কেই এগিয়ে রাখব।

 

‘ব্যাচেলর’-এ শাবনূর ও ফেরদৌস

ব্যাচেলর

আশফাক নিপুণ

আমার কাছে মোস্ট মডার্ন লাভ স্টোরি মনে হয়েছে ‘ব্যাচেলর’কে। ছবিটা চট্টগ্রামে দেখেছিলাম। আমি তখনো ঢাকায় আসিনি। আমাদের মাথায় রোমান্সের একটা টিপিক্যাল আইডিয়া গেঁথে আছে। বয় মিটস গার্ল, কিছু একটা ঝামেলা হবে—শেষে বিচ্ছেদ, নয়তো মিলন। ‘ব্যাচেলর’-এর যেটা আমাকে আকর্ষণ করেছে, অনেকগুলো কেমিস্ট্রি দেখানো হয়েছে। ২০০০ সাল পরবর্তী প্রেম আসলে কেমন, আসছে দিনে কেমন হবে, সেটা ‘ব্যাচেলর’ অনেক আগেই দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলা সিনেমায় এই প্রেমকাহিনি আগে আমরা কখনো দেখিনি। যেমন ফিসফিস করে মোবাইলে কথা বলা, লিটনের ফ্ল্যাট। ১৫ বছর পরে এসে কিন্তু আমরা একই জিনিস দেখছি। ‘ব্যাচেলর’-এ একটা পুরনো গান ব্যবহৃত হয়েছে, ‘আজকে না হয় ভালোবাসো আর কোনোদিন নয়।’ গানটি এখনকার জন্য পুরোপুরি প্রযোজ্য। আজকের ভালোবাসা আজকেই। ব্রেকআপ হলে কাল আরেকজনের দিকে হাত বাড়াব। ‘ব্যাচেলর’ গ্রেটেস্ট লাভ স্টোরি নয়। আমার কাছে স্পেশাল মনে হওয়ার কারণ, এটা সময়ের আগে বানানো সিনেমা। এখনো আমরা ফোনে বা ফেসবুকে কথা বলা শুরু করে ডেটিং পর্যন্ত চলে যাই। এখনো অপি করিমের মতো কনফিউশন আমাদের মধ্যে আছে। সেটাই হচ্ছে গ্রেট সিনেমা, যেটা সময়ের আগে সময়ের গল্প বলে। প্রেমের ইস্যুতে এই ‘ব্যাচেলর’ অনেক নতুন ইস্যু এনেছে সে সময়। খুবই বাস্তব। আর লাভ স্টোরিগুলো অনেক লেয়ারড, মাল্টিলেয়ার ফিল্ম। ‘ব্যাচেলর’-এর চেয়েও বিখ্যাত অনেক রোমান্টিক সিনেমা হয়েছে। কিন্তু ‘ব্যাচেলর’-এ আমি আমাকে পাই, আপনাকে পাই, আমার সহকর্মীদের পাই।

 

মনপুরা

মিজানুর রহমান আরিয়ান

আমাদের প্রজন্মের প্রিয় রোমান্টিক সিনেমা ‘মনপুরা’। সহজ-সরল প্রেমের গল্প। প্রেমের আবেদনেই গল্পটা এগিয়েছে। কোথাও মনে হয়নি গল্প টেনে বাড়িয়েছে। ভালোবাসা যত সরল, তার গভীরতা তত বেশি। এই সিনেমায়ও সেটা দেখা গেছে। আমার সব সময় মনে হয়, একজন মানুষের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে বলে তাকে ভালোবাসির চেয়ে আমি মানুষটাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তাই তাকে ভালোবাসি—এটার গভীরতা বেশি। এই বিষয়টা ‘মনপুরা’য় আছে। গানগুলো অসাধারণ। গিয়াসউদ্দিন সেলিম ভাইয়ের নির্মাণসহ যাঁরা অভিনয় করেছেন, সবাই মুগ্ধ করেছেন। প্রতিটি দৃশ্য ভালো লাগার।

 

‘নয়ন মণিতে ফারুক ও ববিতা


মন্তব্য