kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

একসঙ্গে সবাই

২০০০ সালে ‘আনব্রেকেবল’ বক্স অফিসে সফল হয়েছিল, ১৬ বছর পর একই ঘটনা ‘স্পিল্ট’-এর ক্ষেত্রেও। দুই ছবির চরিত্রগুলো নিয়ে এম নাইট শ্যামালনের ‘গ্লাস’ নিয়ে তাই দর্শকের আগ্রহের কমতি নেই। আগামীকাল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা চলচ্চিত্র নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একসঙ্গে সবাই

‘দ্য সিক্সথ সেন্স’ দিয়ে যাত্রা শুরু করা পরিচালক এম নাইট শ্যামালন দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘সাইনস’, ‘আনব্রেকেবল’, ‘স্পিল্ট’-এর মতো বক্স অফিস কাঁপানো চলচ্চিত্র। পাশাপাশি ‘লেডি ইন দ্য ওয়াটার’, ‘দ্য ভিলেজ’, ‘দ্য হ্যাপেনিং’, ‘দ্য লাস্ট এয়ারবেন্ডার’-এর মতো ছবিও আছে; যেগুলো শুধু বক্স অফিসেই মুখ থুবড়ে পড়েনি, সমালোচকদের তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছে। টানা বেশ কয়েকটি ফ্লপের পর তিনি স্বরূপে ফেরেন ২০১৬ সালে, ‘স্পিল্ট’ নিয়ে। এবার ‘দ্য আনব্রেকেবল’ আর ‘স্পিল্ট’-এর চরিত্রদের পর্দায় নিয়ে আসছেন শ্যামালন। ছবিতে দেখা যাবে প্রচণ্ড শক্তিধর ডেভিড ডান এখনো ‘দ্য ওভারসিয়ার’ নাম নিয়ে রক্ষা করেন সাধারণ মানুষকে। এবার তাকে লড়াইয়ে নামতে হয় ২৪টি ভিন্ন চরিত্রের অধিকারী কেভিনের বিরুদ্ধে, যার ২৪তম চরিত্র ‘দ্য বিস্ট’ আবার মহা পরাক্রমশালী। তাদের এই লড়াইয়ের ওপর কড়া নজর রেখে চলেছে সেই সোসিওপ্যাথ কমিকস ভক্ত এলাইজা প্রিন্স। এলাইজার কাছেই লুকিয়ে আছে ডেভিড ও কেভিনের এই অসম্ভব শক্তির রহস্য। ডেভিড ডান হিসেবে ব্রুস উইলিস, কেভিন ক্রাম্ব চরিত্রে জেমস ম্যাকাভয় এবং এলাইজা হয়েছেন স্যামুয়েল এল জ্যাকসন। ব্রুস উইলিস ও স্যামুয়েল এল জ্যাকসন ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আনব্রেকেবল’-এ এই চরিত্রগুলো করেই প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। ২০১৬ সালে ‘স্পিল্ট’-এ মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিস-অর্ডারে ভোগা কেভিনের চরিত্র করে জেমস ম্যাকাভয় দর্শকের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন। তখন ‘স্পিল্ট’ চলচ্চিত্রের শেষে ব্রুস উইলিসের সাময়িক উপস্থিতি এই নতুন সুপারহিরো ফ্রাঞ্চাইজি সৃষ্টির গুজবটাকে বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি বক্স অফিসে ‘স্পিল্ট’-এর অভাবনীয় সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিচালক শ্যামালনও ঘোষণা দিয়ে দেন জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে একই পর্দায় নিয়ে আসার। আজকাল সুপারহিরো ছবি মানেই গ্রাফিকসের ছড়াছড়ি। কিন্তু শ্যামালন প্রযুক্তির চেয়ে নিজের সুপারহিরো ছবিতে বেশি জোর দিয়েছেন গল্পে। এ চলচ্চিত্রটিকে তাই অনেকেই তুলনা করছেন ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ডার্ক নাইট’ ট্রিলজির সঙ্গে। তবে শ্যামালন একে একদমই আলাদা ভাবতে চান। এর কোনো সিক্যুয়ালও বের করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। শ্যামালনের চলচ্চিত্র মানেই অনেক প্রতীকের ব্যবহার। এখানেও প্রতীক হিসেবে পরিচালক ব্যবহার করেছেন তিনটি রং। পোস্টারে সবুজ, বেগুনি ও গৌড় বর্ণের ব্যবহার নিয়ে ঝড় উঠেছিল পত্রপত্রিকায়। তবে পরিচালক নিজেই এই রঙের ব্যবহারকে ব্যাখ্যা করেছেন। সবুজ বর্ণের মাধ্যমে ডেভিডের রক্ষাকর্তার ভূমিকা আর বেগুনি বর্ণ দ্বারা এলাইজাহ রাজকীয়তার রূপ ফুটে উঠেছে বলে জানান পরিচালক। তবে কেভিনের ক্ষেত্রে গৌড় বর্ণের ব্যবহারের গল্পটা সবচেয়ে আকর্ষণীয়। পরিচালকের মতে, গৌড় বর্ণ ধর্মের প্রতীক। হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ ধর্মে আচার-অনুষ্ঠানের সময় এ বর্ণের ব্যবহারের আধিক্য থাকে। কেভিনের ২৪তম সত্তা ‘দ্য বিস্ট’-এর বাকি দুর্বল সত্তাগুলোকে রক্ষা করার যে প্রয়াস তাতে ধর্মের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এ জন্যই এই রং। কেভিনের ২৪টি সত্তার শারীরিক গঠন ভিন্ন হওয়ায় জেমস ম্যাকাভয়কে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিশেষ করে ‘দ্য বিস্ট’-এর জন্য উপযোগী শরীর তৈরি করতে তাঁকে যেতে হয়েছে অসম্ভব এক রুটিনের মধ্য দিয়ে। কখনো কখনো প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে ব্যায়ামাগারে। চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে জেমস বলেন, ‘কেভিন চরিত্রটি আমার পুরোটাই দাবি করে। শুধু দ্য বিস্ট নয়, অন্য ২৩টি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে আমাকে তাদের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করতে হয়েছে।’ চরিত্রগুলো সম্পর্কে একটি মজার তথ্যও দেন এই অভিনেতা। চরিত্রগুলোর মধ্যে একটি নাকি আবার বিখ্যাত অভিনেত্রী সার্শা রোনানের অনুকরণে করা! ব্রুস উইলিস ও স্যামুয়েল জ্যাকসন এর আগে আরো চারবার একসঙ্গে বড় পর্দায় এসেছিলেন। বেশির ভাগ সময়ই যা দর্শক পছন্দ করেছিল। এবারও তাই দুজনকে দেখতে দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা