kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

তাঁদের প্রিয় প্রেমের ছবি

ঢালিউডের সবচেয়ে বেশি হিট প্রেমের ছবির নায়িকা শাবনূর এবং নায়ক রিয়াজ। এই দুজন জুটিবদ্ধ হয়েও উপহার দিয়েছেন বেশ কয়েকটি সফল প্রেমের ছবি। দুজনই বলেছেন তাঁদের দেখা প্রিয় পাঁচটি প্রেমের ছবির কথা। কেন প্রিয়, বলেছেন সেটাও। লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তাঁদের প্রিয় প্রেমের ছবি

‘স্বপ্নের ঠিকানা’র নাটকীয় দৃশ্যে শাবনূর, সোনিয়া ও সালমান শাহ

শাবনূরের প্রিয় ৫

স্বপ্নের ঠিকানা [১৯৯৫]

সালমান শাহর সঙ্গে আমার এই ছবি সে সময় গ্রাম ও শহরের দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয় হয়েছিল। হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছিলাম আমিও। দর্শকের উন্মাদনা দেখেছি নিজের চোখে। ছবিটি আমার প্রিয় হওয়ার কারণ, প্রথমবার দর্শক আমাকে পরিণত শাবনূর হিসেবে পেয়েছিল এখানে। আমার কাছেও মনে হয়েছিল, পর্দায় নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি। এখনো ছবিটি দেখলে আত্মতৃপ্তি কাজ করে।

 

তোমাকে চাই [১৯৯৬]

মতিন রহমানের বেশ কয়েকটি রোমান্টিক ছবি করেছি। দর্শকও পছন্দ করেছে। তবে প্রথম ছবি ‘তোমাকে চাই’ একটু অন্য রকম। ধনী-গরিবের সেন্টিমেন্ট নিয়ে গল্প। গানগুলো এখনো জনপ্রিয়। আর দশটা প্রেমের ছবির চেয়ে এর গল্পটা পরিণত। আমি আর সালমান পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছিলাম। এই ছবির পর সালমান-শাবনূর জুটি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল।

আনন্দ অশ্রু [১৯৯৭]

এটিও ধনী-গরিবের প্রেমের ছবি। আমি গ্রামের কিশোরী, সালমান শহরের কবি। ভালোবাসা কী তা বুঝে ওঠার আগেই কবির প্রেমে পড়ে গেলাম। প্রেমের কারণে সালমানকে পাগল বানায় তার পরিবার, আমাকেও ভিটামাটিছাড়া করে। মনের মতো একটা চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সালমানের মৃত্যুর পর গল্পটা এদিক-ওদিক করতে হয়। তবু পুরো ছবি না দেখে উঠতে পারবে না দর্শক।

 

বিয়ের ফুল  [১৯৯৮]

হিন্দি ‘দিওয়ানা’র রিমেক। প্রথমে করব কি করব না, সন্দিহান ছিলাম। বিবাহিত নারীর চরিত্র। মনে হয়েছিল, বিয়ের পর বাঙালি নারী প্রেমে পড়বে সেটা কি দর্শক গ্রহণ করবে! চ্যালেঞ্জ নিলাম। আমার বিপরীতে রিয়াজ আর শাকিল খান। রেকর্ড ব্যবসা করল। এই ছবির পর আমাদের তিনজনকে নিয়ে একের পর এক ছবির প্রস্তাব আসতে লাগল।

 

নারীর মন [১৯৯৯]

ত্রিভুজ প্রেমের গল্প। তখন আমি, রিয়াজ আর শাকিল খান মানেই ছবি হিট। শক্ত গল্প না হলেও চলে। কিন্তু ‘নারীর মন’-এ জোর দেওয়া হলো গল্পকেই। দুই বন্ধু ভালোবাসে এক মেয়েকে। যখন দুজনই বিষয়টি জানতে পারে, তখন একে অন্যকে লুকিয়ে ভালোবাসা বিসর্জন দিতে চায়। ভালোবাসা নয়, বন্ধুত্বকে বড় করে তুলতে চায়। কিন্তু মাঝখানে মেয়েটি পড়ে উভয়সংকটে। সিনেমাটি তখন মেয়েদের কাছে যেমন প্রিয় হয়েছিল তেমনি ছেলেরাও লুফে নিয়েছিল।

