kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

হরেক রকম রিচি

অভিনেত্রী, নাট্যকার ও প্রযোজক-অনেকগুলো পরিচয়। রিচি   

১৯ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হরেক রকম রিচি

সমরেশ মজুমদারের 'সাতকাহন' নিয়ে ধারাবাহিক তৈরি করবেন গোলাম সোহরাব দোদুল। পত্রিকায় এ খবর দেখে মন খানিকটা খারাপই হলো রিচির। ১৫ কি ১৬ বছরে পড়া দারুণ পছন্দের এ উপন্যাসের খুব প্রিয় চরিত্র দীপাবলি। সে চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলে মন্দ হতো না। কিন্তু রিচি তখন সদ্য মা হয়েছেন। আপাতত কাজ করা সম্ভব নয়। কিছুদিনের মধ্যেই ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলেন স্বামীর কাছে। ফিরলেন প্রায় দুই বছর পর। একদিন হঠাৎই চমকে উঠলেন দোদুলের ফোন পেয়ে, 'সাতকাহন'-এর দীপাবলি করতে হবে। 'এখনো শেষ হয়নি!' এমনই ছিল বিস্মিত রিচির উত্তর। এরপর ধারাবাহিকের শেষাংশের দীপাবলি হলেন রিচি। কাকতালীয়ভাবে এ চরিত্র পাওয়া রিচির অভিনয় জীবনেরই অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পরে 'সাতকাহন'-এ অভিনয়ের জন্য সাধারণ দর্শক থেকে সহঅভিনেত্রী সবারই প্রশংসা পেয়েছেন। শুধু এটাই নয়, সাহিত্যের চরিত্রেই যেন তাঁকে পাওয়া যায় বিশেষভাবে। 'আসলে সাহিত্যনির্ভর কাজে অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়। সে সময়ে মানুষ কিভাবে কথা বলত, কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাত এসব পর্দায় ফুটিয়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ। যেটা আমি সব সময়ই উপভোগ করি,' বললেন রিচি। অভিনয়ের এ চ্যালেঞ্জটা নিতেই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি বেছে বেছে কাজ করেন। গড়পড়তা সব নাটকে কাজ না করা, পরিশ্রম আর কাজের প্রতি ভালোবাসা-এটাই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর জনপ্রিয়তার মন্ত্র। এক যুগেরও বেশি ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন এক হাজারেরও বেশি নাটকে। এগুলোর মধ্যে নিজের পছন্দের তালিকাটাও দীর্ঘ। একটানা বলে গেলেন 'নীল নির্জনে', 'বনলতা সেন', 'অন্তরীক্ষ'সহ অনেক নাম। এই মুহূর্তে তাঁর অভিনীত 'মায়ার খেলা' চলছে, 'পাল্টা হাওয়া', 'মিলার বারান্দা' নামের আরো দুই ধারাবাহিক আসছে শিগগিরই। কাজ শেষ করেছেন রওনক হাসানের 'নীলকণ্ঠ পাখির পালক', রায়হান খানের 'উত্তমের পকেটে সুচিত্রা' একক নাটকের। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কাজ করেছেন আবুল হায়াতের 'স্বাধীনতার সূচনা' ও মাহমুদ দিদারের 'অবশিষ্ট বুলেট'-এ।

সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত প্রযোজনাও করছেন। প্রায় বছর দশেক আগে মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের 'কালো বরফ জমাট অন্ধকার' দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রযোজক রিচির যাত্রা। তাঁর প্রযোজনা সংস্থা 'নীলাঞ্জনা'-এর ব্যানারে এরপর নির্মিত হয়েছে বেশ কয়েকটি একক ও ধারাবাহিক। প্রস্তুতি চলছে নতুন ধারাবাহিক 'যখন কখনো' নিয়ে। যেখানে আপাতত নিজে অভিনয় না করলেও রিচিকে দেখা যেতে পারে শেষের দিকে।

টিভি নাটক নির্মাণ নাকি এখন ব্যবসায়িকভাবে ততটা লাভজনক নয়। তবে রিচি কেন নিয়মিত প্রযোজনায়? 'টিভি নাটকের অবস্থা সত্যিই খারাপ, দিনে দিনে আরো খারাপ হচ্ছে। এ অবস্থার জন্য শিল্পী, চ্যানেল থেকে রাষ্ট্র সবাই দায়ী। নাটকে দুরবস্থার জন্য আমরা অনেক মেধাবী নির্মাতাকেও হারিয়েছি। কিন্তু এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখলে অবস্থার উন্নতি হবে না। সবাই মিলে এগিয়ে আসতে হবে,' বললেন রিচি।

নাটকও লিখেছেন রিচি। ২০১১ সালে বাবা দিবসে দেখানো হয় তাঁর লেখা প্রথম নাটক 'আলোয় ভুবন ভরা'। 'ওপারে একা' নামে আরো একটি নাটক লিখলেও পরে নানা ব্যস্ততায় লেখালেখিতে সময় বের করতে পারেননি।

অভিনয়-প্রযোজনার বাইরে বাবা এম এম সোলায়মানের নামে একটা ফাউন্ডেশন আছে রিচির। ভবিষ্যতে এ ফাউন্ডেশন থেকে বেশ কিছু সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা আছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা