kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

গারো নারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে চলচ্চিত্র ‘আবছায়া’

রংবেরং প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গারো নারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে চলচ্চিত্র ‘আবছায়া’

তুষি হাগিদক—তাঁর বয়ানে দেখানো হবে মুক্তিযুদ্ধের অজানা এক গল্প

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গারো নারীদের ১৫ জনের একটি দল যুদ্ধ করেছিল পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই গারো নারী মুক্তিযোদ্ধার জীবনের গল্পে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘আবছায়া’ নির্মাণ করছেন শরিফুল ইসলাম পলাশ। গারোদের ‘আচিক’ ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রটির দৃশ্যায়নের কাজ চলছে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ৪০ মিনিটের চলচ্চিত্রটি দেশে ও দেশের বাইরে মুক্তি দেবেন পরিচালক।

বিজ্ঞাপন

পলাশ জানান, ১১ নম্বর সেক্টরের ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন নিরঞ্জন সিংহ চৌহানের গড়া কমলা ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন একদল গারো নারী। তাঁরা সবাই নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা কলমাকান্দার লেঙ্গুরার বাসিন্দা। বালুচরা সেক্রেড হার্ট স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক গ্যাব্রিয়েল রাংসার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা রণাঙ্গনে পা বাড়ান। এ দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন মল্লিকা ঘাগ্রা। অন্যদের মধ্যে ছিলেন তুষি হাগিদক, মগ্ধলিনা নেংমিঞ্জ, সঞ্চিতা জরিনা রেমা, পরিচয় চিসিম, সেলিনা হাউই, রিতা নকরেক, জিতা নকরেক, টুরটুরি নকরেক, ছায়া বনোয়ারি, সুজানা জাম্বিল, মুকুল আজিম, রচিতা হাগিদক, বেঞ্জিনা নকরেক ও হাসিনা বনোয়ারিসহ ১৫ জন।

দুঃখের বিষয় হলো, স্বাধীনতার ৫১ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি গারো নারীরা। সেই বীর নারীদের একজন তুষি হাগিদক এখন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তাঁর জবানিতে উঠে আসছে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জানা-অজানা গল্প।

‘আবছায়া’র চিত্রনাট্য লিখেছেন গারো ভাষার কবি মতেন্দ  মানখিন। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও নেত্রকোনার কলমাকান্দার সীমান্তবর্তী এলাকায় চলছে ছবিটির শুটিং। পরিচালক পলাশ বলেন, ‘তিন বছরের বেশি সময় ধরে আমরা কাজটা করছি। স্বাধীনতার এত বছর পর তাঁদের নিয়ে কাজটি করা মোটেও সহজসাধ্য ছিল না। একদিকে অজানা বীরত্ব-বঞ্চনার গল্প, অন্যদিকে গারো বা আচিক ভাষায় নির্মাণের কারণে চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমরা আশাবাদী। আসন্ন বিজয় দিবসে ছবিটি মুক্তি পাবে। এর মধ্য দিয়ে এই বীর নারী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতির পথটি সুগম হবে। ’

‘আবছায়া’ শরিফুল ইসলাম পলাশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাধর্মী তৃতীয় প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। এর আগে ২০২১ সালে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার রনি হিজড়ার জীবনের গল্পে ‘অগ্নিঝরা দিনের না বলা কথা’ নির্মাণ করেন। রাজবাড়ির তিন সহোদরা মুক্তিযোদ্ধা গীতা, ইরা ও ভক্তি করের গল্পে ‘রণাঙ্গনের তিন কন্যা’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র এ বছরই সম্পন্ন করেছেন।

 



সাতদিনের সেরা