kalerkantho

রবিবার। ৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২ সফর ১৪৪২

ভোজনরসিক

টিভিতে অভিনয় করে আর তৃপ্তি পাচ্ছেন না আদনান ফারুক হিল্লোল। পর্দা বদলে জায়গা নিয়েছেন ইউটিউবে। লিখেছেন ইসমাত মুমু

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোজনরসিক

কলকাতার ভজহরি মান্না রেস্তোরাঁয় আদনান ফারুক হিল্লোল

শোবিজে আছেন প্রায় ১৫ বছর। অভিনয় করেছেন শতাধিক নাটক এবং বেশ কিছু চলচ্চিত্রে। তবু গত বছর ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলেন হিল্লোল, ‘দিনশেষে আসলে আমার নিজস্ব কী আছে? যা-ই করছি, হয় তা প্রডিউসারের জন্য, নয়তো চ্যানেলের জন্য। মনে হলো, ডিজিটাল এই সময়ে নিজের একটা পরিচয় তৈরি করা উচিত। সে ভাবনা থেকেই ইউটিউবে নিজের একটা চ্যানেল করি—‘আদনান ফারুক’। কিন্তু দেখাব কী? খাওয়াদাওয়া আর ঘোরাঘুরি করতে খুব ভালো লাগে আমার। শুরু করলাম খাবার ও ঘোরাঘুরি নিয়ে ভিডিও করা।’

ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘ফুড ইজ আ জার্নি’, সেই ‘ফুড’ ও ‘জার্নি’কে এক সুতায় গেঁথেছেন হিল্লোল। দেশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার চেখে দেখেন, স্বাদের বর্ণনা করেন ভিডিওতে। গত বছর মার্চে চ্যানেল চালু করলেও শুরুতে কর্মতত্পরতা ছিল না। ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত মাত্র চারটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতে লাগলেন। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একটি, কখনো দুটিও। কিছুদিন আগে কলকাতা ঘুরে এলেন। গিয়েছিলেন দুবাইতেও। তখন অনেক বেশি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সামনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারও যাবেন। তখনো সপ্তাহে দুটি ভিডিও আপলোড করবেন। ‘কলকাতা যাওয়ার পেছনে একটা উদ্দেশ্য ছিল। কমেন্ট সেকশনে কলকাতার প্রচুর দর্শকের মন্তব্য দেখে মাথায় এলো, এই ফিল্ডে তো বাংলাদেশ-কলকাতা মিলিয়ে কেউ নেই, শুরুতেই যদি বিশ্বের সব বাংলাভাষীর কাছে পৌঁছতে পারি, দারুণ হবে। ওখানে গিয়ে প্রায় ২০টি ভিডিও বানালাম। সেগুলো প্রচারের পর পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আনাগোনা আরো বেড়ে গেল। এখন আমার চ্যানেলের প্রায় ৫০ শতাংশ ভিউয়ার ভারতের। শুধু কলকাতার নয়, দিল্লি, হায়দরাবাদ থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন শহরের মানুষও দেখে। ইদানীং কমেন্ট সেকশনে দেখছি, বাংলাভাষী ছাড়াও অনেকে কমেন্ট করেন, যাঁরা টুকটাক বাংলা বোঝেন। এ কারণে নভেম্বরে দিল্লি ও লখনও যাব।’

দুবাইয়ের অভিজ্ঞতা কেমন? ‘ভালো। গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট স্পন্সর করেছিল। দুবাই আসা-যাওয়ার খরচ ওদের। শুধু ভিডিওতে ওদের স্পন্সরের বিষয়টা উল্লেখ করেছি।’

নতুন পরিচয়ে দর্শকের কাছ থেকে বেশ ভালো রেসপন্স পাচ্ছেন। হিল্লোলের ভাষায়, ‘বাংলাদেশে যাঁরা ইউটিউবে নিয়মিত চোখ রাখেন, একবার হলেও আমার ভিডিও তাঁদের চোখে পড়েছে। এখন ক্যামেরা নিয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকলেই মানুষ বুঝে যায়। সহযোগিতাও পাই। এই যে কক্সবাজারে যাচ্ছি, সেখানেও আমার পার্টনার ওশান প্যারাডাইস। আমার এবং ইউনিটের দুই রাতের থাকা-খাওয়া ফ্রি। শর্ত একটাই, কক্সবাজারে যত ভিডিও করব, সেখানে হোটেলের নাম থাকতে হবে। ইউটিউবের জন্য ভিডিও বানালে মাথায় রাখতে হয় কত কম খরচে করা যায়। নগদ টাকা হয়তো পাচ্ছি না। কিন্তু এই যে স্পন্সর পাই, সেটাও দারুণ উত্সাহের ব্যাপার।’

অভিনয়ে এখন খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে। অভিনেতা হিল্লোলকে দর্শক হারিয়ে ফেলছে না তো? ‘আমরা  যারা নিয়মিত টেলিভিশনে অভিনয় করি, গত পাঁচ-ছয় বছর কেউই অভিনয় করে তৃপ্তি পাই না। দর্শকের ফিডব্যাকও পাই না। ফিডব্যাক না পেলে কাজটা নিরামিষ লাগে। আবার অনেকে অতৃপ্তি নিয়েই অভিনয় করে যাচ্ছেন। আমি বরং একটা অল্টারনেটিভ জায়গায় আসতে পেরেছি। এখানে একটা ভিডিও আপলোড করার অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের পজিটিভ-নেগেটিভ রিভিউ পাই। সেটা কিন্তু একটা স্যাটিসফেকশনের জায়গা তৈরি করছে।’

খাবারের সঙ্গে ঘোরাঘুরির ভিডিও যুক্ত করেছেন। রাতারগুলের ভিডিও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। বিউটি বোর্ডিংয়ে গিয়েছিলেন খেতে। তখন মাথায় এলো, শুধু খাবেন কেন! এর যে ইতিহাস, সেটাও ধারণ করবেন ক্যামেরায়। ‘ওখানকার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তিনি পুরোটা ঘুরে দেখালেন আমাকে। একটা রুমে নিয়ে গেলেন, ঢাকায় প্রথম এসে দীর্ঘ সময় এই রুমে ছিলেন জুয়েল আইচ। পল্লিকবি জসীমউদ্দীনও থাকতেন ওই রুমটাতে। ২০১৮ সালে সেই রুমটি দেখতে কেমন এবং ভাড়া কত—সবই দেখিয়েছি ভিডিওতে।’

নভেম্বরে ভারত ঘুরে এসে ডিসেম্বরে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। যেখানেই যান সেখানকার লোক দলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হিল্লোল বলেন, ‘ধরুন, চিটাগং যাব। দু-তিনজন রিপ্রেজেন্টেটিভ সেখানে আছে। তারাই আমাকে চিটাগংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। দিল্লির অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। দিল্লিতে কোথায় কোথায় খেতে পারি, লোকাল মানুষকে যুক্ত করলে আমার কাজটা সহজ হয়।’

‘আদনান ফারুক’-এর সাবস্ক্রাইবার এখন ৯৭ হাজার। হিল্লোলের আশা, দুই সপ্তাহের মধ্যেই এক লাখ সাবস্ক্রাইবার হবে। তখন পুরো টিম নিয়ে লাইভে যাবেন। সেদিন বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করবেন—‘দি আলটিমেট ঢাকা স্ট্রিট ফুড’, ‘ভিডিওটা শুট করছি মিরপুরে। এখানে একজন অতিথি থাকবে—মডেল-অভিনেতা আলিফ। ওর বাসা মিরপুরে। এই ভিডিওটি তৈরিতে ও আমাকে গাইড করেছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা