kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

অন্য জাপানের গল্প

জাপানেও এমন পরিবার আছে, যাদের অর্থকষ্টে দিন চালাতে হিমশিম খেতে হয়! তেমন এক পরিবারের গল্প নিয়েই ‘শপলিফটারস’। জাপানি ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অন্য জাপানের গল্প

জাপানি চলচ্চিত্রকার হিরোকাজু কোরে-এদার বেশ সুনাম রয়েছে সমালোচক মহলে। মনের না বলা ভাবনাগুলোকে রুপালি পর্দায় রূপান্তরে জুড়ি নেই এই পরিচালকের। এবার তিনি বানিয়েছেন ‘শপলিফটারস’। কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্বর্ণপাম’ জয় করা চলচ্চিত্রটির কাহিনি টোকিওতে দারিদ্র্যের কশাঘাতে পিষ্ট এক পরিবারকে ঘিরে। কর্তা এক দুর্ঘটনায় চাকরি হারালে কর্ত্রীর ছোট চাকরি ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট হয় না। তখন তারা আশ্রয় নেয় বিভিন্ন দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরির, যা পশ্চিমা বিশ্বে ‘শপলিফটিং’ নামে পরিচিত। পরিবারের ছোট ছেলের এক চুরির সময়ে তারা খুঁজে পায় ইউরি নামের এক  শিশুর। যে নানাভাবে অত্যাচারের শিকার। নিজেদের অভাব-অনটনের পরও ইউরিকে সন্তানের মর্যাদা দেয় এই দম্পতি। জাপানের অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে একটি পরিবারের টিকে থাকার গল্প, পাশাপাশি নতুনভাবে গড়ে ওঠা পরিবারকে এক রাখার এই সংগ্রাম চলচ্চিত্রটিকে এক অনন্য আবহ তৈরি করে দিয়েছে। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন লিলি ফ্র্যাংকি, সাকুরা অ্যান্দো, মায়ু মাতসুকাসহ অনেকে।

চলচ্চিত্রটি নির্মাণের কথা পরিচালকের প্রথম মাথায় আসে তাঁর আরেকটি চলচ্চিত্র ‘লাইক ফাদার, লাইক সান’ নির্মাণের সময়।  একটি পরিবার গঠনে শুধু রক্তের সম্পর্কই যে একমাত্র কারণ নয়, সেই গল্পের একটি রূপ ফুটে উঠেছে রুপালি পর্দায়। একবিংশ শতাব্দীর এই প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক সমাজে পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার যে ভয়ংকর রূপ সর্বত্র, সেখানে ‘শপলিফটারস’কে অনেক সমালোচক একটি ‘শান্তির নিঃশ্বাস’ হিসেবে দেখছেন। নিজের পূর্ববর্তী অনেক চলচ্চিত্রের মতো এবারও পরিচালক জাপানের বর্তমান সমাজব্যবস্থাকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেছেন। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের আগে অনেক দিন একটি এতিমখানায় গিয়ে তিনি থেকে এসেছেন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর মনোভাব বোঝার জন্য।

‘শপলিফটারস’-এর আগে পরিবারকে উপজীব্য করে নির্মাতা আরো নির্মাণ করেছিলেন ‘আফটার দ্য স্টর্ম’, ‘লাইক ফাদার, লাইক সান’, ‘আওয়ার সিস্টার’, ‘আই উইশ’-এর মতো নন্দিত চলচ্চিত্র।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা