kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘কাগজের ফুল’ কি ফুটবে?

রংবেরং প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘কাগজের ফুল’ কি ফুটবে?

শুক্রবার পাঠক সমাবেশে প্রসূন রহমান, ক্যাথরিন মাসুদ ও বেলায়াত হোসেন মামুন

গতকাল ছিল চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরের ১১তম প্রয়াণ দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার ‘তারেক মাসুদ স্মরণ ও চলচ্চিত্রযাত্রা গ্রন্থের পাঠ-পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চলচ্চিত্রকার ক্যাথরিন মাসুদ, প্রাবন্ধিক ও লেখক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রসূন রহমান, চলচ্চিত্র সমালোচক মুনিরা শরমিন। সভাপতিত্ব করেন মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক বেলায়াত হোসেন মামুন।

বিজ্ঞাপন

সঞ্চালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অদ্রি হৃদয়েশ।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট যে চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট দেখে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর, সেই ‘কাগজের ফুল’-এর নির্মাণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীর এক প্রশ্নের জবাবে ক্যাথরিন মাসুদ জানান, সেদিনের দুর্ঘটনায় ক্যাথরিনও আহত হয়েছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ হতে অনেক দিন সময় লেগেছে তাঁর। ক্যাথরিন বলেন, “সেই দুর্ঘটনার পর আমাকে কতটা চাপ নিতে হয়েছে, বাইরে থেকে অনেকে হয়তো সেটা বুঝতে পারবেন না। আমার কোলে তখন এক বছরের বাচ্চা। টিমের সবাই তারেক-মিশুককে হারিয়ে দুঃখের মধ্যে আটকে আছে। এই অবস্থায় ‘কাগজের ফুল’ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ”

দেশভাগের প্রেক্ষাপট, দাঙ্গা ও বঙ্গভঙ্গের ওপর বড় পরিসরে ছবিটি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন তারেক মাসুদ, এটি ছিল তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প। ছবির কাহিনি লিখেছেন তারেক মাসুদ, চিত্রনাট্যে তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে ছিলেন ক্যাথরিন মাসুদ। সরকারি অনুদানও দেওয়া হয়েছিল ছবিটিকে। সহযাত্রীরা যদি আগ্রহী হন হয়তো ছবিটির কাজ এগিয়ে নিতে পারবেন প্রয়াত তারেক মাসুদের শিল্প-সহচর ও সহধর্মিণী ক্যাথরিন।

মিশুক মুনীরকে স্মরণ করে ক্যাথরিন বলেন, “তিনি বেঁচে থাকলেও কাজটি করা সহজ হতো। চলচ্চিত্রের কাজ তো এককভাবে হয় না। একটা টিম লাগে। বছরের পর বছর কাজ করতে করতে টিমটা শক্ত অবস্থানে যায়। আমরা শুরু করেছিলাম ‘আদম সুরত’ দিয়ে। এরপর ৩০ বছরে একটা টিম হয়ে উঠতে পেরেছিলাম। সেই টিমটা এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে ৩০ বছরের স্বপ্নগুলো শেষ হয়ে গেল। টিমের প্রধান দুজনকে হুট করে হারানো অনেক বড় ধাক্কা ছিল। এখনো যাঁরা আমার পাশে আছেন, তাঁদের নিয়ে ‘কাগজের ফুল’ নির্মাণ করার ইচ্ছা আছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন অনেক এগিয়েছে। এই মুহূর্তে ‘কাগজের ফুল’ নির্মাণ করা অসম্ভব হবে না, তবে কাজটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ”

তারেক মাসুদের চলচ্চিত্র ভাবনার সহযাত্রী নির্মাতা প্রসূন রহমান। ‘কাগজের ফুল’ নির্মাণের শুরু থেকেই তিনি আছেন। এই ছবি নির্মাণের সম্ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “ক্যাথরিন নিজেও কিন্তু মারাত্মক আহত হয়েছিলেন, মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। তাঁর একটা চোখে তিনবার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। সেই চোখে পুরোপুরি দেখতে পান না। ক্যাথরিন মাসুদকে যদি আমরা দেশে রেখে দিতে পারতাম, তাঁর কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু পাওয়ার ছিল, আমাদের কাছ থেকে তাঁর পাওয়ার কিছুই নেই। ‘কাগজের ফুল’-এর মতো এত বড় বাজেটের ও বড় পরিসরের ছবি করা কতটা সম্ভব হবে, সেটা বলা মুশকিল। ধরে নিলাম কোনোভাবে আমরা বাজেট পেয়ে গেলাম, তবু কাজটা কঠিন। ”



সাতদিনের সেরা