kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নেটফ্লিক্সের সেরা স্কুইড গেমস

রংবেরং ডেস্ক   

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেটফ্লিক্সের সেরা স্কুইড গেমস

‘স্কুইড গেমস’-এর একটি দৃশ্য

১৭ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় কোরিয়ান সারভাইভাল ড্রামা সিরিজ ‘স্কুইড গেমস’। মুক্তির আগে তেমন প্রচারণা ছিল না, কোরিয়ান ভাষার সিরিজটি নিয়ে সারা দুনিয়ার দর্শক যে ব্যাপক কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষায় ছিল সেটাও বলা যাবে না। কিন্তু মুক্তির পর থেকেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। দুনিয়ার সব প্রান্তেই ঝড় তোলে ‘স্কুইড গেমস’, সিরিজের শিল্পীরা রাতারাতি হয়ে ওঠেন তারকা। এবার এক মাস না পেরোতেই ‘স্কুইড গেমস’ হলো নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া সিরিজ। গেল বছর আট কোটি ২০ লাখ ভিউ নিয়ে রেকর্ডটি ছিল ‘ব্রিজারটন’-এর দখলে। মাত্র ২৭ দিনে ১১ কোটি ১০ লাখ দর্শক দেখেছে ‘স্কুইড গেমস’। ৯ পর্বের সিরিজটিতে বেশ কিছু সহিংসতার দৃশ্য রাখঢাক না রেখেই দেখানো হয়েছে। সে কারণে চীনসহ বেশ কিছু দেশে সিরিজটি সেন্সর করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও জনপ্রিয়তার ঢেউ ঠেকানো যায়নি। ৯০টি দেশে নেটফ্লিক্সের শীর্ষ সিরিজ এটি। স্ট্রিমিং সাইটটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান মিনইয়ং কিম বলেন, ‘সিরিজটি আমাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

‘স্কুইড গেমস’-এর গল্প একটি প্রতিযোগিতাকে ঘিরে। যেখানে ৪৫৬ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের সবাই সমাজের প্রান্তিক মানুষ। ঋণের দায়ে জর্জরিত এই মানুষগুলো মোটা অঙ্কের পুরস্কারের লোভে গেমে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় জিতলে পাওয়া যাবে তিন কোটি ৯০ লাখ ডলার। তবে শুনতে যতটা আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে খেলাটা আদতে ততটা সহজ নয়। কারণ খেলায় অনেকগুলো ধাপ রয়েছে, এক পর্বে জিতলেই কেবল পরেরটিতে যাওয়া যাবে। হারলে নিশ্চিতভাবেই মৃত্যু!

এই ধরনের আইডিয়া নিয়ে অনেক শো হয়েছে। কিন্তু ‘স্কুইড গেমস’-এর এই ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণ কী? সমালোচকরা বলছেন, নেটফ্লিক্সের আরেক জনপ্রিয় শো ‘মানি হাইস্ট’-এর মতো এখানেও পুঁজিবাদকে একহাত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাংমিউং ইউনিভার্সিটির বিশ্ব সংস্কৃতি বিষয়ের অধ্যাপক কিম পিয়ং-গ্যাং বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম যারা আসলে জীবনের প্রতি পদে পদে নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়, তারা চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছে। দর্শকরা ভাবছে সিরিজের পাত্র-পাত্রীরা তাদের মনের কথাই বলছে।’

দর্শক-সমালোচকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হলেও সিরিজ পর্দায় নিয়ে আসা সহজ ছিল না নির্মাতা হোয়াং ডং-হিউকের জন্য। ‘স্কুইড গেমস’-এর গল্প ১০ বছর আগেই ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু গল্প পছন্দ না হওয়ায় বহু প্রযোজক ও অভিনেতা-অভিনেত্রীর কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন! সিরিজ না বানাতে পেরে ‘স্কুইড গেমস’-এর পাত্র-পাত্রীদের মতোই পরিচালক বাস্তব জীবনেও ভীষণ অভাব-অনটনে পরেন। শেষমেশ নিজের ল্যাপটপও বিক্রি করতে হয়। ২০১৯ সালে সিরিজটি বানাতে আগ্রহী হয় নেটফ্লিক্স। এরপর বাকিটা ইতিহাস।

এক সিরিজ দিয়েই ‘স্কুইড গেমস’-এর পাত্র-পাত্রীদের জীবন বদলে গেছে। ৬৭ নম্বর খেলোয়াড়ের চরিত্রে অভিনয় করা জু হো-ইয়োনের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সাড়ে চার লাখ থেকে দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। একই অবস্থা উই হা-জুন, লি য়ু-মি, অনুপম ত্রিপাঠীসহ অন্যদের।

 

সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা