kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

স্মরণ

‘গত মাসেও কথা হয়েছিল আমাদের’

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘গত মাসেও কথা হয়েছিল আমাদের’

রহিম নওয়াজ (১৯৩৮-২০২২)

জহির রায়হানের বন্ধু ও সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন রহিম নওয়াজ। তাঁর একক পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘সুয়োরানী দুয়োরানী’তে অভিনয় করেছিলেন কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। রহিম নওয়াজকে স্মরণ করেছেন গুণী এই অভিনেত্রী

আমার দ্বিতীয় ছবি ‘বেহুলা’ (১৯৬৭) করার সময় থেকে রহিম ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। শুরু থেকেই আমি তাঁকে ভাই ডাকতাম।

বিজ্ঞাপন

পরিচয়ের কিছুদিন পর আবিষ্কার করলাম তিনি জহির রায়হানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু কাম সহকারী। সংগত কারণে আমারও খুব আপন হয়ে গেলেন। জহির রায়হানকে হারানোর পর তিনি আমাকে অনেক সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। শোকাহত পরিবারের পাশে ছিলেন সব সময়। তাঁর মৃত্যুর খবরটা এখনই (গতকাল দুপুর ৪টা) শুনলাম।

রহিম ভাই নেই—এটা মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। গত বছরের কথা, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ জহির রায়হানকে নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেখানে আমাকে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রহিম ভাই। অনুষ্ঠানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে অনেক গল্প করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, শরীরটা আগের মতো চলে না, তবে কোনো রোগ নেই। বুঝেছিলাম বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন তিনি। গত মাসেও টেলিফোনে একবার কথা হয়েছিল আমাদের। তখন কিন্তু শারীরিক কোনো সমস্যার কথা জানাননি তিনি। আজ শুনছি তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন!

জহির রায়হানের বন্ধু ও সহকর্মীদের মধ্যে রহিম ছিলেন অন্য রকম। সব সময় চুপচাপ থাকতেন। কেউ কোনো কিছু যেচে জিজ্ঞেস না করলে তিনি কোনো সমস্যার কথা বলতেন না। চলচ্চিত্রের অনেক অনুষ্ঠানে দেখতাম, তিনি সাধারণ মানুষদের কাতারে বসেছেন, অনুষ্ঠান শেষ করে চলে গেছেন। কেউ বুঝতেও পারেনি তিনি পরিচালক বা নামকরা স্থির চিত্রগ্রাহক।

আমি তাঁর পরিচালনায় দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলাম—‘সুয়োরানী দুয়োরানী’ (১৯৬৮) ও ‘যোগ বিয়োগ’ (১৯৭০)। দুটি ছবিরই প্রযোজক ছিলেন জহির রায়হান। বাস্তব জীবনের মতো শুটিং সেটেও তিনি ছিলেন স্বল্পভাষী। কোনো দৃশ্য মনের মতো না হলে রাগ করতেন না, হেসে হেসে বুঝিয়ে বলতেন। এ কারণে শিল্পীরা তাঁকে পছন্দ করতেন। রহিম ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ ছিল। তাঁর সন্তানরা এখন প্রতিষ্ঠিত। তার পরও অভিভাবক হারানোর একটা কষ্ট তো থাকেই। আমি রহিম ভাইয়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।



সাতদিনের সেরা