kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

সিরিয়াস তিশা

সিনেমা করবেন বলে টিভি নাটক করতেন কালেভদ্রে। এই রোজার ঈদে চমকেই দিলেন তানজিন তিশা, ১৫টি নাটক প্রচারিত হয়েছে তাঁর! লিখেছেন মাহতাব হোসেন। ছবি তুলেছেন মোহসীন আহমেদ কাওছার

৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরিয়াস তিশা

আলাপের শুরুটাই প্রশ্ন দিয়ে—গত ঈদে প্রচারিত তিনটি নাটকের নাম বলুন, যেগুলোতে অভিনয় করে নিজে তৃপ্তি পেয়েছেন, দর্শকের ভালোবাসাও পেয়েছেন? ‘এক নম্বরে দুটি নাটক রাখব’—উত্তর দেওয়ার আগে বললেন তিশা। ঠিক আছে রাখুন। একটু ভেবে তিশা বললেন, ‘চশমায় লেগে থাকা ভালোবাসা’ ও ‘এই শহরে কেউ নেই’ নাটকের নাম। এ নাটক দুটির বিশেষত্ব কী? ‘অভিনয়’—এক কথায় উত্তর সারতে চাইছিলেন তিশা। পরক্ষণেই বলেন, ‘নাটকের গল্প হৃদয় স্পর্শ করার মতো। অভিনয় করে দেখানোর সুযোগও ছিল। অভিনয় করার সময়ই বুঝতে পেরেছিলাম, দর্শক পছন্দ করবে এগুলো। প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের মন্তব্য পড়ে ভীষণ আপ্লুত হয়েছি, চোখ ভিজে গিয়েছিল।’

দুই ও তিন নম্বর? কথা রাখলেন না তিশা। একে একে বেশ কয়েকটি ঈদের নাটকের নাম বলে গেলেন—‘হোম টিউটর’, ‘বোন’, ‘মানুষ’, ‘ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা’, ‘ভেতর বাহির’। ‘দুই ও তিন নম্বর নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে যাবে আমার জন্য। এবার ঈদে ১৫টি নাটক প্রচারিত হয়েছে আমার, সেখান থেকে সেরা নাটকগুলোর নাম বললাম।’ ১৫টি নাটক! এক ঈদে এত নাটকে আগে কখনো দেখা যায়নি আপনাকে! ‘হ্যাঁ, এবার অনেক কাজ করেছি। আসলে অভিনয় নিয়ে আমি এখন বেশ সিরিয়াস,’ বললেন তিশা।

তার মানে আগে সিরিয়াস ছিলেন না? সরাসরি স্বীকার করে নিলেন, ‘সত্যিই সিরিয়াস ছিলাম না। আগে নানা বিষয় নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। তাই একটি-দুটি নাটক করতাম, বিজ্ঞাপন করতাম। এখন সিরিয়াস হয়েছি। এই ঈদে শুধু মাবরুর রশীদ বান্নাহ ভাইয়েরই ছয়টি নাটকে কাজ করেছি।’

এক পরিচালকেরই এত নাটক! ‘নিশ্চয়ই আমাকে যোগ্য মনে করে এত নাটকে সুযোগ দিয়েছেন। তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, আমি সত্যি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। তবে ছয়টি নাটকের গল্পেই ভিন্নতা ছিল।’

তিশার বিপরীতে ইরফান সাজ্জাদ ও আফরান নিশোকে দেখা গেছে বেশি। তিশা বলেন, ‘ইরফানের সঙ্গে ভালো কেমিস্ট্রি গড়ে উঠেছে, নিশো ভাইয়া, অপূর্ব ভাইয়ার বিপরীতেও আমি সাবলীল। আসলে গল্প ভালো হলে এবং ভালো অভিনয় করলে যেকোনো জুটিই অনন্য হয়ে উঠতে পারে।’

এরই মধ্যে কোরবানির ঈদের নাটকের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বেশ কয়েকটির শুটিং শেষ। চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আরো কয়েকটি নাটকে। তার মানে আসছে ঈদেও তিশা মাতিয়ে রাখবেন টেলিভিশন পর্দা। হাসলেন তিশা, বললেন, ‘আসলে চলচ্চিত্র নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম একসময়, তাই হয়তো নাটক কম করা হতো। কিছুদিন হলো আমার উপলব্ধি হয়েছে, অভিনয়ের জন্য আসলে পর্দা কোনো বিষয় না। ভালো অভিনয় যেকোনো মাধ্যমেই করা যেতে পারে।’

তাই বলে চলচ্চিত্রে তিশাকে দেখা যাবে না? বিস্ময় নিয়ে বললেন, ‘আমি কি বলেছি চলচ্চিত্রে অভিনয় করব না! যদি চিত্রনাট্য ভালো হয়, আর আমাকে যদি যোগ্য মনে করেন নির্মাতারা তাহলে করব। তার মানে এই নয়, চলচ্চিত্রের জন্য অন্য সব বাদ দিয়ে বসে থাকব। এখন আমার কাজ হলো অভিনয়ে মনোযোগী হওয়া। আর হ্যাঁ, ভক্তরা এখন থেকে আমাকে নিয়মিত দেখতে পারবেন, প্রমিজ।’

মন্তব্য