kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

‘সময় পেলেই সেলাইয়ের কাজ করি’

লোকগানের জনপ্রিয় গায়িকা চন্দনা মজুমদার বের করেছেন রাধারমণের গানের অ্যালবাম ‘প্রাণবন্ধু বিহনে’। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আতিফ আতাউর

৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘সময় পেলেই সেলাইয়ের কাজ করি’

‘প্রাণবন্ধু বিহনে’ নিয়ে বলুন।

আগে লালন সাঁই, শাহ আব্দুল করিম, বিজয় সরকারের গান নিয়ে অ্যালবাম করেছি। ইচ্ছা ছিল রাধারমণের গান নিয়ে কাজ করার। এবার সেই ইচ্ছাটা পূর্ণ হয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। একটু সময় নিয়েই কাজটি করেছি, যাতে কোনো অতৃপ্তি না থাকে। সাজিয়েছি পছন্দের ১০টি গান নিয়ে—‘জলে যাইয়ো না গো রাই’, ‘আমি কৃষ্ণ কোথায় পাই’, ‘শ্যাম তুমি আও না কেনে’, ‘আমার প্রাণ যায় প্রাণবন্ধু বিহনে’, ‘বিপদভঞ্জন মধুসূদন নামটি’, ‘এমন মায়ার কান্দন আর’, ‘শ্যাম দেও আনিয়া বৃন্দে’, ‘যাও রে ভ্রমর উড়িয়া’, ‘আমারে বন্ধুয়ার মনে নাই’ এবং ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া’। যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা করেছেন কলকাতার দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায়।

 

এ পর্যন্ত ৪০টির মতো অ্যালবাম করেছেন। কিন্তু নজরুলের গান নিয়ে একটাও না। শুনেছি নজরুলের গানের তালিমও নিয়েছিলেন।

আমার একক অ্যালবাম ৩২টির মতো। মিক্সড সাত-আটটি। লোকগান করতে করতে এদিকেই বেশি ঝুঁকে পড়েছি। এ কারণে নজরুলের গান নিয়ে অ্যালবাম করা হয়নি। ঘরে নিয়মিত নজরুলচর্চা করি। নজরুলের গানের ওপর কোর্স করেছি, তালিম নিয়েছি। নজরুলের গান শুনলেই আবেগে আপ্লুত হই। ইচ্ছা আছে নজরুলের লোক আঙ্গিকের কিছু গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার।

 

‘মনপুরা’য় গেয়ে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার পর থেকে নিশ্চয়ই চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা বেড়েছিল?

আমাদের এখানে লোক আঙ্গিকের ছবি কম হয়। সে কারণে ছবিতে লোকগানও কম গাওয়া হয়। কিন্তু লোকগল্পের ছবির খুব চাহিদা রয়েছে। ‘মনপুরা’ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এই ছবির পর আরো কয়েকটি ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছি।

 

আপনার স্বামী কিরণচন্দ্র রায়ও গানের মানুষ। দুজনের যুগলজীবনের প্রায় ৩০ বছর হতে চলল। কিন্তু একসঙ্গে কোনো অ্যালবাম নেই।

তিনি বাউলগানের শিল্পী। নিজে লেখেন, সুর করেন, আবার নিজেই কণ্ঠ দেন। কেন জানি আমাদের দুজনের একসঙ্গে কোনো অ্যালবাম করা হয়ে ওঠেনি! তবে একসঙ্গে অনেক অনুষ্ঠানে গেয়েছি। দুজন মিলে একটি অ্যালবামের পরিকল্পনা করেছি এবার। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কথা হয়েছে। দেখা যাক।

 

তিনি আপনার গানের সমঝদার?

নিজেরটা নিজে বলা কঠিন। উনি যখন গান করেন আমি মনোযোগ দিয়ে শুনি। আমি যখন গাই তিনি শোনেন। অনেক সময় নিজ থেকে টিপসও বাতলে দেন—এভাবে নয়, ওভাবে করলে আরো ভালো হবে—এ রকম আর কি। তিনিও মাঝেমধ্যে আমাকে পরামর্শ নেন।

 

অনেক সিনিয়র শিল্পীই গানের স্কুল খুলছেন। আপনার তেমন কোনো ইচ্ছা আছে?

শিল্পীরা গানের স্কুল দেন ছেলে-মেয়েদের শেখানোর জন্য। আমি কিন্তু সেই কাজটাই করছি। ছায়ানটে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে গান শেখাচ্ছি। আমার বাবা নির্মলচন্দ্র মজুমদার কুষ্টিয়ায় কুমারখালী সংগীত বিদ্যালয় নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। সরকারি অনুমোদন পেয়েছে। আমারও স্বপ্ন আছে লোকগানের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার।

 

আপনার একমাত্র মেয়ে শতাব্দী রায়ও তো গান করে।

রক্তের সঙ্গে গান মিশে আছে তো। ওকে যদি আমরা না শেখাতেও চাই তবু গাইতে পারবে। ইদানীং টেলিভিশনে গান করছে। যারা ওর গান শুনেছে, বেশ প্রশংসা করেছে। ও নিজের পথ নিজেই বেছে নিক, আমাদের কোনো জোর নেই। তবে আমাদের চাওয়া হচ্ছে, যদি গানই করতে চায় তাহলে আগে শিখতে হবে।

 

অবসরে কী করেন?

বাগান করার খুব আগ্রহ। টবে অনেক গাছ আছে। সেগুলো পরিচর্যা করি। সবার আগে সংসারকে প্রাধান্য দিই। সংসারের কাজের ফাঁকে ভালো ভালো গান শুনি। বই পড়ি। সেলাই করা আমার শখ। সময় পেলে সেলাইয়ের কাজ করি। বাসায় শাশুড়ি আছেন, আমার নিজের বাবা আছেন। তাঁদের দেখভাল করি।

 

রেডিও-টেলিভশনে গান করেন না?

রেডিও-টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিতই গাইছি। কিছদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলাম গান করতে। ১৫ দিন ছিলাম। সামনে লালন সাঁইয়ের গান নিয়ে আরেকটি অ্যালবাম করব।

মন্তব্য