kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

জামালপুরে ‘গলুই’ প্রদর্শন বন্ধ

পরিচালকের অভিযোগ অস্বীকার করল প্রশাসন

রংবেরং প্রতিবেদক   

১০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিচালকের অভিযোগ অস্বীকার করল প্রশাসন

‘গলুই’ ছবির একটি দৃশ্যে শাকিব খান ও পূজা চেরি

ঈদে মুক্তি পেয়েছে সরকারি অনুদানের ছবি ‘গলুই’। শাকিব খান ও পূজা চেরি জুটির প্রথম ছবিটি দর্শক পছন্দও করেছেন। বিশেষ করে জামালপুরে শুটিং হওয়ায়, সেখানকার দর্শক ছবিটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছিলেন। পরিচালক এস এ হক অলিক ব্যক্তিগত উদ্যোগে জামালপুর শিল্পকলা একাডেমিতে ছবিটি প্রদর্শন করছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ঈদের পর পর পূজা চেরিও সেখানে গিয়েছিলেন দর্শকদের সঙ্গে ছবিটি উপভোগ করার জন্য। যদিও পরিচালক জানান, ‘শিল্পকলা একাডেমিতে বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শিত হবে না’ জানিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেন জেলা প্রশাসক। পরবর্তী সময়ে পরিচালক অন্য একটি অডিটরিয়ামে ছবিটি প্রদর্শন করছিলেন। গতকাল থেকে সেখানেও ছবিটির প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক। বিষয়টি নিয়ে গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আপত্তি তুলেছেন। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব কবিরুল ইসলাম রানা, পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমানসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ছবিটির পরিচালক অলিক বলেন, ‘ছবিটি বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নিয়ে নির্মিত। সরকারি অনুদান পাওয়া ছবি যদি দেশে প্রদর্শন করা না যায়, তাহলে সিনেমার ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে! এমনিতে জামালপুরে কোনো সিনেমা হল নেই। ছবিটির শুটিং জামালপুরে হওয়ায় শুরু থেকেই সেখানকার দর্শক ছবিটি দেখতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের আগ্রহের কারণেই পুলিশের কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিলাম। জেলা প্রশাসক বাধা দিলে পরে শহরের মির্জা আজম অডিটরিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছিল ছবিটি। সেটাও জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই, অথচ হঠাৎ কী এমন হলো যে ছবিটি প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন প্রশাসক! অনেক দর্শক অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁদের আমি কী জবাব দেব?’

উল্লেখ্য, ১৯১৮ সালের একটি আইন দেখিয়ে জেলা প্রশাসক ছবিটি প্রদর্শন স্থগিত করেছেন। আইনে আছে, কোনো বাণিজ্যিক ছবি অডিটরিয়ামে প্রদর্শন করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জামালপুরের প্রশাসক মুর্শেদা জামানের সঙ্গে কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি যোগাযোগ করলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মুকলেছুর রহমান কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ছবিটির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি। স্থানীয় লোকজনের আগ্রহে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিনেমাটি শিল্পকলা একাডেমিতে চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় শেষ হয়ে গেছে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না। ’

তিনি আরো বলেন, ‘পরে যে অডিটরিয়াম ভাড়া নিয়েছিলেন নির্মাতা সেখানে তো নানা অনুষ্ঠান হয়। এতে অন্যান্য অনুষ্ঠান আয়োজনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ কারণেই হয়তো কর্তৃপক্ষ ছবিটি প্রদর্শনে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক বা আমি—আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। ’



সাতদিনের সেরা