 

রিয়াজের প্রিয় ৫

মনের মাঝে তুমি [২০০২]

আমার অভিনীত অন্যতম সেরা ছবি। প্রেমিক তার প্রেমিকাকে কতটা ভালোবাসতে পারে বা একজন প্রেমিকা তার প্রেমিকের জন্য কত দিন অপেক্ষা করতে পারে, তা-ই এ ছবির মূল। ছবিতে যেমন রোমান্টিকতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কমেডি ও ড্রামা। চিরাচরিত ধনী-গরিবের সেন্টিমেন্টও দারুণভাবে উঠে এসেছে। তা ছাড়া সে সময়কার অন্যান্য বাংলা ছবির গানের চেয়ে এই ছবির গানগুলো ভিন্ন। দর্শক-শ্রোতারাও লুফে নিয়েছিল ‘মনের মাঝে তুমি’ কিংবা ‘আকাশে বাতাসে’ গানগুলো।

 

‘হৃদয়ের কথা’য় পূর্ণিমা ও রিয়াজ

হৃদয়ের কথা [২০০৬]

প্রেম কখন কার মধ্যে জেগে উঠবে, কে কার সঙ্গে প্রেমে পড়বে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন। এই ছবিটির নির্মাণের সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গল্পে দেখানো হয়েছে, এক সুপারস্টার গায়ক হঠাৎ এক সাধারণ মেয়ের প্রেমে পড়ে এবং সেই প্রেমের জন্য নিজের ক্যারিয়ার জলাঞ্জলি দিতেও পিছপা হয় না। ছবিটি যখন তৈরি হয়, তখন চলচ্চিত্রে অস্থির অবস্থা চলছিল। ‘হৃদয়ের কথা’ দর্শক গ্রহণ করবে কি না তা নিয়ে আমরা সন্দেহে ছিলাম। কিন্তু ভালো ছবি যে কখনো ফেল করে না সেটা প্রমাণ করে ‘হৃদয়ের কথা’। কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছিল ছবিটি।

 

বিয়ের ফুল [১৯৯৮]

মতিন রহমান মানেই প্রেমের ছবি এবং তা দর্শকের ভালো লাগতে বাধ্য। ত্রিভুজ প্রেমের এই ছবি একটু অন্য রকম। একজন যুবক ও বিবাহিত নারীর প্রেমে পড়ার গল্প দিয়ে এগোয় ছবি। ছবির গান ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’ এখনো অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্যয়বহুল এই ছবির প্রধান আকর্ষণ ছিল সংলাপ ও ড্রামা। এখনো সময় পেলে ছবিটি দেখি।

 

টাইটানিক [১৯৯৭]

আমার দেখা অন্যতম সেরা রোমান্টিক ছবি। বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গল্প। পরিচালক সেই গল্পে এমনভাবে প্রেম তুলে এনেছেন, এককথায় অসাধারণ। টাইটানিক ডুবে যাওয়ার ঘটনা ছাপিয়ে জ্যাক আর রোজকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন নির্মাতা। ছবিটি এখন পর্যন্ত কতবার দেখেছি তার হিসাব নেই। অসাধারণ নির্মাণশৈলী আর চমৎকার সব সংলাপ আমাকে এখনো মোহিত করে।

 

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে [১৯৯৫]

চঞ্চল দুটি ছেলে-মেয়ের জার্নি নিয়ে এই ছবি। কিশোর মনকে যেমন ছবিটি নাড়া দেয়, তেমনি যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের মনেও আরেকবার প্রেমে পড়ার ইচ্ছা তৈরি করে। প্রতিটি গান মনে রাখার মতো। বিশেষ করে শাহরুখ খান আর কাজলের পর্দা রসায়ন আমার কাছে বাস্তব মনে হয়। মনে হয় জীবন্ত দুই ছেলে-মেয়ে আমার সামনে বসে তাদের গল্প বলে যাচ্ছে। ছবিটিতে পাশ্চাত্যের পাশাপাশি ভারতের ঐতিহ্যের দারুণ সংমিশ্রণ ঘটেছে। বলিউডের ইতিহাসের সেরা রোমান্টিক ছবি হয়েই থাকবে এটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা