kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

এফডিসির কাছে পরিচালকদের দেনা

শোধ না করলে ছবি নির্মাণ বন্ধ!

৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শোধ না করলে ছবি নির্মাণ বন্ধ!

মনোয়ার হোসেন ডিপজল

১৫০ ছবির পরিচালকের কাছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা পায় এফডিসি। তালিকায় আছে জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন পরিচালকের নাম। বারবার তাগাদা দিয়েও উদ্ধার করা যাচ্ছে না বকেয়া। এবার কঠোর হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। বিস্তারিত লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

আগে যেখানে বছরে ৭০-৮০টি ছবির শুটিং চলত, এখন সেখানে চলে ৩০-৪০টি ছবির শুটিং। হাতে গোনা এই ছবিগুলোই যদি এফডিসির পাওনা পরিশোধ না করে তাহলে এফডিসি চলবে কী করে! প্রায় দেড় শ ছবির নির্মাতার কাছে টাকা পায় এফডিসি। আবুল খায়ের বুলবুল, এনায়েত করিম, স্বপন চৌধুরী, ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম, শরিফুদ্দীন খান দীপু, শাহীন সুমন, কমল সরকার থেকে শুরু করে মনোয়ার হোসেন ডিপজল—কে নেই তালিকায়! এঁদের নিয়ে একটি ফাইল তৈরি করেছেন এফডিসির ফিন্যান্স বিভাগের লক্ষ্মণচন্দ্র দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘তালিকায় নামি-দামি অন্তত ৫০ জন পরিচালক আছেন। তাঁদের ঋণের অঙ্কটাও কম নয়। কারো কারো কাছে ৫০-৬০ লাখ টাকাও পাওনা। কথা ছিল নিজেদের সুবিধামতো বকেয়া পরিশোধ করে দেবেন তাঁরা। অথচ কেউ বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। বারবার চিঠি দিয়েও মিলছে না উত্তর। বাধ্য হয়ে আবার চিঠি তৈরি করছি। তবে এবার কঠোরভাবে। আর যা-ই হোক, সরকারি টাকা মেরে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। আজ হোক কাল হোক টাকা পরিশোধ করতেই হবে।’

এফডিসির উৎপাদন শাখায় আছেন আইয়ুব আলী। তিনি জানান, বকেয়া ছবিগুলোর বেশির ভাগ নির্মিত হয়েছে ২০০০ সালের পর। তালিকায় আছে ‘কেন আমি সন্ত্রাসী’, ‘অপমানের বদলা’, ‘মিশন ০০৭’, ‘ধ্বংসলীলা’, ‘লড়াকু সন্ত্রাসী’, ‘বিচ্ছু’, ‘গুলি’, ‘প্রমোশন’, ‘আদরের বউ’, ‘সাধের আমেরিকা’, ‘এ দেশ তোমার আমার’। প্রতিটি ছবির প্রযোজনা সংস্থায়ও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কারো কোনো উত্তর   মিলছে না।

এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন বলেন, ‘বকেয়া বিষয়ে এই পরিচালকদের বৈঠকে বসার অনুরোধও করেছি। কিন্তু তাঁরা পাত্তাই দিচ্ছেন না। হয়তো ভেবেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বকেয়ার কথা সবাই ভুলে যাবে। তা হয় নাকি! এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান। শিগগিরই সরাসরি মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। আদালত পর্যন্তও গড়াতে পারে।’

অভিযুক্ত পরিচালকদের একজন শাহীন সুমন। তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ ছবি ‘লাভ ম্যারেজ’ ছিল সুপারহিট। সম্প্রতি এই পরিচালক শাকিব খানকে নিয়ে মহরত করলেন ‘একটা প্রেম দরকার মাননীয় সরকার’ ছবির। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, বকেয়া টাকা না দিলে কোনোভাবেই তাঁর ছবি মুক্তি দিতে দেবে না এফডিসি। শুধু তা-ই নয়, তিনি যদি কোনো ছবির আংশিক তদারকিও করেন, সেই ছবিও আটকে দেওয়া হবে।

শাহীন বলেন, ‘পরিচালনার বাইরে আমি আর কিছুই করি না। আয়ের আলাদা কোনো উৎসও নেই। এত দিন ছবি নির্মাণ করে পাওয়া পারিশ্রমিক থেকে দুই লাখ করে টাকা জমা দিয়ে কিস্তি আকারে শোধ করেছি। কিন্তু হঠাৎ এফডিসি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একবারে পুরো টাকা শোধ করতে হবে; নইলে আর ছবি করতে পারব না। এটা কেমন কথা! ছবি করতে না পারলে টাকা শোধ করব কিভাবে? তা ছাড়া যে ছবিগুলোর জন্য আমার বকেয়া পড়ে আছে, সেগুলোর কোনোটিই তো মুক্তি পায়নি। এফডিসিতেই আছে ছবিগুলো। এমন তো নয় আমি টাকা আত্মসাৎ করেছি। অনুরোধ করছি, কঠোর সিদ্ধান্ত বদলে আমাকে ছবি নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হোক। আমি অবশ্যই পাওনা টাকা কিস্তিতে শোধ করে দেব।’

শাহীন সুমন ছাড়া অভিযুক্ত আর কোনো নির্মাতাই এখন ছবি নির্মাণ করেন না। প্রায় সাত বছর ধরে ছবি নির্মাণ থেকে দূরে আছেন আবুল খায়ের বুলবুল। ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম কক্সবাজারে রিসোর্ট করেছেন, সেটি নিয়েই ব্যস্ত। শরিফুদ্দীন খান দীপুও আট বছর হলো ছবি নির্মাণ করছেন না। এনায়েত করিম জীবিত নেই। কাহিনি লেখা ছাড়া এই মুহূর্তে ছবি নির্মাণে ফিরতে চান না কমল সরকার। এ ব্যাপারে ডিপজলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায় তাঁর ফোন। তবে আবুল খায়ের বুলবুল বলেন, ‘আমার কাছে যে ছবিটির জন্য টাকা পাওনা সেই ছবি কখনো মুক্তিই পাবে না। বিষয়টা এমন হয়েছে, খাইলাম না, ছুঁইলাম না, দোষ নিলাম ঘাড়ে।’ এ বিষয়ে পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সঙ্গে প্রযোজক সমিতির নেতারাও ছিলেন। গুলজার বলেন, ‘টাকা না দিয়ে আর কোনো ছবি নির্মাণ করা যাবে না এই সিদ্ধান্ত ভুল। ছবি নির্মাণ যাদের পেশা, তারা ছবি নির্মাণ না করলে টাকা পাবে কোথায়! আমরা এমডিকে প্রস্তাব দিয়েছি অভিযুক্তদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার এবং বকেয়াটা যেন কিস্তি আকারে পরিশোধ করতে পারে সেটার বন্দোবস্ত করতে।’

গুলজারের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন বলেন, ‘এখন বিষয়টি আর আমার হাতে নেই। ১৪ জুলাই বোর্ড মিটিং। তখন আমি প্রস্তাবটি তুলব। যদি পাস করে তাহলে তো ভালো, নইলে মামলা পর্যন্ত গড়াবে বিষয়টা। কিছুই করার থাকবে না।’

ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম

শাহীন সুমন

মন্তব্য