kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বোনের প্রশ্ন বোনের উত্তর

দুই বোন ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরী গান করছেন সেই ছোট্টবেলা থেকে। সংগীত ও ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় নিয়ে একে অন্যকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন এবার। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বোনের প্রশ্ন বোনের উত্তর

ফাহমিদার প্রশ্ন সামিনার উত্তর

তোমার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিসের ডাক্তার হতে চেয়েছিলে?

আমার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার ইচ্ছা ছিল। ডাক্তারি না করলেও কম বয়স থেকেই অনেককে পরামর্শ দিয়ে সুস্থ করে তুলেছি। তখন ভাবিনি কিসের ডাক্তার হব। মনে হয় সার্জারিতে গেলে ভালো করতাম। আমি পারফেকশনিস্ট। যখন যে কাজ করি ভালোভাবেই করি। সো, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা সার্জারির ডাক্তার যেকোনোটা হলেই খুব ভালো করতাম।

 

তোমার মেয়র হওয়ার শখ। তিন দিনের জন্য মেয়র হলে কোন জিনিসগুলো করতে চাও?

এই শখটা আমার বরাবরই ছিল, এখনো আছে। মেয়র হতে পারলে আমার বাসাটাকে আমি যেভাবে গোছাই, একেবারে কর্নার থেকে শুরু করি। ছোট জিনিসগুলো আগে ঠিক করি। ঠিক সেভাবেই শহরটাকে সাজানোর চেষ্টা করতাম। আগে রাস্তাঘাট নিয়মের মধ্যে আনতাম। রাস্তাঘাট ঝকঝক করবে। হাঁটার সময় মানুষের চোখ যেন আরাম পায়, সেই চেষ্টা করতাম। পথের পাশে কোনো ডাস্টবিন রাখতাম না।

 

আমার মেয়ে আনমল তোমার হলে কেমন হতো?

আনমল তো আমারই মেয়ে। ছোটবেলা থেকে আনমলকে আমি আমার মতো করেই মানুষ করতে চেয়েছি। ওকে গান শোনাতাম, শেখাতাম। ও যেদিন জন্মাল, সেদিন ওকে আমি আস্তে করে লতা মুঙ্গেশকরের গান শুনিয়েছিলাম। কিন্তু বড় হয়ে ও গানের কাছ দিয়েই যায়নি। আমার মেয়ে হলে শিল্পী বানাতাম। তবে ও খুব ভালো মানুষ হয়েছে, এতেই তৃপ্ত।

 

দেশের সংগীতজগত্টাকে কোথায় দেখতে চাও?

সংগীতের মানুষ বলেই আমি চাই, সংগীতজগৎ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে যাক। তার জন্য দরকার অর্থায়ন। গান পরিবেশনের চমৎকার আয়োজন দেখতে চাই। এখন টেলিভিশন চ্যানেলে অনেক গানের অনুষ্ঠান হয়। এসব অনুষ্ঠানে সেট সাজিয়ে গানের পরিবেশনটা আরো চমৎকার করে তোলা যায়। উপস্থাপনায়ও নতুনত্ব আসুক। দেশের বাইরে বাংলা গান আরো বেশি করে ছড়িয়ে পড়ুক।

 

তুমি আমার বড় বোন হলে কী করতে?

আমি বড় বোন হলে কী করতাম জানি না। তুমি যে বড় বোন হয়ে আছ, সেটাই ঢের ভালো।

 

সামিনার প্রশ্ন ফাহমিদার উত্তর

আমার কোন দিকটা তোমার বেশি ভালো লাগে?

তোমার চরিত্রের একটা বড় দিক হলো তুমি কখনোই হাল ছেড়ে দাও না। কোনো কাজে ব্যর্থতায় যেমন ভেঙে পড়ো না, তেমনি আবার সাফল্যেও ভেসে যাও না। তোমার আরেকটা বিষয়, তুমি খুব গোছানো মেয়ে। এক মিনিটের মধ্যে সব কিছু গুছিয়ে ফেলতে পারো। এ জন্য কাজকর্মে বেশি ভুল হয় না। এই গুণটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।

 

তোমার কোন গুণটির জন্য তুমি নিজেই নিজেকে ধন্যবাদ দাও।

আমি খুবই ধৈর্যশীল। এটা দোষ নাকি গুণ বলতে পারব না। বেশি ধৈর্য অনেক সময় আবার বুমেরাং হয়ে দেখা দেয় মানুষের জীবনে। আমাকে সহজে কেউ রাগাতে পারে না। যাদের প্রতি ধৈর্য দেখানো হয় তারা এটাকে দুর্বলতা মনে করে মাথায় চেপে বসে। তবে এই গুণের কারণে জীবনে কখনো কোনো কাজে হাল ছেড়ে দিইনি। গানের পাশাপাশি এমএ পাস করেছি। ১২ বছর গান থেকে দূরে থেকেও আবার ফিরে এসেছি।

 

ছোটবেলায় পরীক্ষার আগে তোমাকে কাঁদতে দেখতাম। কেন?

খুব বেশি পড়তে চাইতাম না। এ কারণে পরীক্ষার আগে কাঁদতাম। সব পরীক্ষা দিতাম। কিন্তু কেন যেন মনে হতো রেজাল্ট ভালো হবে না, তাই কাঁদতাম। পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলার প্রতিই বেশি মনোযোগ ছিল।

 

তুমি ইন্টেরিয়র ডিজাইনেও বেশ পারদর্শী। গান না করলে কি ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হতে?

ছোটবেলা থেকেই আমার আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক। তখন থেকেই ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রতি আগ্রহ। বাসায় প্রায়ই এখানকার জিনিস ওখানে রাখছি। একবার এভাবে সাজাচ্ছি তো আরেকবার অন্যভাবে। আর্কিটেক্ট হওয়ার বাসনা ছিল। কিন্তু গান ছাড়া আমার সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তার পরও যদি গান না করতাম, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হতাম। সেই ডিজাইনেও মিউজিক্যাল আবহ তুলে ধরতাম।

 

গানের জগতে নিজেকে কোথায় দেখতে চাও?

আমার বাবা গানের জগতের অন্যতম একটি স্বম্ভ। সে জন্য নিজের কাছে বাবাই একটি লক্ষ্য হয়ে আছে। এখনো বাবার দেখানো পথে হাঁটছি। তাঁর সম্মানের জায়গাটায় নিজেকে দেখতে চাই। বাবাকে মানুষ যেভাবে ভালোবাসে, সম্মান করে, সেটা যেন আমিও একসময় পাই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা