kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অনেক গানের সুর ভুলে গেছি

গীতিকার ও কাহিনিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। কিংবদন্তি এই গীতিকার নিজের বেশ কিছু পুরনো গান নতুন করে তৈরি করছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনেক গানের সুর ভুলে গেছি

মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান

কেমন আছেন?

শরীরটা অত ভালো না। গত কোরবানির ঈদের আগের দিন বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলাম। মাথা ফেটে গিয়েছিল। এখন অবশ্য ক্ষত শুকিয়েছে, তার পরও মাথার বিভিন্ন স্থানে মাঝেমধ্যে ব্যথা অনুভব করি।

বিজ্ঞাপন

হাঁটতে গেলেও আগের মতো শক্তি পাই না।

 

বিটিভির জন্য আপনার লেখা বেশ কিছু গান নতুন করে রেকর্ড করতে যাচ্ছেন শুনলাম...

আসলে গানগুলো অনেক দিন ধরে অনাদরে পড়ে আছে। বিটিভি প্রায়ই তাদের ফরম্যাট পরিবর্তন করে। আশির দশকের গানগুলো তারা আধুনিক ফরম্যাটে আনছে না। সেই সময়ে আমার লেখা অনেক ভালো ভালো গান ছিল। যেগুলোর সুরকার ছিলেন সত্য সাহা, খন্দকার নূরুল আলম ও অনুপ ভট্টাচার্য। গেয়েছিল সামিনা চৌধুরীসহ আরো অনেক শিল্পী। গানগুলো এই প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই নতুন করে রেকর্ড করার উদ্যোগ নিয়েছি।

 

গানের সুরেও নাকি পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন। বিশেষ কোনো কারণ আছে কী?

গানগুলোর সুরকারদের কেউ এখন জীবিত নন। আমার কাছে গানগুলো লেখা আছে যত্নসহকারে, কিন্তু অডিও নেই। ফলে অনেক গানের সুর ভুলে গেছি। সে ক্ষেত্রে নতুন করে গানগুলো করতে গেলে অবশ্যই সুরেরও পরিবর্তন হবে, কিছু করার নেই।

 

এ ক্ষেত্রে সুরকারদের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি?

গানগুলোর সুরকাররা বেঁচে থাকলে আমি কখনোই নতুন করে সুর করতাম না। তাঁরাই আমাকে আবার গানগুলো তৈরি করে দিতেন। এখন তাঁরা জীবিত না থাকার কারণে এবং আমি সুর ভুলে যাওয়ার কারণে গানগুলো নতুন করে সুর করতে হচ্ছে।

 

নতুন কোনো গান লিখছেন?

ভেতর থেকে না এলে কখনো গান লিখতে পারি না। গানটা যখন আসে, তখন বসে লিখি। এর মধ্যে অনেক গান লিখে রেখেছি। আমি যাঁদের সঙ্গে গান করতাম তাঁদের বেশির ভাগই জীবিত নেই। শেষ পর্যন্ত ফরিদ আহমেদও চলে গেল। এই সময়ের সুরকারদের সঙ্গে আমার অতটা পরিচয় নেই। ফলে গানগুলো প্রাণ পাচ্ছে না। একমাত্র নকীব খানের সঙ্গে কিছু গান হচ্ছে।

 

আপনি চলচ্চিত্রের সফল কাহিনিকারও। এখন লিখছেন না কেন?

বয়স হয়ে গেছে। অতটা চাপ নিতে পারি না। তা ছাড়া গল্প লিখতে আমার অনেক সময় লাগে। একমাত্র ‘ছুটির ঘণ্টা’ লিখেছিলাম ১০ দিনে। তা ছাড়া বেশির ভাগ গল্প লিখতেই তিন-চার মাস সময় লেগেছে। এখন অনেক নির্মাতাই এই সময় দিতে চান না। তার ওপর আমি আবার পারিশ্রমিকও নিই বেশি। সর্বশেষ ‘খোদার পরে মা’র জন্য নিয়েছিলাম তিন লাখ টাকা। এত টাকাও বা এখন কে দেবে! তবে মালেক আফসারী আমাকে প্রায়ই বলেন, গল্প লেখার কথা। দেখি তাঁর জন্য কিছু লিখতে পারি কি না!

 

এই সময়ের গান নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

এখন তো অনেক গান হচ্ছে। তবে যে গান মনের অজান্তে নির্জনে বসে মানুষ গুনগুন করে না সে গান বেঁচে থাকে না। ড. মনিরুজ্জামানের লেখা ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়’ সেই ষাটের দশকের গান, এখনো মনে হয় নতুন। আমি ‘শুভদা’ ছবির জন্য লিখেছিলাম ‘তুমি এমনই জাল পেতেছো সংসারে’। এ গানটিও এখনো সমান শ্রোতাপ্রিয়। এই সময়ের গীতিকার-সুরকারদের বেঁচে থাকার গান তৈরি করতে হবে। নইলে কিছুদিন হৈ-হুল্লোড়ের মাঝে থেকে সৃষ্টি বিনাশ হয়ে যাবে।



সাতদিনের সেরা