kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তেলেগু ছবির বাংলাদেশি নায়িকা

২৬ অক্টোবর ভারতে মুক্তি পাবে তেলেগু ছবি ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’। ছবির নায়িকা বাংলাদেশের মেঘলা মুক্তা। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন চিশতী আল মারুফ

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তেলেগু ছবির বাংলাদেশি নায়িকা

দেশের বাইরের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার ইচ্ছাটা বেশ পুরনো। বছরখানেক আগে ভারতের বিভিন্ন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পোর্টফোলিও পাঠালেন। পাঠিয়েছেন অন্য দেশেও। প্রথম কল আসে তেলেগু ইন্ডাস্ট্রি থেকে। হায়দরাবাদের এক এজেন্সিতে কাজ করতেন মুক্তার এক বন্ধু। তাঁর সহায়তাও পেয়েছিলেন। ‘ফোন করে ওরা জানাল, আপনাকে অডিশনে ডাকলে আসবেন? বাংলাদেশ থেকে তো বেশ দূরের পথ। আমি বললাম, অবশ্যই আসব। চলে গেলাম অডিশন দিতে। অডিশনের পর বলা হলো, ফলাফল পরে জানানো হবে। দেশে ফিরে আসার অনেক দিন পর জানানো হলো, আমাকে প্রাথমিকভাবে সিলেক্ট করা হয়েছে। ফিফটি-ফিফটি চান্স ধরে রাখলাম। কিছুদিন পর জানলাম, প্রধান নায়িকা চরিত্রে সিলেক্ট হয়েছি’—বললেন মুক্তা।

অডিশনে যাওয়ার আগে মুক্তা জানতেন না তেলেগু ছবির অডিশন দিতে যাচ্ছেন। ‘পাঁচ-ছয় লাইনের একটা স্ক্রিপ্ট দেয়। সেটার অর্থ আমাকে একজন বুঝিয়ে দেয়। কোনো রকমে অডিশন দিয়েছিলাম। তবু সিলেক্ট হলাম। আমার ধারণা, ওরা হয়তো আমার লুকটা পছন্দ করেছিল।’

ছবির নাম ‘সাকালা কালা ভালাভুডু’। পরিচালক শিব গণেশ, নায়ক তানিষ্ক রেড্ডি। মুক্তার চরিত্রের নাম চেইত্রা। মা-বাবার আদরের মেয়ে চেইত্রা। তাদের সুখের সংসার। তারপর এমন একটা ঘটনা ঘটে, মানুষের সঙ্গে মেলামেশাই বন্ধ করে দেয় চেইত্রা। এরপরই নায়কের আগমন। নায়িকাকে পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে। দক্ষিণ ভারতের পাঁচটি শহরে হয়েছে শুটিং। ‘তামিলনাড়ু পার হয়ে কেরালায়ও শুটিং করেছি। প্রথম লটের শুটিং হয় পাবর্তীপুরম নামের এক অজপাড়াগাঁয়। গ্রামগুলো অনেক সুন্দর’—বললেন মুক্তা।

শুটিং করতে গিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাঙালি মেয়ের তেলেগু ভাষা রপ্ত করা চাট্টিখানি কথা নয়। সেই কঠিন কাজটাও করেছেন। ‘প্রথম লটের শুটিংয়ের সময় পুরো স্ক্রিপ্ট হাতে পাই। পরের দিন যেসব দৃশ্যের শুটিং হবে আগের রাতে সেসব মুখস্থ করে রাখতাম। বাংলা উচ্চারণটা লিখে নিতাম। প্রতিটা শব্দের অর্থ লিখতাম। নায়ক তানিষ্ক রেড্ডি এবং আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করা সুমন তলোয়ার স্যার অনেক হেলপ করেছেন। আমাকে নিয়ে তাঁদের কেমন যেন একটা বাড়তি আগ্রহ ছিল। ভিনদেশ থেকে একটা মেয়ে এসেছে, আমি যদি না পারি সেটা যেন তাঁদেরই পরাজয়।’

প্রথম লটের শুটিংয়ের পর তেলেগু ভাষার একটা শর্ট কোর্সও করেন। হিন্দি ও ইংরেজিতে মুক্তার সঙ্গে কমিউনিকেট করেছেন প্রশিক্ষক। শেখা অবশ্য শেষ হয়নি, এখনো শিখছেন তেলেগু। ‘হায়দরাবাদে অনেকে হিন্দি বলে। কিন্তু ওখানকার হিন্দিটাও একটু অন্য রকম। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ হিন্দি বোঝে, অনেকে বলতেও পারে। আমিও চালিয়ে নেওয়ার মতো হিন্দিটা জানি। ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল হিন্দি।’

‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’, ‘পাষাণ’ ও ‘নবাব’সহ বেশ কয়েকটি বাংলা ছবি করেছেন। ঢালিউড আর তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কী তফাৎ চোখে পড়েছে মুক্তার? ‘নিয়মানুবর্তিতা বলতে কিছুই নেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে। এখন ঠিক হয়েছে কি না জানি না। তবে আমার অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তেলেগু ছবিটার শুটিং শেষে কলাকুশলীদের যে আড্ডা হয়েছে, সেটাও সিনেমা বিষয়েই। শুটিং শেষে যে যার ব্যাগ প্যাক করে পরের দিন কী করবে সেই টেনশনে থাকে। মনে হয় একটা যুদ্ধে নেমেছি। সিনেমা নিয়ে ওরা এত সিরিয়াস! টাইম টু টাইম সবার পৌঁছাতে হবে। কল টাইম সকাল ৬টায় হলে সাড়ে ৫টায় সেটে উপস্থিত হতে হয়েছে। আর ওরা একে অন্যকে খুব সম্মান দেয়।’

‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’র প্রযোজক-পরিচালকের নতুন আরেকটি ছবি সাইন করেছেন—‘ইভিনা ভারুতিক’। ছবির নাম অবশ্য চেঞ্জ হতে পারে। নভেম্বরেই শুটিং।

কথা ছিল ১৯ অক্টোবর ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’ মুক্তি পাবে। হল নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় এক সপ্তাহ পেছানো হয়েছে।

ভারতের অন্য কোনো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বা অন্য দেশের ছবি করার কথা আপাতত চিন্তা করছেন না। ‘তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু করতে পেরেছি, এটাই অনেক বড় সুযোগ। এখানে ক্যারিয়ার কতটা বিল্ডআপ করতে পারি আগে সেটা দেখি। একটা জায়গায় সেট না হয়ে অন্য জায়গায় যাওয়া উচিত নয়। আপাতত এখানেই কাজ করতে চাই’—বললেন মুক্তা।

বাংলাদেশের কোনো ছবিও আপাতত করা হচ্ছে না। কারণ সময় পাচ্ছেন না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা