kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

সেনিজ এখন

৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেনিজ এখন

২০০৯ সালের ‘ক্ষুদে গানরাজ’ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রানার আপ। ২০১৬ সালে স্বনামে প্রকাশ করেন প্রথম একক অ্যালবাম। গান নিয়ে এখন ব্যস্ত তানিশা ইসলাম সেনিজকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

মফস্বলের একটি স্টেজ শো করে গাড়িতে উঠবেন সেনিজ, এমন সময় একজন এসে বললেন, ‘আপনার কাছে একটা অনুরোধ, আমার সঙ্গে একটু আমার বাসায় চলেন। আমার মেয়ে আপনার গানের খুব ভক্ত। সে-ও আপনার মতো গাইতে চায়। তার মাথায় হাত বুলিয়ে একটু দোয়া করে দেবেন।’ লোকটার কথা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে যান সেনিজ! বিভিন্ন সময় ভক্তদের নানা রকম অনুরোধ কিংবা আবদার পেয়ে থাকেন। কিন্তু এই ব্যাপারটি যে একেবারেই ভিন্ন! সেনিজ যখন লোকটির বাসায় যান, মেয়েটি তখন ঘুমে। এরপর মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। গায়িকা বলেন, ‘তার কথা শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি। এমন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়িনি। এত অল্প সময়ে মানুষের মনে এভাবে জায়গা করে নিতে পারব কখনো ভাবিনি। এটা আমার জন্য দারুণ একটা অভিজ্ঞতা।’

প্রথমবারের মতো টেলিফিল্মের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সেনিজ। দুটি টেলিফিল্মেরই পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। ‘অনুভবে’ টেলিফিল্মে গাওয়া গানটির শিরোনাম ‘হাসি’ আর ‘হ্যালো ৯১১ লাভ ইমার্জেন্সি’তে গেয়েছেন ‘প্রেমের অবশেষ’। দুটি গানেরই সুর-সংগীত নাভেদ পারভেজের। “প্রথমে ‘হাসি’ গানটির রেকর্ডিং হয়। খুব অল্প সময়ে। টেনশনে ছিলাম কেমন জানি হয়! কিন্তু ফাইনালি শোনার পর নিজের কাছেই অনেক ভালো লেগেছে। সে গানটি শুনেই রাজ ভাই আমাকে পরের গানটি গাইতে দিয়েছেন। দুটি গানের জন্যই শ্রোতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক রেসপন্স পাচ্ছি”—বলছিলেন সেনিজ।

কয়েক দিন আগে আরেকটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সেনিজ। এটির সুর-সংগীত রেজওয়ান শেখের। এখন ভিডিও আকারে গানটি প্রকাশ করতে চান। কিছুদিনের মধ্যে আরো একাধিক গানে কণ্ঠ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ভিডিও আকারে প্রকাশ পায় সেনিজের ‘শর্ত’। সুর-সংগীত ইমন চৌধুরীর। ভিডিও নির্মাতা ভিকি জাহেদ। মজার বিষয় হচ্ছে, গায়িকা নিজেই গানটির ভিডিওতে অভিনয় করেছেন, নেচেছেন।  বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে গানটির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। নিজের গানে নিজেই নেচেছি, এটা নিয়ে বন্ধুরা অনেক মজা করেছে। আমার কাজ গান গাওয়া। সেখানে নায়িকাদের মতো নাচা আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্যই ছিল। কথায় আছে না, চেষ্টা করলে সব সম্ভব।’

২০০৯ সালে ‘ক্ষুদে গানরাজ’ দিয়ে পরিচিতি পান সেনিজ। তবে আলোচনায় আসেন ২০১৬ সালে আরফিন রুমির সুর-সংগীতে স্বনামে প্রকাশিত ‘সেনিজ’ দিয়ে। অ্যালবামের ‘প্রাণ বন্ধুয়া’ গানটি শ্রোতারা গ্রহণ করে। এরপর ইমরানের সুর-সংগীতে তাঁরই সঙ্গে ‘একই পথে চল না রে‘ গেয়েও প্রশংসা কুড়ান। কণ্ঠ দিয়েছেন চলচ্চিত্রের গানেও। অনন্য মামুন পরিচালিত ‘বন্ধন’-এ ‘নেশার লাটিম‘ দিয়ে অভিষেক। সুর ছিল জিয়াউদ্দিন আলমের, সংগীতায়োজনে জে কে মজলিশ। ‘গেম রিটার্নস’-এ গেয়েছেন ‘এক চোখে তুমি’।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? ‘ছোটবেলা থেকে গানটাই আমি সবচেয়ে ভালো পারি। সবে তো শুরু, গানকে আরো আঁকড়ে ধরতে চাই। সিনিয়রদের সঙ্গে যতই কাজ করছি, কিছু না কিছু শিখছি।’

গানের পাশাপাশি সেনিজের পড়াশোনাও চলছে সমান তালে। ইনডিপেনডেন্ট  ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন ফোর্থ সেমিস্টারে। গানে যতই বিখ্যাত হোন না কেন, উচ্চশিক্ষিত হতে চান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা