kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তারকার ব্লগ

\'সম্মান কখনো পুরনো হয় না\'

অমিতাভ বচ্চন

   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



\'সম্মান কখনো পুরনো হয় না\'

দুপুর থেকে টানা একদল কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে নাচানাচি করলাম, 'ভূতনাথ রিটার্নস' ছবির শুটিংয়ের জন্য। হঠাৎ করেই মনে হলো, কোরিওগ্রাফার, পরিচালক কি ভুলে গেছেন যে আমি বুড়ো মানুষ! এত ধকল কি সহ্য হয়? তবে সত্য কথা হলো, গরমের মধ্যে স্যুট পরে নাচতে হলেও দারুণ মজা পেয়েছি। অনেক বছর থেকেই পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে জয়া হালকা ব্যায়ামের কথা বলে আসছে। এমন নাচানাচি করতে পারলে ব্যায়ামের আর দরকার কী?

আজ আবার বিখ্যাত কেসি কলেজের ৬০ বছরপূর্তির অনুষ্ঠান ছিল। খুবই নামি একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে বিশেষ অতিথি হয়ে উপস্থিত হতেই দেখা হয়ে গেল রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এমন রাজনীতিবিদ এ দেশে খুব কমই আছেন। প্রথম দেখাতেই যে কারো মন জয় করে নিতে পারার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। যদিও এটা তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখা নয়। সেখান থেকে যেতে হয়েছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) ওপরে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের ধারাভাষ্য দেওয়ার জন্য। এত বড় একটা গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের লোকজন এত অমায়িক, ভাবাই যায় না। সেখান থেকে সোজা ভূতনাথের শুটিংয়ে।

দিনের একটা বড় অংশ কেটে যায় শহরের রাজপথে। অনেকের কাছেই বিষয়টি বিরক্তিকর হলেও আমার কাছে একান্ত নিজস্ব। ওই সময় দিনের কাজগুলো নিয়ে ভাবি। শহরের কিছু অংশ যেমন হট্টগোলে ঢাকা, তেমনি কিছু অংশ বেশ শান্ত। বড় বড় গাছের সারি মনে বেশ প্রশান্তি এনে দেয়। বেশ ফুরফুরে হয়ে ওঠে মন।

তবে দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা অবশ্যই কেসি কলেজে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ। এমন সদালাপি, মিশুক ব্যক্তি! তাঁর স্ত্রী আবার আমার ভক্ত। এর আগে যখন দেখা হয়েছিল, নিজ হাতে বোনা একটি সোয়েটার উপহার দিয়েছিলেন। আমার জীবনের অন্যতম সেরা একটি উপহার এবং এখনো সেটি ব্যবহার করি।

দিনটি যেভাবে শুরু হয়েছিল, তার পরিসমাপ্তি ছিল বেশ হতাশাজনকই। যখন আপনি কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার এবং সেটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। কেউ যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে আমারও নিশ্চয়ই কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি যদি আমার সময় ও শ্রমের মর্যাদা না দেন, আমিও দেব না। হয়তো এটা বেশ কঠিন ভাষা হয়ে গেল। কিন্তু কিছু করার নেই। আমার সময় খুব সীমিত। একেবারে ঘড়ির কাঁটা বেঁধে কাজ করতে হয়। এখানে কাজের জন্য সময় যেমন নির্ধারিত, ঠিক তেমনি অন্যান্য কাজ ও পরিবারের জন্যও সময় ঠিক করা। আমিও ঠিক তাদের সঙ্গে কাজ করি, যারা সময়ের সঠিক প্রয়োগ করে। কারণ সময়ের এই সঠিক প্রয়োগ জীবনকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা দেয়, আর তা হলো 'শৃঙ্খলা'। আর এই শৃঙ্খলাই একসময় এনে দেবে সম্মান। আর এই সম্মান এমন এক প্রাপ্তি, যা কখনো পুরনো হয় না।

অনুবাদ : সৈয়দ মাহ্মুদ জামান



সাতদিনের সেরা