kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কী নাম কেন দিয়েছিলাম

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কী নাম কেন দিয়েছিলাম

বেতারে ঢালিউডের প্রায় সব তারকার জন্য উপাধি নির্ধারণ করেছিলেন মাজহারুল ইসলাম। অনেক তারকা পরে তাঁর দেওয়া উপাধিতেই পরিচিতি পেয়েছেন। কী বিবেচনা করে এসব উপাধি দিয়েছিলেন? জানালেন নিজেই

 

আমার কাজ দর্শক-শ্রোতার কাছে অভিনয়শিল্পীদের তুলে ধরা। বিশেষ কারণে যে এসব নাম দিয়েছি তা কিন্তু নয়। ছবি ও তার কলাকুশলীদের তুলে ধরার জন্যই এসব বিশেষণ দিতে হতো। প্রযোজক-পরিচালক ও শিল্পীদের কাছ থেকে অ্যাপ্রুভাল নিয়ে বেতারে তাঁদের বিশেষণ প্রচার করতাম। অনেক সময় প্রযোজক-পরিচালকও বলে দিতেন কাকে কী উপাধি দিতে হবে। রেডিওতেও সেন্সর করাতে হয়। বাড়িয়ে কিছু বললে ওরা সেন্সর করে দিত। স্ক্রিপ্ট তৈরির পর আবার সেন্সর করাতে হতো। গৌরবময় মানুষদের গৌরবও সবাই প্রকাশ করতে পারেন না। আমি সেটা পেরেছি। শাহবাগে আবুল মিয়ার ক্যান্টিনে শিল্প-সংস্কৃতির মানুষদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। অনেকে আসতেন সেখানে। তাঁদের সঙ্গে আলাপ করেও অনেক সময় নাম বের হয়ে আসত। তবে এই কাজটা বন্ধ হয়ে গেল মুনমুন আর ময়ূরীদের কারণে! তাঁদের অ্যাভয়েড করার জন্যই এই নাম দেওয়া বন্ধ হয়ে গেল।

 

শিশিরস্নাত শাবনূর

ওর চেহারার মধ্যে অদ্ভুত একটা কোমল ব্যাপার আছে। সেই থেকেই এই নাম। আর ওকে দেখলে মনে হয় না খুব একটা সেজেছে। মনে হচ্ছে, একেবারে আমাদের পাশের বাড়ির মেয়ে—সাজগোজ, এমনকি কথাবার্তায়ও।

 

নায়ক সম্রাট রহমান

রাজ্জাক সাহেবকে ‘নায়করাজ’ উপাধি দিয়েছিলেন আহমেদ জামান চৌধুরী। সে সময় রাজ্জাক সাহেবের চেয়েও বড় স্টার ছিলেন রহমান। সে কারণেই একধাপ এগিয়ে সম্রাট ডাকতাম। আমার নিজের উপলব্ধি থেকেই এই নাম দিয়েছি।

 

নবাব অভিনেতা আনোয়ার হোসেন

তিনিই আমাকে প্রথম শিখিয়েছিলেন কিভাবে ডাবিং করতে হয়। শুধু বড় পর্দায়ই নয়, মঞ্চেও অনেকবার তাঁকে সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছি। সে কারণেই তাঁকে এই নামে সম্বোধন করতাম।

 

সুনয়না সুচন্দা

বিশাল বড় বড় চোখ তাঁর। তাঁর চোখ দেখেই তো গাজী মাজহারুল ইসলাম লিখেছিলেন ‘চোখ যে মনের কথা বলে’। তাঁর চোখের চর্চা সে সময় বেশ চলত।

 

মিষ্টি মেয়ে কবরী

তাঁর চেহারা আসলেই খুব মিষ্টি। নাম খুঁজতে কষ্ট হয়নি।

 

নায়করাজ রাজ্জাক

আমিই প্রথম বেতারে তাঁর নামের আগে বসিয়েছি আজাচৌর দেওয়া এই উপাধি, ‘রংবাজ’ ছবির বিজ্ঞাপনে।

 

রূপবান কন্যা সুজাতা

তাঁর ‘রূপবান’ এমন একটি ছবি, উর্দু ছবিকে একেবারে শুইয়ে দিল। আর সেই চরিত্রের জন্যই তিনি আজীবন এই নাম পেয়ে গেলেন। মাঝেমধ্যে অবশ্য ‘সুইটি সুজাতা’ও বলতাম।

 

জন-গণনন্দিত নায়িকা শাবানা

কথাবন্ধু নাজমুল হোসেন সিনেমার বিজ্ঞাপনে শাবানাকে বলতেন ‘বিউটি কুইন’। বাংলার প্রতি আমার দুর্বলতা একটু বেশি। ভাবলাম তাঁকে বাংলায় বিশেষায়িত করা যায় কি না। সেই ভাবনা থেকেই ‘জন-গণনন্দিত নায়িকা শাবানা’। তিনি তো সাধারণত কোনো রেডিও অনুষ্ঠানে যেতেন না, তবে আমার অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

 

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা

সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ করার পর থেকেই তাঁকে এই নামে ডাকি।

 

আনপ্যারালাল হিরো আলমগীর

তিনি অনেক কারণেই আনপ্যারালাল। শাবানার সঙ্গে তাঁর প্রায় সব ছবি সুপারহিট। অভিনয়ের মান এবং শারীরিক উচ্চতা—সব দিক থেকে তিনি অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকা নায়ক। আগাগোড়া সুদর্শন নায়ক।

 

রোমান্টিক রোজিনা

খুব নরম টাইপের অভিনেত্রী। তাঁর চেহারা দেখলেই যেন প্রেম করতে ইচ্ছা হতো।

 

ডান্সিং ডল অঞ্জনা

নাচের জন্য বিখ্যাত অঞ্জনা। এ জন্যই এমন নাম দেওয়া।

 

মেগাস্টার উজ্জল

টাইটেলটা অবশ্য প্রডাকশন হাউস থেকেই দেওয়া হয়েছিল আমাদের। ‘নসিব’ ছবিতে তাঁর একটা উত্তরণ ঘটেছিল। এরপর তাঁকে মেগাস্টার উজ্জল বলতাম। নামটা দিয়েছিলেন মমতাজ আলী সাহেব।

 

অপরূপা, অদ্বিতীয়া অলিভিয়া

তাঁর চেহারার মধ্যে একসেপশনাল একটা ব্যাপার ছিল। অন্য নায়িকাদের চেহারায় ছিল বঙ্গীয় লাবণ্য, কিন্তু তাঁর চেহারা বিদেশিদের মতো মনে হতো। একসঙ্গে অনেক ছবির ডাবিং করেছি আমরা। তাঁকে দেখে এ নামটাই মনে আসে আমার। ‘রেইন’ সুপারহিট হওয়ার পর এই নাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল।

 

অনন্যা অঞ্জু

বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সহজেই মানিয়ে যেতেন। এ কারণেই আমার চোখে তিনি ‘অনন্যা’। যদিও ঢালিউড তাঁকে সেভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র পর তাঁর জায়গাটা আরো উঁচুতে থাকার কথা ছিল।

 

নীলনয়না/নটরিয়াস নূতন

চোখের কারণেই তাঁর এই উপাধি।

তিলোত্তমা দিতি

গালের তিলটার জন্যই তাঁকে তিলোত্তমা নায়িকা বলতাম।

 

চার্মিং চম্পা

‘চ’ দিয়ে চার্মিং শব্দটা আসে। শুরুর দিকে তিনি শহুরে আধুনিক মেয়ের চরিত্রেই বেশি অভিনয় করতেন। তাই ভাবলাম, তাঁর ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করাই যায়।

 

মৌ মৌ মৌসুমী

সব শ্রেণির দর্শকের কাছে তাঁর গ্ল্যামারের কদর। নামের প্রথম অক্ষর থেকে ‘মৌ’ নিয়ে করলাম ‘মৌ মৌ মৌসুমী’। আমার ধারণা, এই নামে তাঁর প্রতি সবার আকর্ষণের বিষয়টা ফুটে ওঠে।

 

কিং খান শাকিব/অনলি ওয়ান শাকিব খান দীর্ঘদিন ধরে একটা ইন্ডাস্ট্রি একাই চালানো, খুব কম স্টারই তা করতে পেরেছে। এত দিন ঢালিউডে একই সময়ে একাধিক তারকা কাজ করেছেন যে যার মতো করে।

 

অনুলিখন : ইসমাত মুমু

 

আরো যেসব উপাধি

কোকিলকণ্ঠী সাবিনা ইয়াসমিন

ইন্টারন্যাশনাল সিঙ্গার রুনা লায়লা

সুপারস্টার ফারুক

রাজকীয় হিরো ওয়াসিম

রাফ অ্যান্ড টাফ হিরো/ট্র্যাজেডি কিং জসীম

মমতাময়ী আনোয়ারা

বলিষ্ঠ অভিনেতা গোলাম মোস্তাফা

ভয়াল ভয়ংকর মানুষ/বল হেডেড জাম্বু

মার্শাল আর্ট হিরো রুবেল

স্মার্ট হিরো জাফর ইকবাল

সুপারপাওয়ার হিরো ইলিয়াস কাঞ্চন

কমেডি কিং দিলদার

হরর ভিলেন হুমায়ুন ফরীদি

স্ম্যাশিং ভিলেন রাজীব

ম্যান অব দ্য শো মিশা সওদাগর

রোমান্টিক রিয়াজ

চন্দ্রকলারূপী পূর্ণিমা

গ্ল্যামার কুইন অপু বিশ্বাস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা