kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

সব সমিতি এফডিসির বাইরে নিয়ে যেতে হবে

গত বছর নভেম্বরে আমেরিকায় গিয়েছিলেন শাকিব খান। প্রায় সাত মাস পর সামনের সপ্তাহে দেশে ফিরবেন দেশীয় চলচ্চিত্রের এই ‘সুপারস্টার’। দেশে ফেরার আগেই আমেরিকা থেকে মুঠোফোনে অভিনেতা কথা বলেছেন দাউদ হোসাইন রনির সঙ্গে

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সব সমিতি এফডিসির বাইরে নিয়ে যেতে হবে

শাকিব খান ছবি : ফেসবুক থেকে

আমেরিকায় দিন কাটাচ্ছেন কেমন?

নিজের মতো করে। আড্ডা দিচ্ছি, এখানে-সেখানে যাচ্ছি। ভালোই।

 

বিগত ২৩ বছর প্রায় প্রতিদিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শেষের এক যুগ তো আপনার শিডিউল পেতে রীতিমতো দেন-দরবার করতে হতো প্রযোজক-পরিচালকদের। সেই আপনি এখন ভিনদেশে আড্ডা দিয়ে বেড়াচ্ছেন, ভাবতেই কেমন যেন লাগছে!

বন্ধু-বান্ধবদের কেউ না কেউ প্রতিদিন আমার সঙ্গে থাকেই, নইলে তো আমি বাঁচতে পারতাম না! নিজের ফ্ল্যাটে একা থাকলে এত দিনে মরেই যেতাম। তবে হ্যাঁ, করোনার শুরুর দিকে যখন বাসায় একা একা থাকতাম, তখন জীবনটাকে নতুন করে উপলব্ধি করলাম। কত বাজে মানুষের সঙ্গে মিশেছি জীবনে, কতজন এসেছে শুধু ওপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে আমাকে ব্যবহার করার জন্য। অনেক বিখ্যাত ও সফল মানুষের জীবনের গল্প পড়ে জেনেছি, তাঁরা জীবনের কোনো কোনো সময় একা কাটিয়েছেন। জীবনে কিছু সময় একা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই সময়গুলো কাজে লাগে।

 

চলচ্চিত্রের সব খোঁজখবর নিশ্চয়ই রাখেন। শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পর কত কত ঘটনা ঘটে গেল...

সবই জানি। ইন্ডাস্ট্রিটাকে যদি বাঁচিয়ে রাখতে হয়, সরকারকে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। যত ধরনের সমিতি আছে সব এফডিসির বাইরে নিয়ে যেতে হবে। এটা কাজের জায়গা, এখানে কোনো সমিতি, পলিটিকস বা নির্বাচন থাকতে পারবে না। যারা এসব করতে চায় তারা এফডিসির বাইরে গিয়ে করবে। বিটিভিতে কিন্তু এই সিস্টেম। দেখবেন, পকেটের টাকা খরচ করে তখন আর কেউ নেতা হতে চাইবে না। সরকার, নির্দিষ্ট করে বললে তথ্য মন্ত্রণালয় খুব সহজেই বের করতে পারবে, কারা কাজের আর কারা অকাজের লোক।

 

এফডিসিতে তো দলাদলি আছে, সব পক্ষের লোকই বলছেন তাঁরা চলচ্চিত্রের মানুষ। মানুষের মৌলিক চাহিদার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাত যেখানে রয়েছে, সেখানে এফডিসির এই দলাদলির মধ্যে সরকার কেন পড়তে যাবে? ‘পচা শামুকে পা কাটা’র ভয়ও তো থাকে...

ধরেন, আপনি একজন জার্নালিস্ট, হাজার হাজার ইউটিউবারও কিন্তু জার্নালিস্ট। একেকজন ইউটিউবারের চ্যানেলে কোটি ভিউ বা গ্রাহক থাকতে পারে, তাই বলে তাঁরা কিন্তু মূলধারার প্রকৃত সাংবাদিকদের সমান হয়ে গেলেন না। চলচ্চিত্রেও বিষয়টা এমনই। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে যদি সবাই সমান হয়, তাহলে তো হলো না।

 

শুনেছি ৫ জুলাই দেশে ফিরবেন...

কাজ তো হয়ে গেছে, আর এখানে থেকে কী করব। তা ছাড়া ভালোও লাগছে না। ৫-৬ তারিখেই ফিরব।

 

নাগরিকত্ব তো পেলেন। এখন কি আপনাকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর আমেরিকায় গিয়ে থাকতে হবে?

যদি না যেতে চাই সেই ব্যবস্থাও আছে। যেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।

 

এবার কি প্রযোজনায় আঁটঘাট বেঁধেই নামবেন?

হ্যাঁ। আমি সব সময় নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা করি কত বড় জায়গায় পৌঁছানো যায়। ওই ‘ভুয়া সংগঠনের’ (শিল্পী সমিতি) দুবারের সভাপতি তো আমিও ছিলাম। এখন আমার উপলব্ধি হয়েছে এসব করে আসলে চলচ্চিত্রের কোনো লাভ হয় না। শিল্পীরা কাজ করতে চান, তাঁদের কাজ করতে দিতে হবে, ব্যস। নতুন আরো কিছু পরিচালককে কাজের সুযোগ দেব। ছবির সাবজেক্ট বাছাই করব একেবারে নতুন কিছু। টম ক্রুজ, শাহরুখ-আমির-সালমান—সবাই তো প্রডিউসার। একজন স্টার যখন প্রযোজক হন তখন ছবিটা এমনিতেই ভালো হয়, ইন্ডাস্ট্রিও উপকৃত হয়।

 

প্রথমবার প্রযোজক হিসেবে সরকারি অনুদান পেলেন, আপনাকে অভিনন্দন।

ধন্যবাদ। বাণিজ্যিক ধারার ছবিগুলোকে সাধারণত অনুদান দেওয়া হয় না, এবার সেটার ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে। এটাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। সরকার যে টাকাটা দেবে, সেটা দিয়ে আসলে আমার ছবিটা হবে না। ‘মায়া’র বাজেট অনেক বেশি। শুধু ভিএফএক্সেই লাগবে দেড় কোটি টাকা। সব মিলিয়ে চার কোটি ছাড়িয়ে যাবে বাজেট। অনুদানের টাকাটা পাওয়ায় ভালোই হলো।

 

হল মালিকরা ভারতীয় ছবি চালাতে চাইছেন অনেক দিন ধরেই। আগে যাঁরা ভারতীয় ছবি ও যৌথ প্রযোজনার ছবি ঠেকানোর জন্য কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন ভারতীয় ছবি আনার পক্ষে বলছেন। বিষয়টি জানেন নিশ্চয়ই?

জানব না কেন। যৌথ প্রযোজনার ছবি ঠেকানোর নামে তখন আমাকেই ঠেকাতে চেয়েছিলেন কয়েকজন। কারণ, তাঁরা দেখেছেন যৌথ প্রযোজনার ছবি হলে দুই দেশের নির্মাতারা আমাকেই কাস্ট করতেন। এতে অনেকের গায়ে জ্বালা ধরে গিয়েছিল। অথচ মজার বিষয়, তাঁদের একজনের ক্যারিয়ার শুরুই হয়েছে যৌথ প্রযোজনার ছবি দিয়ে, আরেকজনের জীবনের সবচেয়ে বড় ছবিটিই ছিল যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত। তখন যদি যৌথ প্রযোজনা বন্ধ না হতো—‘শিকারি’, ‘নবাব’, ‘ভাইজান এলো রে’র মতো মানসম্মত আরো অনেক ছবি হতো।

  

রোজার ঈদে ‘গলুই’ ও ‘শান’ দেখতে অনেক দিন পর হলে ফিরেছিল দর্শক। কোরবানির ঈদেও আপনার দুটি ছবি মুক্তির দৌড়ে ছিল—‘অন্তরাত্মা’ ও ‘লিডার—আমিই বাংলাদেশ’। হল মালিকরা খুব করে চেয়েছিল অন্তত একটি ছবি আসুক। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুটি ছবিই পিছিয়ে গেল।

ছবি রিলিজ দিলে প্রযোজকরা লাভবানই হতেন। আমাদের প্রযোজকরা আসলে পেশাদার হতে পারেননি। এত দিন আমরা মুখের কথায় কাজ করতাম, অমুক এসে বলেন ‘চলেন ভাই, সিনেমা বানাই। ’ আমিও বলতাম, ‘চলেন। ’ আর এমন হবে না। এখন থেকে ছবি হাতে নেওয়ার সময়ই ছবি মুক্তির ডেট কনফার্ম করে রাখব, সব দেশের তারকারাই এখন এভাবে কাজ করেন।

 

শুনেছি, ‘লিডার—আমিই বাংলাদেশ’-এর দুটি গানের শুটিং বাকি। আপনাকে না পাওয়ায় শুটিং করতে পারেনি, তাই মুক্তি দিতে পারছে না।

ওরা আসলে ছবি মুক্তিই দিতে চায়নি। পরিচালক তপু খানকে জিজ্ঞেস করলেই ক্লিয়ার হবেন। আমি এসে গানের শুটিং করে দিলেও তারা ছবি মুক্তি দিত না। তা ছাড়া গান দুটার শুটিং বাকি এটা সত্য, কিন্তু একটাতে তো আমি নেই। সেটারও তো শুটিং হয়নি।

 

আপনার ছবি দুটি মুক্তি না পাওয়ায় ঈদে শেষ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তির মিছিলে যোগ দিয়েছে...

ভালো তো। এসব ছবির প্রযোজকদের জন্য ভালোই হলো।



সাতদিনের সেরা