kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আমাদের টিভির দর্শক চলে যাচ্ছে

৯ বছর পর ফিরে এসেছে মেগা ধারাবাহিক নাটক ‘গুলশান এভিনিউ’। বুধ থেকে রবিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে বাংলাভিশনে প্রচারিত হচ্ছে এর দ্বিতীয় সিজন। নিমা রহমান পরিচালিত ধারাবাহিকটির অভিনেতা ও নির্বাহী প্রযোজক তারিক আনাম খানের সঙ্গে সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন দাউদ হোসাইন রনি

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমাদের টিভির দর্শক চলে যাচ্ছে

তারিক আনাম খান

ভারতীয় টিভি সিরিয়ালে বুঁদ হয়ে থাকা দর্শকদের দেশীয় টিভি চ্যানেলমুখী করতে আপনারা করেছিলেন ‘গুলশান এভিনিউ’। এক দশক পর দ্বিতীয় সিজন করার প্রয়োজন অনুভব করলেন কেন?

 

দর্শককে দেশীয় চ্যানেলমুখী করার বিষয়টা ছিল ওয়ান অব দ্য পার্টস। আমরা সে সময়ও বাংলাদেশের গল্পই বলতে চেয়েছি। উচ্চবিত্তের মানুষের পারিবারিক সমস্যা, ভাঙন, ক্ষমতা, বিত্ত, গ্ল্যামার—এসব।

বিজ্ঞাপন

ধারাবাহিকটির জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই বাংলাভিশনের চেয়ারম্যান বললেন দ্বিতীয় সিজন করার কথা। নিমা রহমান অবশ্য অন্য একটা পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান বললেন, আপনারা আরেকটা গুলশান এভিনিউ করেন।

 

বাংলাদেশের টিভি সিরিয়াল ও ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের নির্মাণ পদ্ধতি একেবারেই আলাদা। এখানকার অনেক শিল্পীই ভারতীয় সিরিয়ালের নির্মাণ পদ্ধতি পছন্দ করেন না। কোন নির্মাণ পদ্ধতিটা আসলে ভালো? কাজ করতে গিয়ে আপনার কী মনে হয়েছে?

আমরা কিন্তু ওদেরটা ফলো করছি না। ওদের প্রডাকশন স্টাইল একটু ড্রামাটিক, এখানে আমরা আমাদের জীবনের গল্পই বলছি। এখানকার মানুষ যেভাবে কথা বলে, সেভাবেই অভিনয় করছি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমরা অদ্ভুত রকমের ড্রামাটিক কিছু করছি না। তবে এখানেও যেমন পরিবারে নেশাগ্রস্ত ছেলে আছে, বাড়ির বিপদগ্রস্ত ঝিকে বিয়ে দেওয়া, সেই মেয়েটার আবার উত্থানের গল্প আছে। বাংলাদেশের সংগীত নিয়ে কাজ করে এমন কিছু চরিত্র আছে। একটা ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন ধরনের গল্প হবে। পুবাইলে গিয়ে যে ধরনের কমেডি নাটক হয়, সেগুলো নিয়েও কোনো আপত্তি নেই আমার। মধ্যবিত্তের সাধারণ জীবন নিয়েও নাটক হচ্ছে। ‘গুলশান এভিনিউ’ বাংলাদেশের উচ্চবিত্তের গল্প। এখানে সাজগোজ বা পরিপাটি থাকার ব্যাপার আছে, আর হ্যাঁ, এটা একটা পপুলার জনরা। তার মানে এই নয়, কলকাতার প্রডাকশন যেভাবে হয় সেটা আমরা হুবহু ফলো করছি। তা ছাড়া আমাদের সঙ্গে কলকাতার তুলনা করে লাভ নাই, ওদের একেকটা পর্বের খরচ তিন লাখ রুপির বেশি। আমাদের এখানে বাজেট ৯০ হাজার থেকে এক লাখ।

 

জীবনসঙ্গী নিমা রহমানের পরিচালনায় অভিনয় করতে কেমন লাগছে?

নিমা গল্পটা ভালো বোঝে। সব কিছু বেশ সাজানো-গোছানো। এই চর্চাটা তাঁর বহুদিনের। টেকনিক্যাল দিকগুলোতে আমি মাঝেমধ্যে একটু হেল্প করি।  

 

আগের সিজনের চরিত্রগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় সিজনের কোনো যোগসূত্র আছে?

