kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রিয় ৫ গান

নিজের প্রিয় ৫ গানের গল্প শুনিয়েছেন এস ডি রুবেল। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রিয় ৫ গান

পরিচয় বাঙালি

গানটির মুখ—‘আমি নই মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আমার পরিচয় বাংলাদেশের, আমি এক বাঙালি’। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত আমার তৃতীয় একক ‘শুধু একবার’-এর গান। এটাই আমার প্রথম তুমুল হিট গান। কথা ও সুর আমার। বাংলাদেশ টেলিভিশন ফিলার হিসেবে গানটি প্রচার করেছিল। পরের বছর গানটির রেফারেন্স টেনে সংসদে সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন তুলেছিলেন  স্বাধীনতাবিরোধী এক সংসদ সদস্য। পরে আমি লিখিত জানিয়েছিলাম, এই গান সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে নয়। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই। সবার রক্ত এক। সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই—এটা বোঝানোই ছিল গানের মূল মেসেজ। শিল্পী হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকে গানটি করেছিলাম। তখন স্পিকার গানটি নিয়ে অভিযোগ এক্সপাঞ্জ করে দেন।

অনেক বেদনা ভরা আমার জীবন

আমার দ্বিতীয় জনপ্রিয় গান। কথা তাপস বিশ্বাস আর সুর করেছেন প্রণব ঘোষ। ‘কেউ নেই’ অ্যালবামে প্রকাশ পায় ১৯৯৯ সালে। আমি তখন মাত্র এইচএসসি পাস করেছি। প্রণবদা সে সময় যার গান করেছেন সে-ই জনপ্রিয় হয়েছে। কলকাতায় রেকর্ডের সময় একজন অ্যারেঞ্জার থাকে। মিউজিক ডিরেক্টররা যা বলে সেভাবেই তারা মিউজিক অ্যারেঞ্জ করে দেয়। প্রণবদার কথামতো তিনি একটি রিদম দিলেন। কলকাতায় তখন লাইভ রেকর্ড হতো। অর্ধেক রেকর্ডিং শেষে প্রণবদাকে বললাম—‘দাদা, এই রিদমটা আমার পছন্দ হচ্ছে না।’ শুনে তিনি বললেন, ‘তুই কী চাস?’ আমি মুখ দিয়ে বললাম। শুনে অ্যারেঞ্জার বেশ রাগ করলেন। আমাকে বাজিয়ে দেখাতে বললেন। আমি দেখালাম। প্রণবদা বললেন—ওরটাই রাখো। এটাই ছিল অ্যালবামের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান। ইউটিউব যখন আমরা বুঝতাম না, তখনই ছয় কোটি ভিউ হয়েছিল গানটির। পরে এস ডি রুবেল ফাউন্ডেশন থেকে একটি ছবি দিয়ে আপলোড করি। তাতেই ৯০ লাখ ভিউয়ার। গানটিই আমার জীবন বদলে দিয়েছে।

লাল বেনারশী

কথা ও সুর করেছেন মিল্টন খন্দকার। ‘লাল বেনারশী’ মিক্সড অ্যালবামে প্রকাশ পায় ২০০০ সালে। তখন মিল্টন ভাই বেশ জনপ্রিয়। একদিন তাঁকে জানালাম তাঁর সঙ্গে গান করতে চাই। তিনি আমাকে চারটি গান দিয়ে কম্পোজিশন করতে বললেন। শিল্পী মনি কিশোরদা তখন ভারতে যাবেন। তাঁকে আমি মিউজিক ও রিদম বুঝিয়ে দিয়ে গানগুলোর কম্পোজিশন করে নিয়ে আসতে বললাম। তিনি করে নিয়ে এলেন। কিন্তু আমার পছন্দ হলো না। তখন বাসু আর বাপ্পা মজুমদার একসঙ্গে কাজ করেন। তাঁদের দুজনকে গানগুলোর কম্পোজিশন করতে দিলাম। গানের শুরুতে সানাইয়ের সুরটা আমি হারমোনিয়াম দিয়ে বাপ্পাকে বাজিয়ে শোনালাম। পরে সানাইয়ের সুরটাও আমি বাজাই। তখনই মনে হয়েছিল, গানটি হিট করবে। হলোও তা-ই।

 

আমার একটা সাথী ছিল দেশের বাড়িতে

প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৪ সালে। দেশের যেখানে যাই, আনাচকানাচে বাজতে শুনি। গানটির কথা আমার। সুর করেছে দেলোয়ার হোসেন দুলু। তাকে আমি সব সময়ই সাহায্য করতাম। সে যখন গানটি করে নিয়ে এলো, আমি সেটা আরো একটু কাটছাঁট করে দিলাম। প্রকাশের পর দেখি শ্রোতারা দারুণভাবে লুফে নিচ্ছে।

রূপ কারিগর বানাইয়াছে তোমার সুন্দর মুখ

‘পরিচয়’ অ্যালবামের গান। প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। কথা ও সুর আমারই। ইটিভি যখন প্রচার শুরু করে তখন গানটি বেশ বাজানো হতো। এতই জনপ্রিয় হয় যে চ্যানেলটি এর ভিডিও করে। এটাই ছিল আমার গানের প্রথম ভিডিও। নির্মাতা ছিলেন রম্য রহিম। ভিডিওতে আমি ছিলাম একজন ক্যামেরাম্যান, যে একটি মেয়ের ভিডিও করছে আর মনে মনে তার রূপের বর্ণনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা