kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

জনশূন্য এফডিসি ফ্লোরগুলোতে নেই কোনো শুটিং

রংবেরং প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জনশূন্য এফডিসি ফ্লোরগুলোতে নেই কোনো শুটিং

এফডিসির আগের এই ফটকটি এখন বন্ধ রয়েছে। অনেকের অভিযোগ ফটকটি বন্ধ থাকায় নতুন ফটক দিয়ে বেশ খানিকটা পথ ঘুরে কেউ এফডিসি আসতে চান না

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি দিন অনেক আগেই মলিন হয়ে গেছে। প্রতিবছরই ছবি নির্মাণের সংখ্যা কমছে। বেকার হয়ে যাচ্ছেন বেশির ভাগ শিল্পী ও নির্মাতা। তবে এফডিসি যে এতটা জনশূন্য হয়ে পড়বে তা বোধ হয় এক বছর আগেও কেউ কল্পনা করেনি।

বিজ্ঞাপন

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় এফডিসিতে গিয়ে চোখে পড়ল এক খাঁ খাঁ অবস্থা। মূল ফটক যখন হাতিরঝিল-সোনারগাঁ রাস্তায় ছিল তখন অন্তত গেটে ১০-১৫ জন দর্শনার্থীর ভিড় দেখা যেত। কিন্তু এ বছর গেটটি সরিয়ে কারওয়ান বাজার রেললাইন সংলগ্নে করা হলে চিত্র বদলাতে শুরু করে। গতকাল এফডিসিতে প্রবেশের সময় গেটে একজন দর্শনার্থীও চোখে পড়েনি। মান্না ডিজিটাল ও ডাবিং থিয়েটার পার হয়ে আরো ভেতরে গেলেও দু-তিনজন ফটকরক্ষী ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি। শিল্পী সমিতিতে প্রবেশ করে দেখা যায় একজন কর্মী অফিস কক্ষ সাফসুতরো করছেন। তখন বাজে দুপুর ১টা। একাই বসেছিলেন সমিতির দীর্ঘদিনের অফিস সহকারী জাকির। বললেন, ‘এখন আর আগের মতো লোকসমাগম হয় না। কাজ ছাড়া শিল্পীরাও খুব একটা সমিতিতে আসেন না। কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো বৈঠক থাকলে বা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার থাকলে তখন সবাই আসেন। ’

শিল্পী সমিতি থেকে পরিচালক সমিতিতে গেলে দেখা মিলল হাতে গোনা কয়েকজন নির্মাতার। সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান ছাড়াও ছিলেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, সাঈদুর রহমান সাঈদ, সায়মন তারিক ও রেজা হাসমত। কথা হলো সায়মন তারিকের সঙ্গে। তিনিও জনশূন্য এফডিসি দেখে কিছুটা হতবাক। বললেন, ‘একটা সময় মানুষের ভিড় ঠেলে কোনো শুটিং ফ্লোরে প্রবেশ করতে হতো। আর এখন শুটিংই তো নেই! আমি নিজেই খুব কম আসি এফডিসিতে। এসে কী করব! সহকর্মীদের দেখলে মন খারাপ হয়। কোনো লগ্নিকারক নেই। তার ওপর আবার ছবি বানালে নানা সমস্যা। আমার একটা ছবি তো বিনা কারণে কিছুদিন আগে সেন্সর কর্তৃপক্ষ আটকে দিয়েছে। আমি কোন মুখ নিয়ে আবার প্রযোজককে ছবি নির্মাণ করতে বলি!’

সায়মন তারিকের সঙ্গে কথা শেষ করে ক্যান্টিনে গিয়ে দেখা গেল দুর্দশার আরেক চিত্র। বসার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ক্যান্টিনের সব চেয়ার-টেবিল সরিয়ে রাখা হয়েছে। দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা নেই। দুই বছর ধরে ক্ষতি মেনে নিয়েই ক্যান্টিনটি চালাচ্ছেন নৃত্য পরিচালক এ কে আজাদ। কুশল বিনিময়ের পর জানালেন নানা অসুবিধার কথা, ‘করোনার মধ্যে অনেক লস করেছি। ভেবেছিলাম করোনার পর হয়তো কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। কিন্তু অবস্থা স্বাভাবিক হতে না হতেই মূল ফটক স্থানান্তর করা হলো। এখন কেউ এক-দেড় কিলোমিটার ঘুরে নতুন ফটক দিয়ে এফডিসিতে প্রবেশ করতে চান না। আজ যদি আমি এফডিসির সব লোক গণনা করি, ৫০ জনও পাব না। এফডিসির যাঁরা স্টাফ আছেন তাঁরা নিজেরাই খাবার নিয়ে আসেন বাসা থেকে। চায়ের ব্যবস্থাও অফিসে আছে। তাহলে আমার ক্যান্টিন চলবে কী করে। শুটিং না হলে, এফডিসিতে মানুষ না এলে আমার ব্যবসা তো হবে না। বাধ্য হয়ে সব বন্ধ করে দিয়েছি। ’

ক্যান্টিন থেকে ঘুরে প্রযোজক সমিতিতে গিয়ে আরো করুণ দৃশ্য চোখে পড়ল। ২১ মে চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় সংগঠন প্রযোজক সমিতির নির্বাচন হওয়ার কথা। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী তো দূরে থাক, কোনো সদস্যও ছিলেন না সমিতিতে। দীর্ঘদিন ধরে প্রযোজক সমিতির অফিস সহকারী নান্নু। তিনি বলেন, ‘আমার কর্মজীবনে এমন অবস্থা কখনো দেখিনি। করোনার সময় সব অফিস-আদালত বন্ধ ছিল, এফডিসিও বন্ধ ছিল। তখনকার কথা ভিন্ন। কিন্তু এখন তো করোনার সময়ের চেয়েও এফডিসি ফাঁকা লাগে। জানি না ভবিষ্যৎ কী!’



সাতদিনের সেরা