একেবারেই না। সম্পূর্ণ নতুন গল্প। পুরনো শিল্পীদের মধ্যে সম্ভবত আমিই আছি। আমি এমনিতেই ওয়েব আর চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সিরিয়ালে সেভাবে সময় দিতে পারি না। স্বাচ্ছন্দ্যবোধও করি না। বড় ধরনের চরিত্র না করে এখানে একটা নেগেটিভ রোল করছি। নিজের হাউসের বলেই এটুকু করছি।

 

‘টফি স্টার সার্চ’ নামে নতুন একটা রিয়ালিটি শোর বিচারক হচ্ছেন...

ট্যালেন্ট হান্টের বিষয়টা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগে। আগেও লাক্স-চ্যানেল আইয়ের শো করেছি। আমার যেহেতু একটা স্কুলিং আছে, অভিনয় বা পারফরম্যান্সের বিষয়টা আমি জানি, নতুন প্রতিভা যারা আসবে তাদের গাইড করার কাজটা আমি পারব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এখন অনেক প্রতিভাহীনও শোবিজে জায়গা করে নিচ্ছে, আমার মতে এটা ঠিক নয়। অভিনয় এত সহজ বিষয় নয়। শুরুতেই যদি পথ দেখানো যায় নতুনরা ভালো করবে।

ওয়েব, সিনেমা এবং টিভিতে আপনার যে কাজগুলো শিগগিরই আসছে, সেগুলোর মধ্য থেকে কোন কাজগুলো নিয়ে আপনি বেশি এক্সাইটেড?

সম্প্রতি টিভির জন্য করলাম ‘শ্বাপদ’। মুক্তিযুদ্ধের সময় ট্রেনের চালক কিছু লাশ হস্তান্তর করতে রওনা হয়। মাঝে তার মনে প্রতিবাদ তৈরি হয়, সে আহত-নিহত মানুষের স্তূপ থেকে বেঁচে যাওয়াদের খুঁজে বের করে, গোপনে জানাজার ব্যবস্থা করে, দাফনের ব্যবস্থা করে। সব মিলিয়ে মানবিক গল্প। এ ছাড়া ছবি তো অনেক। এর মধ্যে আছে ‘গাঙচিল’, ‘গাঙকুমারি’, ‘পেয়ারার সুবাস’। যে কথাটা বলতে চাই, একটা ইন্ডাস্ট্রিতে যদি একই ধরনের ছবি হয় দর্শক বিরক্ত হবে। কোনো কোনো সময় ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর মতো বিনোদন ছবি হবে, কখনো প্রেমের ছবি আসবে। মানুষের চয়েস থাকবে, শুধু সিনেমাতে নয়, টিভিতেও। কেউ তো আর জোর করে বলবে না ‘গুলশান এভিনিউ’ দেখো। আমাদের টিভির দর্শক চলে যাচ্ছে। বেশির ভাগ টিভি দর্শক এখন ইউটিউবে নানা ধরনের প্রগ্রাম দেখে, তারপর ফেসবুকে সেসব অনুষ্ঠানের লিংক-টিংক দেয়। কথা হলো, টেলিভিশনের দর্শক এত কমবে কেন? আমাদের চেষ্টা করতে হবে দর্শককে ফিরিয়ে আনার।

 

টিভির জন্য যারা কনটেন্ট তৈরি করেন তাঁদের সামনে তো ইউটিউবের শৌখিন নির্মাতাদের দাঁড়ানোরই কথা না...

কথায় কথায় তো আমরা বলি, ইন্ডিয়া এই নিয়ে নিল, সেই নিয়ে নিল, কিন্তু ইন্ডিয়ার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করি না। ওদের ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে লোকজন এসে টিভিটাকে বদলে দিয়েছে। রাজকুমার হিরানি থেকে সঞ্জয়লীলা বানসালি যাঁর কথাই বলুন না কেন, সবাই তাঁদের স্বপ্নের সিনেমা বানানোর চেষ্টা করেছেন। সেখানে বিনোদন থেকে শুরু করে সবই আছে। শিক্ষাটা দরকার। মৌলিক শিক্ষার একটা জায়গা ছিল আমাদের—থিয়েটার। একটা পর্যায়ে সেই চর্চাটা সীমিত হয়ে গেল। নিয়মিত চর্চার ফলে অতীতে একজন শিল্পী বা কলাকুশলী বা লেখক তৈরি হয়েছে। একজন সেলিম আল দীন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, জামিল আহমেদ তৈরির জন্য কিন্তু একটা মুভমেন্ট লাগে। সেটা থিয়েটার করেছিল।

 



সাতদিনের সেরা